সংস্করণ
Bangla

টাইফুন থেকে বিদ্যুৎ বানাচ্ছেন জাপানি বিজ্ঞানী

ঝড়ের ঘাড় ধরে বিদ্যুত আদায় করেছে সিমিজুর আবিষ্কার, গোটা জাপান তাজ্জব হয়ে দেখছে এই তরুণ বিজ্ঞানির কামাল।

9th Oct 2016
Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share
image


জাপানের এক বিজ্ঞানির গল্প শোনাব আপনাদের। অনেকেই অনেক রকম আবিস্কার করেন। সব আবিস্কারই মানুষের সভ্যতাকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এই জাপানি বিজ্ঞানির আবিস্কার গোটা জাতিকে দিচ্ছে বিদ্যুৎ তৈরির নতুন ঠিকানা।

ঝড়ের কাছে রেখে গেছেন সেই ঠিকানাটা। না হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান নয়, আক্ষরিক অর্থেই ঝড়ের মধ্যে নিহিত শক্তিকে মানুষের ব্যবহার যোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করার কাজ করছে তাঁর আবিস্কার। জাপানের এই বিজ্ঞানীর নাম আটসুচি সিমিজু। একটি টাইফুনের মধ্যেকার শক্তি থেকে জাপানকে আগামী ৫০ বছর ধরে শক্তি জোগানোর উপযোগী শক্তি দেওয়ার প্রযুক্তি খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

টাইফুনের শক্তি পুনর্নবীকরণ করবার মাধ্যমে ওই শক্তিসম্ভার সৃষ্টি করা হবে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সিমিজু আবিষ্কার করেছেন স্বদেশ সেবায় নিয়োজিত করার মতো ওই প্রযুক্তিটি। এর জেরে সরকারি শক্তি নীতির প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে জাপান একধাপেই ইউরোপের প্রভাব মুক্ত হতে পারবে। ‌ইউরোপীয়ান বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত প্রযুক্তির অনুকরণে যে বায়ু মিলগুলি থেকে জাপান এতদিন পর্যন্ত শক্তি তৈরি করেছে, ওই পদ্ধতি আমূল পাল্টে দিতে পারে নতুন পদ্ধতি।

আবিষ্কারক সিমিজু বলেছেন, টাইফুনের শক্তিকে ধরে রেখে তাঁর আবিষ্কৃত পদ্ধতিতে টাইফুনের শক্তি পুননর্বীকরণ করা খুবই সম্ভব। এর মাধ্যমে জাপান শক্তিক্ষেত্রে পরমুখাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত হবে। মোট চাহিদার ৮৪ শতাংশ শক্তি বর্তমানে জাপান বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে।

সিমিজুর দাবি, তাঁর আবিষ্কৃত পদ্ধতির মাধ্যমে শক্তিক্ষেত্রে জাপান এবার স্বনির্ভর ও স্বাধীন হতে পারবে। এ যেন ঝড়ের ভিতর স্বাধীনতার বার্তা খোঁজার মতো সিমিজুর দুর্দান্ত আবিষ্কার! জাপানি দেশাত্মবোধের পরিচয়ের একটি নতুন শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত!

জাপান জুড়ে ২০১১ সালের ভয়ঙ্কর সুনামি ও ভূমিকম্প মোট ১৯ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এর জেরে সেইসময় নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টেও বিপর্যয় দেখা দেয়। সেইসময় ওই ভয়ের অভিজ্ঞতা ছিল জাপানের রোজনামচা। পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল জাপানে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বিপর্যয়ের দুঃসংবাদ। নিউক্লিয়ার বিপর্যয় কেবল একবারই নয়, এপর্যন্ত তিন-তিনবার জাপানকে ওই ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। তবে জাপান নিউক্লিয়ার শক্তির বিপদ থে নিজেকে ক্রমে সরিয়ে নিতে পারছে।

বায়ুমিলগুলি সবই প্রায় ভাঙাচোরা। সমুদ্রের হাওয়ায় ভাঙাচোরা সার সার বায়ুমিলগুলি জাপানকে শক্তিক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতা জোগাতে পুরোপুরিভাবেই ব্যর্থ। ইউরোপ আর জাপানের ভৌগোলিক প্রকৃতি, আবহাওয়ার প্রকৃতিও ভিন্ন। স্বদেশের আবহাওয়ার উপযোগী শক্তিচর্চাই যে পুনর্নবীকরণ শক্তিক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে তা ফের সিমিজু দেখালেন। বলাবাহুল্য, জাপানকে লাইফ লাইন দেবে সিমিজুর নয়া এই প্রযুক্তি।

ইতিমধ্যে সিমিজু একজন উদ্যোগপতির ভূমিকায় কাজ শুরু করেছেন। সংস্থা গড়েছেন। নাম দিয়েছেন চ্যালেঞ্জারি। সিমিজু ও তাঁর সংস্থার সহযোগী ইঞ্জিনিয়াররা টাইফুনের আসুরিক শক্তির ভিতর আর্শীবাদের মতো খুঁজে পেয়েছেন দৈবী বার্তা! যা কিনা জাপানকে উপকৃত করবে। সুনামি ও টাইফুন বার্ষিক বিপর্যয়ের মতো জাপানে লাগাতার ঘটনা। অন্যভাবে এই বিপর্যয়কে কাজে লাগিয়ে জাপান শক্তিক্ষেত্রে অফুরন্ত শক্তির অধিকারী হতে পারে। সিমিজুর নয়া পদ্ধতি এ দাবিই করছে। ইতিমধ্যে চ্যালেঞ্জার্স-এর উদ্যোগে সিমিজুরা একটি টারবাইন তৈরি করেছেন। তাতে ব্যবহার করা প্রতিরোধক প্রযুক্তিতে সুনামি বা টাইফুনের প্রকোপে টারবাইনটি অক্ষত থাকবে।

অ্যাটলান্টিক ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড মেট্রোলজিক্যাল ল্যাবরেটরির পরিমাপ করা তথ্য অনুসারে, সারা দুনিয়ার মোট বিদ্যুদয়নের জন্যে প্রয়োজনীয় শক্তির অর্ধেকের সমান শক্তি একটি টাইফুন ধারণ করে থাকে। একটি টাইফুনের সেই শক্তিকে পুনর্নবীকরণ করে ফেলে অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব।

Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags