সংস্করণ
Bangla

প্রতিবন্ধীদের সাহায্যে হাত বাড়াল মোবাইল কোর্ট

29th Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

আজিজা খাতুনরা তিন বোন। তিন জনই প্রতিবন্ধী। বাবা-মা তিন মেয়েকে উচ্চশিক্ষা দিতে না পারলেও কোনও রকমে মোটামুটি পড়াশোনাটুকু শিখিয়েছেন। আজিজা খাতুন উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর আর পড়তে পারেননি। পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস থেকে জেলার সর্বত্র তদ্বির করেও একটা কাজের ব্যবস্থা কেউ করে দেয়নি। আজিজা খাতুন একা নন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন সময় এভাবেই হেনস্থার শিকার হন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই মোবাইল আদালতের ভাবনা বর্ধমানের গ্রামীণ এলাকায়।

image


প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা সুবিধার কথা সরকারিভাবে ঘোষিত। অথচ সেই সুবিধার কতটুকুনই বা পান তাঁরা? অনেকে রাজ্য প্রতিবন্ধী কার্যালয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধরনাও দিয়েছেন। কেউ সুবিধা আদায় করতে পেরেছেন, কেউ পারেননি। বারবার কলকাতায় এসে খোঁজ নেওয়াও সম্ভব হয় না। প্রতিবন্ধীদের এইসব সমস্যার সমাধান এবং তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কিছু দিন আগে বর্ধমান সায়েন্স অডিটোরিয়ামে বসানো হয় মোবাইল আদালত। বিচারক হিসেবে হাজির ছিলেন রাজ্য প্রতিবন্ধী কমিশনার রুমা ভট্টাচার্য এবং সহ কমিশনার শ্যামসুন্দর বিনায়ক।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবন্ধীরা এসেছিলেন তাদের সমস্যার কথা জানাতে। প্রথমে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে সমস্যা বাছাই করা হয়। একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে বিচারকদের কাছে জমা করা হয়। তালিকা ধরে প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদা আলাদাভাবে সরাসরি অভিযোগ শোনেন রুমাদেবী ও শ্যামসুন্দরবাবু। অনেকেই ব্লক এবং মহকুমা পর্যায়ে সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ যেমন করেছেন, তেমনি জেলা পর্যায়েও সমাধান পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন। বেশিরভাগ প্রতিবন্ধী ভাতা চান। বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে সরাসরি বিচারকরাই বারে বারে অভিযোগকারীর কাছে জানতে চেয়েছেন, সমস্যার কথা কাকে কোথায় এবং কীভাবে জানিয়েছেন। জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক অনির্বাণ চক্রবর্তী স্বীকার করে নেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি। সব পারিনি। নানা সরকারি নিয়মে আটকে গিয়েছে অনেক আবেদন’।

আর মোবাইল আদালত নিমিষেই বহু ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে আজিজা, অর্পিতাদের। প্রতিবন্ধী আজিজার কাছে কমিশনার শ্যামসুন্দর বিনায়ক জানতে চান কলকাতা গিয়ে চাকরি করতে পারবেন কিনা। আজিজা রাজি হওয়ায় বায়োডাটা জমা নেন সঙ্গে সঙ্গে। কলকাতায় চাকরির প্রতিশ্রুতিও মেলে। বর্ধমানের কামনারা গ্রাম থেকে এসেছিলেন বৈশাখী দাস। তাঁর মেয়ে অর্পিতা ৫০শতাংশ প্রতিবন্ধী। স্বামীও কাজ করতে পারেন না। নার্সিংহোমে আয়ার কাজ করে সংসার চলে বৈশাখীদেবীর। নিজের এককাঠা জমিতে ইন্দিরা আবাস যোজনায় একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার আবেদন করেন। কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়। অন্যদিকে ঘরের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এইভাবে একে একে অন্তত ৪০ জনের সমস্যা মেটানো হয়েছে একদিনে।

রাজ্য প্রতিবন্ধী কমিশনারের ইচ্ছেতে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ আরও দেখা যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কমিশনার রুমা ভাট্টাচার্য।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags