সংস্করণ
Bangla

মহিলা উদ্যোগপতি তৈরি করছে Bajaj Allianz

ভারতীয় বীমা ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক উদ্যোগ চোখে পড়ল। বীমা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে পুরুষদেরই বেশি আস্ফালন। কিন্তু Bajaj Allianz General Insurance কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে লিঙ্গ-বৈষম্য দূর করার কাজে। দেশ জুড়ে এই সংস্থা খুলে ফেলেছে তিরিশটি এমন শাখা যেগুলো সম্পূর্ণ ভাবে মহিলারাই চালান।

YS Bengali
15th Jul 2016
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
image


কথা হচ্ছিল Bajaj Allianz General Insurance সংস্থার সিনিয়র প্রেসিডেন্ট অনামিকা রায় রাষ্ট্রায়ারের সঙ্গে। অনামিকা বলছিলেন এই উদ্যোগের আইডিয়াটা ওঁদের সংস্থার এমডি এবং সিইও তপন সিঙ্ঘেলের মাথায় প্রথম এসেছিল। ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল বছর তিনেক আগে। উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। ২০১৪ সালে। কিন্তু এখন চোখে পড়ার মতো কাজ করছে এই মহিলা শাখাগুলি। পাশাপাশি ভাবে এর সুপ্রভাবও পড়তে শুরু করেছে সমাজে। এই ব্রাঞ্চ গুলির মারফত মহিলারা যেমন উদ্যোগের দুনিয়ায় পা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি ফিরে পাচ্ছেন সামাজিক সম্মান, আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ।

অনামিকা, প্র্যাট মেমোরিয়ালের কৃতী ছাত্রী। শিভনিং স্কলার। হাতে গোণা বারোজন কৃতী ছাত্রীর একজন যিনি ২০০৩ সালে শিভনিং স্কলারশিপ পান। বীমা সংস্থায় কাজ করার সূত্রে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে রীতিমত প্রতিযোগিতায় সামিল হয়েছেন তিনি। উতরে গিয়েছেন একের পর এক হার্ডেল। নিজের কাজের জায়গায় সাফল্যের শীর্ষে উঠেছেন। ২৮ বছরের কর্মজীবনে প্রতি পদে টের পেয়েছেন মেয়েদের সমস্যা, মেয়েদের পিছিয়ে পরার আসল কারণগুলো। আর তাই যখন এই প্রকল্প ওরা হাতে নিলেন তখন সেটাকে আরও ব্যবহারিক করে তোলার কাজ শুরু করে দিলেন অনামিকা।

তিনি বলছিলেন, সম্পূর্ণভাবে মহিলা চালিত ব্রাঞ্চগুলিতে ব্যবসাও আসছে দুর্দান্ত। কারণ ওরা চাকরিজীবী মহিলাদের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের পথ খুঁজেছেন। তাতেই সাফল্য এসেছে। পাশাপাশি এজেন্ট হিসেবে যেসব মহিলাকে ওরা কাজের সুযোগ দিচ্ছেন তাদের সমস্যারও সমাধানের চেষ্টা করেছেন। এমন তো অনেকেই থাকেন যারা বিয়ের আগে বা সন্তানের জন্মাবার আগে চাকরি করেন। কিন্তু মাতৃত্বকালীন সময়ে কাজে বিরতি পরে। তারপর আর নতুন করে কাজ পাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। ওঁরা বলছেন ‘কুচ পরোয়া নেহি’ কাজ করার এবং কাজ শেখার ইচ্ছে থাকলে ওদের দরজা খোলা। চাকরি নয়। উদ্যোগপতি তৈরি করার কাজ করেন অনামিকারা। বাজাজ আলিয়াঞ্জ জেনারেল ইন্সিওরেন্সের এজেন্ট হওয়ার জন্যে মহিলাদের কোনও বয়সের বেড়া নেই। কোনও বিনিয়োগ নেই। ফলে শূন্য পুঁজি নিয়েই নিজের ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন মহিলারা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় সংস্থার তরফ থেকে। আর এই ধরণের এজেন্টদের ওঁরা বলেন পার্টনার।

অনামিকা বলছেন এই কাজে সুযোগ অনেক। উন্নতিও চোখে দেখা যায়। পলিসি বিক্রির কাজটা মেয়েরা ভালোই পারেন। কিন্তু কী হয়, ইন্ডিভিজুয়াল পলিসি বিক্রির দিকে মেয়েরা এগিয়ে থাকেন। আর বড় সড় ব্যবসায়িক বীমায় মেয়েদের থেকে ছেলেদের দক্ষতা বেশি। কিন্তু আজকাল পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। মেয়েরা এই ধরণের বীমা বিক্রির কাজেও এগিয়ে আসছেন। সাফল্য পাচ্ছেন। অনামিকার সোজা কথা, হাতের কাজ করে সেটা বেচা আর বীমার পলিসি বিক্রি করা হরেদরে একই ব্যাপার। শুধু নিজেকে তৈরি করার প্রয়োজন পরে। কিন্তু লাভ পলিসি বিক্রিতেই বেশি। কারণ পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় না। মহিলারা এই মোদ্দা কথাটা বুঝতে শুরু করে দিয়েছেন। ফলে বীমা ক্ষেত্রে মহিলাদের আধিপত্য ক্রমেই বাড়ছে।

সবে তিরিশটি সম্পূর্ণ মহিলা চালিত শাখা খুলেছে বাজাজ আলিয়েঞ্জ জেনারেল ইনসিউরেন্স। সংস্থার দাবি সংখ্যাটা বাড়বে হুহু করে। মহিলাদের বিকল্প এবং কার্যকর কর্মসংস্থানের পথ দেখাচ্ছেন অনামিকা রায় রাষ্ট্রায়ারের মতো সমাজে সফল মহিলারা। সেই পথ আরও বেশি করে দেখতে পেলে পরিবর্তনটা টের পাবেন প্রান্তিক সেই সব মহিলা যাদের সামাজিক সম্মান চাই, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চাই। আর তাতেই এগোবে প্রগতির রথের চাকা। প্রতি মুহূর্তে একটি পরিপূর্ণতার দিকে এগোচ্ছে ভারতীয় সমাজ। আরও গঠনমূলক বিশ্বের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছেন এই দেশের মহিলারা।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags