সংস্করণ
Bangla

সিসালের দৌলতে স্বনির্ভর রাজনগর

24th Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

পাটের মতো দেখতে কিন্তু পাট নয়। যথেষ্ট মজবুত এবং কাজেও দড়। দড়ি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর হরেক সামগ্রী তৈরি হয় সিসাল দিয়ে। সিসালের এই বানিজ্যিক রূপ পড়তে পেরেছেন বীরভূমের রাজনগরের কয়কশো বাসিন্দা। তাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করছেন দড়ি, ব্যাগ, টুপি, টেবিল ম্যাটের মতো জিনিস। আর এভাবেই স্থানীয়রা স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছেন।


image


পাশেই ঝাড়খণ্ড। কাঁকুড়ে মাটির জন্য চাষবাসের প্রায় করুণ অবস্থা। জমিতে বছরে একবার চাষ করে তাই কিছুই হয় না বাসিন্দাদের। কোনওরকমে দিন গুজরান চললেও, এবার নতুন করে বাঁচার পথ পেয়েছেন রাজনগরের গাংমুড়ি-জয়পুর পঞ্চায়েত এলাকার আমিন দুয়ানি, লালু শেখ, অর্চনা সরকার, মানসী টুডুরা। যার নেপথ্যে সিসাল। আনারস গাছের মতো দেখতে সিসাল তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সেটা কীভাবে। সিসাল পাতা থেকে বের হয় তন্তু। যা অনেকটাই পাটের মতো এবং বেশ শক্ত ও টেঁকসই। আর এই তন্তু দিয়ে যত কারসাজি। ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী তৈরি হচ্ছে সিসালের তন্তু দিয়ে। সিসালের তৈরি সামগ্রী কিন্ত জলে নষ্ট হয় না। প্লাস্টিকের দড়ি আসার আগে জাহাজের নোঙর তৈরির দড়ি বানানো হত এই সিসাল দিয়ে।


image


সিসালের তন্তু দিয়ে নানা রকম কাজের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন গাংমুড়ি-জয়পুর পঞ্চায়েত এলাকার অন্তত ৩০০ বাসিন্দা। যাঁদের অধিকাংশই মহিলা। তবে প্রশিক্ষণ রমরমিয়ে চললেও সিসাল পাতার জোগান নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কারণ রাজনগরের কৃষি খামারে যে পরিমাণ সিসাল পাতা পাওয়া যায় তা কাজের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে এব্যাপারে নানা রকম চেষ্টা চলছে। তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না মানসী, অর্চনারা। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সিসালের কাজ ঠিকমতো শিখে নিলে সংসারের অনোক চিন্তাই কেটে যাবে। বছরের বেশিরভাগ সময়ে যেহেতু চাষের ব্যস্ততা থাকে না তাই কাজটা ভাল করে শিখছেন আমিন, লালুরাও। গাংমুড়ি পঞ্চায়েতের ঘরে বসেই চলছে সিসালকে চেনা-জানার কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার সাধু বলেন, সিসালেচর মাধ্যমে যে স্বনির্ভর হওয়া যায় তা বুঝতে পেরেছন স্থানীয়রা। তাই তাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ রয়েছে। পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ তাদের নানা ভাবে সাহায্য করা হচ্ছে।


image


কাজ শেখা চলছে। তৈর হচ্ছে দড়ি, দোলনা, পাপোষ, ব্যাগের মতো সামগ্রী। কিন্তু বিপণনের কী হবে। সেই ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। শিল্পীদের তৈরি অপরূপ সব সামগ্রী বিক্রির জন্য সরকারি স্টল করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে প্রদর্শনী ও হস্তশিল্প মেলা হয় সেখানে স্থানীয়রা যাচ্ছেন‌। সংসার সামলে নতুন কাজ পেয়ে বেশ খুশি এলাকার মহিলারা। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে কাজ শিখে সেই সামগ্রী টুকটাক বিক্রি হওয়ায় টাকার মুখ দেখছেন তাঁরা। অর্চনা, মানসীদের দেখে এলাকার অন্যান্য মহিলারাও সিসালের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন। শিল্পীরা চাইছেন শুধু মেলা বা প্রদর্শনী নয় তাঁদের শিল্পকর্ম যাতে আরও অনেকের পৌঁছে যায় তার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এভাবেই হয়তো কুলীন কূলে ঢুকে যাবে সিসালের কাজ।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags