সংস্করণ
Bangla

ই-কমার্সে শিশুদের জামাকাপড় নিয়ে হাজির Unamia

11th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

বাড়িতে ফাঁকা সময় বা অফিসে টি-ব্রেক! মিনিট দশেক সময় পেলেই টুকিটাকি শপিং সেরে নেন আপনি। নানা অফারের দরুণ ব্র্যান্ডেড জামাকাপড়ও পেয়ে যান বেশ সস্তায়। কিন্তু যত ঝামেলা বাড়ির খুদে সদস্যটির পোশাক কিনতে গিয়ে। তার জন্য যেন অনলাইনে কিছুই নেই। আর শুধু অনলাইন কেন, শপিং মলে যে যাবেন, সেখানেও তো চারতলা জুড়ে পসরা সাজিয়ে বসা বহু বিপণীর মধ্যে শিশুদের জন্য হাতে গোনা দু--থেকে তিনটি দোকান। তবে দুঃখের দিন শেষ হল বলে। আপনার মুশকিল আসান করতে এসে গিয়েছে Unamia। এই অনলাইন স্টোর থেকে শুধু জামা কিনতে নয়, প্রয়োজনে আপনার শিশুর জন্য জামা তৈরীর প্রতিটি ধাপ নিজে থেকে তদারকি করতে পারেন আপনি।

গত কয়েক বছরে ভারতে ই-কমার্সের বাজার বেড়ে চলেছে তরতরিয়ে। যদিও খুব আশ্চর্যের বিষয়, অন্য অনেক ধরণের জিনিস এখানে পাওয়া গেলেও অনলাইনে বাচ্চাদের জামাকাপড়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। আর শুধু অনলাইন কেন, অফলাইন অর্থাৎ সাধারণ বাজারেও মোট ব্যবসার মাত্র ২ শতাংশ জুড়ে রয়েছে কিড্সওয়্যার ব্র্যান্ডগুলি। অর্থাৎ শিশুদের জামাকাপড়ের ক্ষেত্রে বাজারে অনেকটাই ফাঁকা জায়গা রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, সঠিকভাবে মার্কেট রিসার্চ করতে পারলে যেকোনও বুদ্ধিমান উদ্যোগপতি এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাইবেন। ঠিক যেমনটা করেছেন জ্যোৎস্না পট্টবিরমণ, দেবাশিস চক্রবর্তী এবং মিহির মোহন।

image


কিড্‌সওয়্যার ব্র্যান্ড 'ইউনেমিয়া'কে সঙ্গে করে যাঁরা নেমে পড়েছেন ই-কমার্সের বাজারে। নিজেদের ব্র্যান্ড লঞ্চ করার আগে বাজারের নাড়িনক্ষত্র ভালো করে বুঝে নিয়েছেন তাঁরা। সংস্থার রিসার্চ বলছে, বাজারে উপলব্ধ শিশুদের জন্য যে ব্র্যন্ডগুলি, তাদের জামাকাপড় অনেকসময়ই অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করতে পারে না। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেছিলেন জ্যোৎস্না পট্টবিরমণ। সেই সঙ্গে তিনি জানতেন, ধীরে ধীরে স্টেটাস সিম্বল হয়ে উঠছে কিড্‌সওয়্যার, এবং সেই কারণেই এধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

Unamia নামটি রাখার পিছনেও বেশ কিছু কারণ ছিল। ইতালিতে mia অর্থাৎ 'আমার' শব্দটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনও সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। Una সেই শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত একটি আর্টিকল। প্রত্যেক শিশুর সঙ্গে তার বাবা,মায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বোঝাতেই এই নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। Unamia তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মতামত নেয়। তা সে নতুন রেঞ্জের জামাকাপড়ই হোক, শিশুদের জামাকাপড়ের ডিজাইন, বা দাম। সবকিছুই অভিভাবকেরা ঠিক করেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এখানে অভিভাবকেরাই তাঁদের মতো করে শিশুদের জামাকাপড়ের বিষয়টি দেখভাল করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের মতো করেই শিশুদের জামাকাপড়ের স্টাইলিং করে Unamia। ইতালীয় নাম এই ব্র্যান্ডকে আরও খানিকটা আন্তর্জাতিক ছোঁয়া দেয়।

image


'যেসব সংস্থা বাজারের গড়পড়তা ধারণা বদলে দেয়, তারা আমাকে বরাবর আকৃষ্ট করে। কর্মজীবনে বিভিন্ন ছোট সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি yahoo, ebay-র মতো সংস্থার শুরুর দিনগুলোতে তাদের সঙ্গেও কাজ করেছি আমি। উদ্যোগপতি হতে গেল যা যা লাগে তার বেশ কয়েকটি গুণ আমার মধ্যে থাকলেও, সত্যিকারের উদ্যোগপতি হয়ে উঠতে কিন্তু আমার সময় লেগেছে। এটা জানতাম যে কোনও শুধুমাত্র কোনও বড় সংস্থায় কাজ করলেই নিজেকে সন্তুষ্ট রাখতে পারব না। তারপর যখন বুঝলাম এধরণের কাজ করলে আমিও সত্যি সত্যিই খানিকটা বদল আনতে পারব, তখন বুঝলাম এটাই করব।' বললেন জ্যোৎস্না পট্টবিরমণ। তাঁর দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা দেবাশিস (দেবু) চক্রবর্তী এবং মিহির মোহনকে এক কথায় অসাধারণ বলে ব্যাখ্যা করেন জ্যোৎস্না (জো) পট্টবিরমণ। দেবাশিস NIFT-র ছাত্র ছিলেন। কেরিয়ারের শুরু থেকেই রিটেল ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার ফলেই তাঁর মধ্যে একটা সংস্থার পুরো সাপ্লাই চেন সামলানো এবং বাজারের নিত্যনতুন ট্রেন্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে IIT থেকে স্নাতক মিহিরের মধ্যে রয়েছে কখনও হার না মানার মানসিকতা। ব্যবসা এবং সরকারি ক্ষেত্রে মিশন ক্রিটিক্যাল সিস্টেম প্রস্তুত করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এই তিন মূর্তির সঙ্গে রয়েছে এমন এক দক্ষ টিম যারা যেকোনও কাজ সাফল্যের সঙ্গে করে দেখানোর ক্ষমতা রাখে।

'আট বছরের সন্তানের মা হিসেবে আমি আমার স্বামী বিদেশে কোথাও গেলেই তাঁর হাতে শিশুদের শর্টস, পাজামা, অন্তর্বাসের লম্বা লিস্ট ধরাতাম। একটা সময় উপলব্ধি করলাম, আমার শিশুর জন্য সবচেয়ে পছন্দের কিছু জামায় মেড ইন ইন্ডিয়া ট্যাগ লাগানো। তখনই বুঝলাম, এদেশে ভালো জামা তৈরী করা সম্ভব কিন্তু সেগুলো দোকানে বিক্রি করার ক্ষেত্রে সমস্যা - যা সমাধান করতে পারলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়,' বললেন জ্যোৎস্না। তাঁর মতে, আমাদের দেশে ক্রেতা সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত দুর্বল। ফলে নতুন ধরণের কোনও শপিং করার ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা সবসময় ইতস্তত বোধ করেন। সেই কারণেই কাস্টমার কনফিডেন্স গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করতে চায় জ্যোৎস্না এবং তাঁর সংস্থা। সাফল্যের সঙ্গে সেই কাজ করতে পারলেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

image


দেরি না করে এবার আপনার সঙ্গে সঙ্গে আপনার শিশুর শপিংও সেরে ফেলুন অনলাইনে। অবশ্যই Unamia-র হাত ধরে। ইওর স্টোরির পাতায় জায়গা করে নিয়েছে এই কিড্‌সওয়্যার ই-স্টোর। আপনার স্টার্ট-আপ-ই বা পিছিয়ে থাকবে কেন?

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags