সংস্করণ
Bangla

দূষনমুক্ত রান্নার রিসোর্স এনভারোফিট

‘এনভারোফিট’ এক নতুন উদ্যোগ।স্টোভটি এমনভাবে তৈরি পরিবেশ-দূষণ কমানো, মারণ-রোগের হাত থেকে মুক্তি, বাজারদরের চেয়ে কম,গৃহবধূদের রান্না করেও আরাম

24th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

একদিকে পরিবেশ-দূষণ কমানো, অন্যদিকে মারণ-রোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ‘এনভারোফিট’ এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের বাজারে আনা রান্নার স্টোভ একদিকে যেমন বাজারদরের চেয়ে কম, তেমনই গৃহবধূদের এতে রান্না করেও আরাম।



উনুনে কিংবা স্টোভে রান্না করতে গিয়ে সারা ঘর ধোঁয়ায় ভরে যাওয়া, সেই সঙ্গে হার্ট এবং ফুসফুসে সংক্রমণ--- কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই দৃশ্য ছিল স্বাভাবিক। ‘দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট’-এর তরফে যে তথ্যটি আনা হয়েছে, তা রীতিমতো ভয়ানক। প্রত্যেক মাসে সারা ভারতে ১১৫কেজি কাঠ জ্বালানির জন্য ব্যবহার হয়। এর মধ্যে গোয়ায় ব্যবহার হয় ১৯৭ কিলো এবং কর্ণাটকে ১৯৫ কিলো। এত কাঠকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মকভাবে।


image


‘ইন্দোর এয়ার পলিউশন’ (আইএপি) যে সমীক্ষা চালিয়েছে, তা থেকে জানা যায়, প্রত্যেক বছর রান্নার গ্যাসের থেকে উৎপন্ন বায়ুদূষণে মৃত্যু হয় ৪০ লক্ষ মানুষের। তার মধ্যে ভারতেই মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লক্ষ। এখনও এই দেশে ৬৩ শতাংশ মানুষ কাঠ এবং ঘুঁটে দিয়ে রান্না করে। এর ফলে যে গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে তা এইডস-এর চেয়েও মারাত্মক। ম্যালেরিয়া এবং টিবি’র মতো রোগ একসঙ্গে বাসা বাঁধছে শরীরে। সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মোকাবিলার জন্য নানা ধরনের স্টোভের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু সেগুলি কোনটাই ঠিক মতো পরীক্ষা করে বাজারে আনা হয়নি। শুধু তাই নয়, যাঁরা এই স্টোভগুলি ব্যবহার করেছেন, তাঁদের কাউকেই এগুলো সম্পর্কে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ২০০৭ সালে ‘এনভারোফিট’ যখন বাজারে এল, তখন এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নতুন পথ প্রদর্শন করালো। এমন একটা স্টোভ তাঁরা বাজারে নিয়ে এল, যা সাধারণ মানুষ বাড়ির আর পাঁচটা জিনিসের মতোই কমদামে কিনতে পারে এবং জিনিসটি টেকসই হয়। ‘এনভারোফিট’ তিনটি লক্ষ্য নিয়ে বাজারে নেমেছে, এক, সাধারণ মানুষের সুবিধে, দুই, পরিবেশদূষণ কমানো এবং তিন, কোম্পানির লভ্যাংশ বজায় রাখা। ‘এনভারোফিট’-এর এমডি হরিশ আনচান জানিয়েছেন, স্টোভটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যাতে এই তিনটি সুবিধাই সমানভাবে রক্ষিত হয়। কর্নাটকের শিমোগা জেলায় আপাতত এই স্টোভটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে দেখা গিয়েছে, রান্নার সময় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশর কম। মারণাত্মক গ্যাসের মাত্রা কমে গিয়েছে ৮০ শতাংশ এবং জ্বালানিও বেঁচে যাচ্ছে ৬০ শতাংশ। স্টোভের ‘রকেট চেম্বার’ প্রযুক্তি গ্যাসের নির্গমনের মাত্রা কমিয়েছে। সেই সঙ্গে স্টিল দিয়ে নির্মিত স্টোভ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এখনও পর্যন্তও সাতলক্ষ স্টোভ বিক্রি হয়েছে। নতুন মডেল পিসিএস১ পাঁচ বছরের গ্যারেন্টি দিয়েছে। ‘এনভারোফিট’ ১০০ লিটারের যে স্টোভ বাজারে এনেছে, তাতে ৩০০ জনের রান্না হয়। আনচান চাইছেন, তাঁদের এই সাফল্য দেশের বাকি অংশেও ছড়িয়ে দিতে। তাঁর লক্ষ্য ২০১৮-১৯-এর মধ্যে ১০লক্ষ স্টোভ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags