সংস্করণ
Bangla

সঞ্জয় উবাচ: দশগুণ ব্যবসা বাড়বে ফিনটেকের

10th Nov 2016
Add to
Shares
20
Comments
Share This
Add to
Shares
20
Comments
Share
কালোটাকার মুখে ঝামা ঘষে দিতে রাতারাতি ৫০০ এবং হাজার টাকার নোট বাতিল করে আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন ৫৬ ইঞ্চির হিম্মত। কিন্তু যতই মনে হোক এটা হঠকারী সিদ্ধান্ত, আসলে কিন্তু এর পিছনে দীর্ঘ প্ল্যানিং কাজ করেছে।

প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা। ২০১৪ সালের ২৮ অগাস্ট বাজারে এনেছিলেন। যার মারফত ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে থাকা জনতার একটি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হয়েছে। দেশের একটা বড় অংশকে মৌলিক অর্থনৈতিক বৃত্তের ভিতর আনতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ বাইশ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ফলে ২০১৬-র জুনের হিসেব মত ৩৮ হাজার চারশো কোটি টাকার তহবিল জমা পড়েছে ব্যাঙ্কে।

তারপর এসেছে ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা UPI দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা এই ব্যবস্থা আম আদমিকে আধার নম্বর ব্যবহার করে কিংবা ভারচুয়াল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে যেকোনও বিল চোকাতে পারবেন। এবং এর ফলে প্রত্যেক নাগরিক পেয়েছে একটি নতুন ধরণের স্বাধীনতা এর পাশাপাশি ভারত বিল পেমেন্ট সিস্টেম বা BBPS চালু হয়েছে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এসবের মারফত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ইনকাম ডিসক্লোসার স্কিম এর মারফত কর লুকোনো আম জনতাকে কালো থেকে সাদায় আসার একটা সুযোগও দিয়েছিলেন মোদি। কিন্তু এই স্কিমটা ঠিক ঠাক সাড়া পায়নি। কালো টাকা অন্ধকারেই পড়ে ছিল। এবার তাই ওস্তাদের মার আট নভেম্বর রাত আটটায় মেরেই দিলেন। এমন মসৃণ অথচ সুচতুর মার, যে কালো টাকা আর টাকাই থাকল না। বাজার থেকে ভস্ম হয়ে গেল হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক নোট। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট কুর্নিশ করছেন। ট্রাম্প সাহেবও মোদির ক্যারিশমায় মুগ্ধ। কিন্তু সব থেকে খুশি দেশের ফিনটেক সংস্থাগুলো।

তাদের মুখে আর হাসি ধরে না। একদিকে একদল লোক দিশে হারার মত একের পর এক এটিএম আক্রমণ করতে ছুটেছে কয়েকটা একশ টাকার নোট পকেটে পুরতে তখন ফিনটেক সংস্থার কর্তারা ১২০ কোটির বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্যের স্বপ্নে বিভোর।

image


প্রাইম ভেঞ্চার পার্টনার নামের ফিনটেক সংস্থার ম্যানেজিং পার্টনার সঞ্জয় স্বামীকে ফোন করা হলে খুশি একরকম ছলকে পড়ল। বললেন, এটা তো একদিন না একদিন হওয়ারই ছিল। ওরা ২০ বছরে যে বৃদ্ধির অনুমান করেছিলেন, এখন এই পরিস্থিতিতে তা মাত্র দু থেকে তিন বছরেই পেয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এবং এটা সম্ভব হবে ৫০ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর দৌলতেই।

ফলে দশগুণ লাভের, দশ গুণ বৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন সঞ্জয়। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের শুরু হতে চলেছে সেগুলি টের পাচ্ছেন সঞ্জয় স্বামী। বললেন সেই উপলব্ধির কথা।

ব্যাঙ্কের ভল্টে টাকার পরিমাণ বাড়বে। কারণ টাকা পকেটে রাখার অনীহা তৈরি হবে। অনলাইন পেমেন্ট, অনলাইনে দেনা পাওনা চোকানোর পরিমাণ অনেক বাড়বে। ব্যবসা বাড়বে। আরও স্বচ্ছ হবে ব্যবসা। আরও বেশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের যোগান বাড়বে। ক্রেতার পকেটে ক্রেডিটের জোয়ার আসবে।

ঋণের যে যোগান বাড়বে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে। ফিনটেকের বাজারে। এখন অনলাইনে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ লেনদেন হয়ে থাকে। সেটাই লাফিয়ে লাফিয়ে পনের থেকে কুড়ি শতাংশ হয়ে যাবে। এবং এভাবেই ভারতের অর্থনীতিও মার্কিন অর্থনীতির মত ঋণভিত্তিক হয়ে উঠবে। 

সঞ্জয়ের মতে এটাই সেই ইনফ্লেকশন পয়েন্ট বা পরিবর্তন বিন্দু।
Add to
Shares
20
Comments
Share This
Add to
Shares
20
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags