সংস্করণ
Bangla

খেতে যেতে মামাগোতো

19th Apr 2017
Add to
Shares
13
Comments
Share This
Add to
Shares
13
Comments
Share

Mamagoto শব্দটা ডিকশনারিতে খুঁজে পাবেন না। কারণ এই শব্দের কোনও অর্থ হয়না। শুধু উচ্চারণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটা জিও লোকেশন। এশিয়া। এটি একটি রেস্তোরাঁর নাম। থুড়ি, রেস্তরাঁ চেন এর নাম। গোটা দেশে ছড়িয়ে আছে অনেক মামাগোতো। দিল্লি, গুরগাঁও, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ এমনকি কলকাতার পার্কস্ট্রিট। সর্বত্র দুর্দান্ত জনপ্রিয় মামাগোতো। খেতে যারা ভালবাসেন তাঁদের অজানা নয়। বিশেষ করে যারা চাইনিজ, জাপানিজ, থাই, মালে আর ইন্দোনেশিয়ার রান্না চেটেপুটে খান তারা মামাগোতোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান। কিন্তু এই সংস্থা এমন দাবি কখনও করেনি যে স্বাদে গন্ধে আপনি অথেন্টিসিটি পাবেন। কিন্তু এশিয়ার খাবারের যে জাদু তা যে আপনি পাবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

image


পার্কস্ট্রিটের মামাগোতো এই তো কয়েক মাস হল শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই মামাগোতোর ফিউশনে মজে গিয়েছে বাঙালি। আঠারো থেকে পঁয়ত্রিশের ভিড় লেগেই থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পরিবেশটাও এক্কেবারে নতুন প্রজন্মের কলকাতার সঙ্গে মানানসই। হালফ্যাশনের সাজ, শহরতলির চাপা চমক, শিল্পের ছোঁয়া সব মিলিয়ে ভেতরটায় যেন উল্লাস করছে এশিয়া। খাবারের স্বাদেও কোনও কম্প্রোমাইস নেই। পাঁচমিশালি কুইজিনের অথেনটিক ফিউশন। শুনতে কি সোনার পাথরবাটি লাগল। সে যাই হোক, টেস্টি খাবার। কারণ মামাগোতোর ইউএসপি এক্সপেরিমেন্ট। সে খাবারই বলুন আর পানীয়। সবসময় চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। তৈরি হচ্ছে নিত্য নতুন খাবার। বাড়ছে মেনু। তাই মামাগোতোর কর্ণধার রাহুল খান্নার সাফ কথা। শুরুর দিন থেকে ওরা সবাইকে এই বলে দিয়েছেন, যে এখানে এমন খাবার আপনি খেতে পারেন যেটা আপনি কোথাও পাবেন না। এশিয়ার ফুটপাথের হাক্কা নুডলস, চিলি চিকেনের পাশাপাশি চায়াংমাই ট্রেন স্টেশন নুডলস, এশিয়ান তাকোসের মতো মামাগোতো স্পেশাল বাউল আপনি চেখে দেখতেই পারেন। মেনুতে বদল আনাটাই ওদের সব থেকে প্রিয়। প্রতি দুমাস অন্তর নতুন পদ তাই থাকছেই। অজুর হসপিটালটির ডিরেক্টর রাহুল খান্না এশিয়ার বিভিন্ন কোণায় কোণায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। রাস্তার খাবার চেখে দেখেছেন। সম্ভ্রান্ত রেস্তোরাঁর দুর্দান্ত শেফেদেরও চেখে দেখেছেন। তাঁর সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই ফসল এই মামাগোতো। বলছিলেন সেই কথা।

এপ্রিল মাসজুড়ে সিক্রেট মেনু পাওয়া যাচ্ছে মামাগোতোয়। মেনুতে থাকছে ৯টি পদ। থাকছে মিষ্টিও তবে বাঙালি সন্দেশ নয় এও পূর্ব এশিয়ার নানান ডেসার্ট। কিছু নতুন, আর কিছু পুরনো। মানে, যখন ওরা শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালের শেষের দিকে তখন পাওয়া যেত ওই পদগুলি। দারুণ স্বাদ, অথচ নানা কারণে মেনু থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। এবার এপ্রিলে রেস্তোরাঁয় এলে সেই পুরনো স্বাদ আবার পাওয়া যাচ্ছে নতুনের সঙ্গে। খাঁটি থাই, ইন্দোনেশিয়ান, জাপানিজ ফুডের সম্ভার সবসময় তৈরি কাস্টামারদের জন্য। খরচের আইডিয়া যদি চান বলে রাখতে পারি, দুজনের জন্য খরচ পড়বে হাজার দেড়েক টাকা।

অন্য রেস্তোরাঁর থেকে মামাগোতো আলাদা কোথায়?

চাইনিজ রেস্তোরাঁর ভিড় কলকাতায়। আস্ত চায়না টাউনে জিভে জল আনা চিনে খাবার পাওয়া যায় অলিতে গলিতে। কিন্তু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলির খানাও দুর্দান্ত। ফঁ সাইগঁ-র প্রেমে মজে আছে গোটা ইউরোপ। জাপানি সুষির জন্যে লাইন পড়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার রেস্তরাঁয়। মার্কিন মুলুক থাইফুডের ভক্ত। কিন্তু কলকাতায় কোথায় যে থাই, জাপানি, ভিয়েতনামি খানা পাওয়া যায় তাই ভালো করে জানা নেই। মামাগোতো সেই ঠিকানা। যেখানে সিঙ্গাপুর, মালে, ইন্দোনেশিয়ার কুইজিনের ফিউশন পাবেন, বাধা গতে চিলি চিকেন, আর চাইনিজ নুডলস নয় পাবেন আরও অনেক কিছু। ইন্দোনেশিয়ান কারি অন রাইস ইন লোটাস লিফ, ভেজ থাই গ্লাস নুডলস স্যালাড, টম খাস কুইজিন, স্টিকি রাইস ইন বানানা লিফের মতো আইটেম চেখে দেখুন। বলছিলেন রাহুল। ধীরে ধীরে মেনুতে ইটালিয়ান খানাও নিয়ে আসার কথা ভাবছেন খান্না সাহেব। তাহলে মামাগোতো কি হবে মাম্মা মিয়ার ফিউশন। সময় বলবে। 

Add to
Shares
13
Comments
Share This
Add to
Shares
13
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags