সংস্করণ
Bangla

রাজস্থানের মেয়েদের স্বনির্ভরতার আর সামাজিক লড়াইয়ের নাম ‘হামারা সাহস’

তমন্না এক গৃহবধূ।তমন্নার ইচ্ছে ডানায় ভর করে গড়ে উঠেছে ‘হামারা সাহস’।রাজস্থানের পিছিয়ে পড়া মহিলাদের সম্মান রক্ষায় স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে সামাজিক লড়াই চালাচ্ছে যোধপুরের একমাত্র মহিলা সমাজসেবী সংস্থাটি।

25th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

‘হামারা সাহস’। বা আমাদের সাহস ।সমাজে মহিলাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ের এর চেয়ে যোগ্য নাম হতেই পারে না।

সম্পূর্ণ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত মহিলাদের জন্য এবং শিশুদের জন্য এই সংস্থা এক বছরের ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে সমাজসেবীদের।


image


তমন্না ভাটি বাড়ির বউ এবং চাকুরিরতা মহিলাদের নিয়ে তৈরি করেছেন এই প্রতিষ্ঠানটি। তমন্না জানিয়েছেন, একজন মহিলা হিসেবে তাঁরা প্রত্যেক মুহূর্তে উপলব্ধি করতে পারেন একজন মহিলার রোজকার সংঘর্ষ, বাধ্যবাধকতাগুলিকে, তাঁদের চ্যালেঞ্জকে। তম্মনা নিজে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং এক সন্তানের মা। এছাড়াও ১০ বছর তিনি একটি এনজিও-তে কাজ করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে থেকে তম্মনা জানিয়েছেন, বিয়ের পর যোধপুরের রতানাদাতে থাকতেন তিনি। সেখানে দেখেছিলেন প্রতিবেশি মহিলারা বাল্যবিবাহের শিকার। স্কুল –কলেজ থেকে জোর করে ছাড়ানোর পর তাদের বাধ্য করা হচ্ছে স্বামীর ঘরে ঝি কামিন এর মতো থাকতে। তমন্না চান, বাইরের দুনিয়া,আনন্দোচ্ছ্বল পৃথিবীর সঙ্গে এদের পরিচয় হোক। আপাতত রাজস্থানের যোধপুরেই কাজ চালাচ্ছেন তমন্না এবং সেখানে বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছেন। মহিলাদের বোঝাতে পেরেছেন তাঁদের দুরবস্থার কথা।

যোধপুরের রতানাদা জায়গাটি দারিদ্রে জর্জরিত। পরিবারের পুরুষরা মদের নেশায় চূড়।নিজেদের জীবন ডুবিয়ে দিয়েছে। নারীরা জানেনই না তাঁদের জীবনের মূল্য কী। সমাজে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। এদের জন্যই কাজ শুরু করেছেন তমন্না। সাফল্যও পেয়েছেন। সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। তমন্না বলেন, অনগ্রসর এই মহিলাদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি মেরি কমের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। মেরি কম যখন পেরেছেন তাঁদের পারা উচিত।

মহিলাদের এই অবস্থার জন্য তমন্না দায়ী করেছেন, তাঁদের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে। ছোটবেলা থেকে এঁরা যা দেখে এসেছেন, তাঁর বাইরে কিছুই ভাবতে পারেন না। কর্মক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যতকে সুদৃঢ় করার কথা তাঁরা ভাবতেও পারেন না। ‘হামারা সাহস’ ঠিক এই কাজটাই করতে শুরু করেছে। এম্ব্রয়ডারি-সহ বেশ কিছু হাতের কাজের কোর্স চালু করেছে। তম্মনা মনে করেন তাঁর ফ্যাশন ডিজাইনিং কোর্স এতদিনে কাজে এল। দারিদ্রের মধ্যে একজন মহিলার স্বনির্ভর হওয়াটা কতখানি দরকার, তা তাঁদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে ‘হামারা সাহস’। সেখানকার মহিলাদের মধ্যে ফিরে আসছে আত্মবিশ্বাস।


image


‘হামারা সাহস’-এর পরবর্তী লক্ষ্য ভ্রূণহত্যা, অস্পৃশ্যতা, অশিক্ষা, পণপ্রথা এবং বাল্যবিবাহ সম্পর্কে মহিলাদের সচেতন করা। তম্মনার মতে, তাঁরও আগে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সকলকে সচেতন করতে হবে। কারণ এই সমস্যাটার জন্যই সমাজে শিক্ষা থেকে শুরু করে সব কিছুতে বৈষম্যের মুখে পড়তে হচ্ছে মহিলাদের। ইতিমধ্যেই শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে ‘হামারা সাহস’। শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে তারাই পারবে সমাজে এই বৈষম্য দূর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

এত বড় কর্মকাণ্ড চালাতে দরকার প্রচুর অর্থের। মাত্র এক বছর বয়স এই সংস্থার এবং ‘হামারা সাহস’ রাজস্থানের একমাত্র এনজিও, যাঁরা মহিলাদের জন্য লড়াই করছে। সরকারি সাহায্য খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ এগিয়ে এসেছেন ‘হামারা সাহস’কে শক্তি যোগাতে। পিছিয়ে পড়া, নিপীড়িত মহিলাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে যে লড়াই লড়তে হোক না কেন, তমন্না লড়বেন।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags