সংস্করণ
Bangla

গানের 'ম্যামোথ' কর্মশালা-কিরণ রায়ের গিটার হল

14th Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

কিরণ রায়, গিটার হলের প্রতিষ্ঠাতা। শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরীখে এই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ থেকে অষ্টম গ্রেড শেষ করেছেন। গিটার হল, ভারতে পেশাদার সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্র ও গিটারের দোকানের সবথেকে বড় নেটওয়ার্ক। মুম্বই, নভি মুম্বই, থানে, পুনে, মহারাষ্ট্র, পোর্ট ব্লেয়ার ও ভূটানে মোট ২০ টি কেন্দ্র রয়েছে এই সংস্থার। বর্তমানে ৭৫ জন শিক্ষক ও সহযোগী কর্মীর কাছে ৬৫০০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে এই সংস্থায়। কিরণের দাবি সারা ভারতে সব থেকে বেশি অ্যাকোয়াস্টিক গিটারের বিক্রেতাও তাঁরা, তাঁদের গিটার কারখানায় তৈরি হয় উন্নতমানের জিএইচ সিরিজের গিটার।

image


গিটার বরাবরের ভালবাসা কিরণের। ছাত্রাবস্থায় নিজের বাড়িতে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময় গিটার শেখাতে শুরু করেন কিরণ। বাবা মায়ের না পসন্দ ছিল কিরণের এই গিটার টিউশন। বরং তাঁরা চেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই কেরিয়ার গড়ুক ছেলে। এরই মধ্যে একটি ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে বাজাতে শুরু করেন কিরণ, আইআইটি পাওয়াইয়ে একটি প্রতিযোগিতায় সারা ভারত থেকে আসা ৪৪ টি ব্যান্ডের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লিড গিটারিস্টের পুরস্কারও জিতে নেন।

ছাত্র সংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ির টিউশনে স্থান সংকুলান মুশকিল হয়ে পড়ছিল ক্রমশই। তখনই ধার নিয়ে ও নিজের যাবতীয় সঞ্চয় ব্যয় করে মুম্বইয়ের উপকন্ঠে চেম্বুরে পেশাদার গিটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেন কিরণ। সালটা ১৯৯৮। প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ মানের শিক্ষা প্রদান, সেই মতোই ট্রেনিং মডিউল ও পাঠ্যক্রম তৈরি করেন কিরণ।

কিরণ জানালেন, প্রথম কেন্দ্রটি শুরু করার পর থেকেই ছাত্র সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, কারণ গিটার হল ভারতের প্রথম পেশাদার সঙ্গীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কিছুদিনের মধ্যেই রাজস্থান, বিহার, গুজরাত ও অন্যান্য রাজ্য থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসতে শুরু করেন গিটার হলে।

প্রথম একদশক কিরণ একাই শিখিয়েছেন তাঁর ছাত্রদের, আর এখন গিটার হলের বেশিরভাগ প্রশিক্ষকই তাঁর নিজের ছাত্র। ২০০৬ সাল থেকে সান্তাক্রুজ, মালাদ, পাওয়াই সহ মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় শাখা খুলতে শুরু করে গিটার হল। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই আবার এক একটি গিটার শো রুমও, নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন সহ কলকাতার কারখানায় তৈরি করা হয় সেই গিটার।

কিরণ বললেন, “আপনি যদি আপনার শিল্পে সৎ হন ও উচ্চমানের জিনিস সরবরাহ করেন, ক্রেতার অভাব হবে না”। গিটারের পাশাপাশি কী বোর্ড, ড্রাম, ভায়োলিন, স্যাক্সোফোন, বাঁশি, তবলা, হারমোনিকা এবং কন্ঠ সঙ্গীতেরও (পশ্চিমী ও ভারতীয় রাগ সঙ্গীত) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গিটার হলে, রয়েছে বাড়িতে গিয়ে শেখানোর ব্যবস্থাও।

কিরণ চান বাবা-মায়েদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে। বাবা-মায়েরা সবসময়ই চান তাঁদের ছেলে মেয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক, সঙ্গীতে কেরিয়ার তৈরি করতে গেলে পরিবারের থেকে বাধা আসে। এই মানসিকতারই পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন কিরণ।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags