সংস্করণ
Bangla

কাজুবাদামে ‘ভরসা’ পাচ্ছে কাঁথির অর্থনীতি

24th Dec 2015
Add to
Shares
4
Comments
Share This
Add to
Shares
4
Comments
Share

ভূমিক্ষয় আটকাতে এক সময় শুরু হয়েছিল চাষ। এখন সেই গাছের ফলের সুফল পুরোদস্তুর পাচ্ছেন রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলার অসংখ্য মানুষ। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির রুটি-রুজির পথই এখন কাজুবাদাম চাষ ও কাজুর প্রক্রিয়াকরণের ব্যবসা। মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে কাজু আমদানি করা হয়। তারপর বিভিন্ন কারখানায় তা প্রসেসিং হয়ে পাড়ি দেয় উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

image


মাছের ভেড়ি, পানের বরজের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁথি মহকুমার অর্থনীতির ভিতের একটা বড় স্তম্ভ কাজু বাদাম ব্যবসা। কাঁথির তাজপুর, মাজনা, গারুয়া, নামালের মতো জায়গায় সারা বছর কাজের ব্যস্ততা। কেউ চাষ করছে, কেউ আবার প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত। সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যু্ক্ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। মূলত পদিমা, দিঘা, তাজপুর, মাজনা, দানায় কাজু চাষ হয়। এই কাজু চলে যায় স্থানীয় কারখানায়।

কাঁথি মহকুমায় অন্তত ৭০০ কাজু কারখানা আছে। স্থানীয় কাজুর পাশাপাশি আফ্রিকার তানজিনিয়া, ঘানা, নাইজিরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে টন টন কাজু আসে কাঁথিতে। জাহাজে করে আফ্রিকার দেশগুলি থেকে কাজু প্রথমে আসে গোয়ায়। সেখানে থেকে রেলপথে হাওড়া বা খড়গপুর। তারপর ট্রাকে করে কাঁথিতে। কাঁচা কাজু আনার পর তা এক প্রস্থ ঝাড়াই-বাছাই হয়। কোনওটা সল্টেড, কোনওটা রোস্ট হয়। এই কাজ মূলত করেন মহিলারা। অন্ধ্র প্রদেশ থেকেও কাজু আসে এখানে। প্রসেসিং-এর জন্য কাঁথির কাজুর যত সুনাম। প্রক্রিয়াকরণের কাজ শেষ হলে কাঁথির কাজু পৌঁছে যায় কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়। পাশাপাশি মুম্বই, গোয়া, কানপুর, লখনউ, বেনারস, রাজস্থানও পায় মেদিনীপুরের কাঁথির স্বাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা নিজস্ব উদ্যোগে ভিন রাজ্যে বিক্রির ব্যাপারটা দেখেন।

কাঁথিতে বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার কাজুর ব্যবসা হয়। কাঁথির শেখ আনোয়ারের কারখানা তাজপুরে। তাঁর কারখানায় ৭০০ কর্মী কাজ করেন। আনোয়ার সাহেব ব্যবসায় আধুনিকীকরণে নজর দিয়েছেন। করেছেন নিজস্ব ওয়েবসাইট, পাশাপাশি প্যাকেজিং-এ জোর দিয়েছেন। যন্ত্রপাতিও বদলেছেন। কাঁথির আব্দুস সাত্তার বা খোকন দাসেরও খুব নামডাক। এদের কারখানাতেও সারা বছর ব্যস্ততা। জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। এই সময় সবথেকে বেশি চাপ থেকে ব্যবসায়ীদের। এদের কেউ নিজেই কাজু কিনতে চলে যান আফ্রিকায়। কেউ আবার রফতানির জন্য পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে। কাজু ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ‘‘বছরে প্রায় দশ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। কাজুর যা চাহিদা তার জন্য কারখানায় আরও মেশিন বাড়াতে চাই। বাইরে গিয়ে দেখেছি সুস্বাদের জন্য কাঁথির কাজুর নাম অনেকেই করেন।’’ স্থানীয় বাসিন্দা কিরণ মান্না মনে করেন, কাজুর হাত ধরে অনেকটা বদলেছে এলাকার অর্থনীতি। বিশেষত মহিলারা কাজুর নানারকম কাজের সঙ্গে যুক্ত হয় স্বনির্ভর হয়েছেন। কাঁথির মাজনার বাসিন্দা নীলিমা মাঝি দীর্ঘ দিন ধরে কাজু প্রসেসিং-এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, ‘‘সংসার সামলে এই কাজ করে মাসে হাজার দুয়েক টাকা পাই। আমাদের কাছে এটাই অনেক। ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় ন। আমার মতো অনেকেরই কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে।’’

Add to
Shares
4
Comments
Share This
Add to
Shares
4
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags