সংস্করণ
Bangla

উটের রক্তে নিরাময়ের সুলুক খুঁজছেন অধ্যাপক এনা

27th Mar 2017
Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share

সোনার কেল্লায় লালমোহন বাবুর কথা মনে পড়ে সেই যে বলেছিলেন উট কাটা বেঁছে খায় কিনা। প্রশ্নের উত্তরটা পাওয়া যায় নি। কিন্তু উটের রক্তে অনেক রোগের অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। সেই সত্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন বালিগঞ্জ বিজ্ঞান কলেজের এক মহিলা গবেষক। তিনি বলছেন উটের রক্তে আছে জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের হদিশ। সেই তত্বের সন্ধানে প্রাথমিক সাফল্যও পেয়েছেন অধ্যাপক এনা রায়। তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল ফলতে শুরু করেছে। ‘উটের রক্ত থেকে তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক। চিকিৎসা পদ্ধতির নাম অ্যান্টিবায়োটিক রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি। আপাতত ইদুঁরের ওপর প্রয়োগ করে পরীক্ষায় সাফল্য এসেছে। এখন বাকি ক্লিনিক্যাল টেস্ট। সেখানে সাফল্য মানে মানুষের ওপর প্রয়োগযোগ্য হওয়ার ছাড়পত্র মিলবে’, জানান গবেষক এনা রায়। বাজারে আসার সম্ভাব্য সময়সীমা এবছরই। ট্যাবলেট আকারে তো থাকবেই, তার সঙ্গে থাকবে ইনহেলার এবং তরল আকারেও। কারও ক্ষেত্রে অসুখ না সারলে তখন রোগীর শরীর থেকে টিস্যু নিয়ে নতুনভাবে ওষুধও তৈরি করা যাবে।

image


এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির খরচ খুব কম। কারণ সামান্য পরিকাঠামোতেই গোটা প্রক্রিয়া সেরে ফেলা যাবে, বলছিলেন এনা। কিন্তু সব জায়গায় উট পাওয়াও তো সম্ভব নয়। কলকাতায় তো নয়ই। সেক্ষেত্রে উট এবং তার রক্তের যোগান নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাবে। সব প্রশ্ন উড়িয়ে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের গবেষক জানালেন, ‘বিকানেরের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর ক্যামেলের সঙ্গে মউ করা রয়েছে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের। যেসব উটের রক্ত নিয়ে ওযুধ তৈরি হবে সেগুলিকে রিসার্চ সেন্টারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা হয়। সারা দেশে পাঁচ ধরনের উট পাওয়া যায়। শুধুমাত্র বিকানের ও মেওয়ারের উটের রক্ত নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির কাজ চলছে।'

উট, অতএব এবার থেকে নিছকই বহন, পরিবহণের গণ্ডিতে আটকে থাকছে না। বছর খানেক পরে কোনও জটায়ু কোনও ফেলুদা এবং তোপসের সঙ্গে রাজস্থানে গেলে হয়তো প্রশ্ন করবেন, এই উটের রক্তে কি ওষুধ তৈরি করা যায়? উত্তরটা আগে থেকেই বলে রেখেছেন বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের অধ্যাপিকা এনা ম্যাডাম।

Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags