সংস্করণ
Bangla

কী উপহার দেবেন প্রতিবন্ধী বন্ধুকে? ধারণা দেবে গিফ্ট এবল্‌ড

tiasa biswas
31st Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
image


আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা কথা বলতে পারেন না, কানে শুনতে পান না, অথবা চোখে দেখতে পান না,কেউ বা চলতে পারেন না। ঠিকই, আমরা ওঁদের প্রতিবন্ধী বলি। কিন্তু কেউ যদি ওদের অসহায়, অনুগ্রহের পাত্র ভেবে রাখেন,তাহলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।

কারণ সঠিক প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধীরাও একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যেতে পারেন। যদিও প্রতিবন্ধীদের অনুভব করা, তাদের অবস্থা বোঝা সহজ নয়। শারীরিকভাবে সক্ষম নয় এমন শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে করতে এইসব ভাবনা নাড়া দিয়ে গিয়েছিল প্রার্থণা কল এবং প্রতীক কলের মনে।

ধরা যাক আপনি আপনার অন্ধ বন্ধুটিকে কিছু উপহার দিতে চান। কী দেবেন? হাতে লেখা গিফট কার্ড? কিন্তু বন্ধু পড়বেন কীভাবে? নাকি আপনি ব্রেইল শিখে নেবেন বন্ধুটিকে কার্ড পাঠাতে গিয়ে? প্রতিবন্ধীদের চাওয়া পাওয়া আমারা যারা স্বাভাবিক তাদের থেকে অনেকটাই আলাদা। 

স্বাভাবিক মানুষের মতো মনের ভাব প্রকাশ করা বা চলাফেরা তাদের জন্য যে খুব একটা সহজ নয় একটি ইভেন্টে কিছু অন্ধ শিশুকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলেন প্রার্থণা এবং প্রতীক। বেশি সময় নেননি। গড়ে ফেললেন গিফট এবেলড ফাউন্ডেশন। 

এই ফাউন্ডেশন মূলত বিভিন্ন কর্মশালা এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে নানা স্তরের মানুষের যোগাযোগ তৈরি করে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের আদান প্রদানের মধ্যে ফাঁকটুকু ভরাটের চেষ্টা করে।

একটিই ব্রেইল প্যাড

একটিই ব্রেইল প্যাড


গিফট এবল্‌ড ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধীদের জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়ে থাকে

  1. প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা উপহার সামগ্রী যার মধ্যে আপনি পেতে পারেন ব্রেইল গ্রিটিং কার্ড, ব্রেইল স্লেট, স্টাইলাস, ছড়ি, নানা গেমস, ড্রইং বোর্ড, ওয়ার্ড ব্লক পাবেন গিফট এবল্‌ড-এর কাছ থেকে।
  2. প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষনীয় ইভেন্ট এবং কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গিফট এবল্‌ড ফাউন্ডেশনের আয়োজিত ইভেন্টগুলিতে সবার জন্য দরজা খোলা। প্রতিবন্ধী ছাড়াও যে কেউ আসতে পারেন। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে মনের ভাবের আদান প্রদান করতে পারেন। কর্মশালাগুলি প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা বাড়ায়, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়।
  3. সাধারণ মানুষের জন্য সচেতনতা এবং অনুভব প্রবণতা তৈরির কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রতিবন্ধীদের অসুবিধে বোঝার পাশাপাশি ব্রেইল শিক্ষা, এবং সাংকেতিক ভাষা শেখানোর মত শিবিরেরও আয়োজন করা হয়।


image


অন্ধদের জন্য তির-ধনুক প্রতিযোগিতার আয়োজনও যে করা যায় সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন প্রতীক-প্রার্থনারা! বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে গিফট এবল্‌ড ফাউন্ডেশন চেসাইয়ার ডিজএবিলিটি ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথভাবে আর্ট এবল্‌ড নামে একটি ইভেন্টের আয়োজন করে। ২০১৪র ৩ডিসেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই ৫ দিনের আর্ট এবল্‌ড ইভেন্টের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীরা ছবি আঁকা, গান, নাচ এবং নানা জিনিসপত্র বানানোর মধ্য দিয়ে নিজেদের মেধা,দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পায়।

আর্ট এবল্‌ড-এর উদ্যোগে নানা ইভেন্টে হয়

  • প্রদর্শনী এবং পণ্য বিক্রি- প্রতিবন্ধীদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র , পেইন্টিং, কানের দুল, প্রতিবন্ধীদের তৈরি হরেকরকম ব্যাগের প্রদর্শনী এবং বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। বিক্রি করে যা আয় সবটাই সংস্থাকে এবং আর্ট এবল্‌ড-এ যাদের নিখরচায় স্টল দেওয়ার অনুমতি মিলেছিল তাদের দিয়ে দেওয়া হয়।
  • কাজে সামিল করা-সংস্থায় কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কর্মীদের কথা ভাবা, তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং কাজে নেওয়ার সময় ইন্টাভিউতে কোন পদ্ধতি অলম্বন করবেন তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যে কোনও সংস্থার আধিকারিকরা অফিসে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে কীভাবে অফিস সাজাবেন যেমন ভাবেন প্রতিবন্ধীদের সুবিধা মতো কম খরচে কীভাবে অফিস সাজানো হবে শিখতেও পারেন। এর ফলে প্রতিবন্ধীদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
  • সহযোগিতা-এই সেশানে চাকরিদাতারা বুঝতে পারবেন কীভাবে একজন প্রতিবন্ধী সুস্থ স্বাভাবিক কর্মীর সমান তালে কাজ করে যেতে পারেন এবং প্রতিবন্ধীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সহায্য করা হয়। প্রতিবন্ধীদের কাজ করার কিছু আলাদা পদ্ধতি থাকে।চাকরি দাতাদের জন্য এই সেশনে কীভাবে প্রতিবন্ধীরা কাজ করেন এবং প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠেন দেখার সুযোগ মেলে।
  • ভিশন ক্লাব-ইভেন্টের শেষ দিনে অন্ধদের জন্য একটা ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়। সেটির নাম দেওয়া হয় ভিশন ক্লাব। ইতিমধ্যে বধিরদের জন্যেও ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করেছে গিফট এবল্‌ড। রমরমিয়ে চলছে সেই ক্লাব যেখানে মূক ও বধিরদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান চলে। স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন প্রতিবন্ধীরা। বোঝার চেষ্টা হয় তারা কী চান। সঙ্গে চলে গল্প বলা, থিয়েটারের রিহার্সাল।

ইভেন্টের সময় প্রতিবন্ধীদের নানা প্রয়োজন এবং ইচ্ছে পূরণের চেষ্টা করেন উদ্যোক্তারা।তৈরি করা হয় ওয়াল অব হোপ। প্রতিবন্ধীদের নানা ইচ্ছেগুলি ডানা মেলে ওই দেওয়ালে। মনের কোণে যত ইচ্ছে সংগ্রহের পর তুলে ধরা হয় সবার জন্য। প্রার্থণা এবং প্রতীক কলের গিফট এবল্‌ড এভাবেই কাজ করে চলেছ। নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় জীবনের কাছে হারতে বসা মানুষগুলোকে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags