সংস্করণ
Bangla

পূর্বাঞ্চল এগোচ্ছে, তবুও অনেকটা পথ হাঁটা বাকি

Hindol Goswami
21st Nov 2017
Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share

ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের গ্রামের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিতে ব্যাঙ্ক ঋণের মাত্রা বাড়ানোর সুফল নজরে আসছে, ছবিটা একটু একটু করে বদলাচ্ছে। গ্রামের উন্নয়ন বলতেই একটা সময় হাঁস মুরগি পালন আর খামারের হিসেব নেওয়া হত। এখন গ্রামের মহিলারা যে সব স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি চালাচ্ছেন সেগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করেছে। 

image


সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট বলছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৮ শতাংশ ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে। খুব ধীরে কিন্তু অথচ ক্রমান্বয়ে মহিলা চালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। সচরাচর দক্ষিণভারতের পাঁচটি রাজ্যে এই ধরণের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাঙ্কের ঋণের সুবিধে পেয়ে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশকে সুনিশ্চিত করতে পেরেছে। এবার রিপোর্ট বলছে গত চার বছরে ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণে যে বৃদ্ধি দেখা গেছে সেটার ফলে এই অঞ্চলেও বিকাশের গতি অনুমান করা যাচ্ছে। মূলত ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশনের আওতাভুক্ত দেশের আটত্রিশ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লাইফ লাইনই হল ব্যাঙ্ক ঋণ। খামারে এবং চাষের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা এই সুবিধে পেয়েছেন। সুদের হারে অনেকটাই ভর্তুকি দিয়ে এই ঋণ দিয়ে থাকে কেন্দ্র। ৭ শতাংশ হারে সুদের বিনিময়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এই ঋণ পেয়ে থাকে। দেশের ২৫০ টি জেলায় ঋণে আরও ৩ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই ছাড় পাচ্ছেন কেবলমাত্র সেই সব স্বনির্ভর গোষ্ঠী যারা ঋণের টাকা ঠিক ঠিক সময় চুকিয়ে দিচ্ছে। এবং সব থেকে মজার তথ্য হল এর ২১৬ টি জেলাই দক্ষিণাঞ্চলের নয়। ফলে পরিসংখ্যানে পরিষ্কার উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে ঋণের মাত্রা এভাবেই বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এবং বিহারে এই ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা যে হারে বেড়েছে তাতে চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। ২০১২-১৩ আর্থিক বছরে বিহারে ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। আর পশ্চিমবঙ্গে এই বৃদ্ধির হার ৬৬৩ শতাংশ। ২০১৬-১৭ সালে ৪,৭০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে এই দুটি রাজ্যের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। গ্রামাঞ্চলের পরিকাঠামো এবং বাড়ি ঘর নির্মাণের কাজে বেশ ভালো পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে।

২০১৩-১৪ সাল থেকে দেখা গেছে দক্ষিণভারতের রাজ্য গুলিতে এই ধরণের ঋণ গ্রহণের পরিসংখ্যান ক্রমান্বয়ে কমেছে। যেখানে উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে এই মাত্রা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অর্থনীতিবিদরা এতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন ঠিকই তাদের মতে শুরুটা ভালোই, তবে এখনও অনেকটা পথ পেরতে হবে এই অঞ্চলকে।

Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags