সংস্করণ
Bangla

গুগলে ডাক পেয়েছেন 'একলব্য' নীতেশ

Hindol Goswami
7th Apr 2017
Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share

বয়স মাত্র ১৫। রাজস্থানের গণ্ডগ্রামের এক স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্র এখন দেশের বিস্ময়। ১৪টির বেশি অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করে সারা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে আলোয়ারের কিশোর নীতেশ যাদব। কীভাবে? চলুন শোনা যাক বিস্ময় বালকের অভাবনীয় সাফল্যের সেই কাহিনী।

image


রাজস্থানের আলোয়ারের ছোট্টো গ্রাম কানহারকার। চাষাবাদ ছাড়া অর্থনীতির অন্য কোনও পন্থাই নেই। নীতেশ যাদব সেখানে থাকেন। ১৫ বছর বয়েসেই বিবরানির দ্রোণাচার্য সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বাবা কৃষক, মা গৃহবধূ। বাবার কাছে একদিন এনড্রয়েড অ্যাপ কী জানতে চায়। কৃষক বাবার সেই জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল।

‘প্রথম প্রথম অ্যানড্রয়েড অ্যাপ নিয়ে কোনও ধারণাই ছিল না। খায় না মাথায় দেয় কিছুই জানতাম না। গ্রামের একজনের কাছে স্মার্টফোন দেখি। যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। তখন অ্যানড্রয়েড ডেভলপারের কথা প্রথম শুনি। তখন থেকে অ্যানড্রয়েড অ্যাপ কী? কীভাবে কাজ করে? জানার জন্য উঠেপড়ে লাগি’, এক নিশ্বাসে বলে যায় নীতেশ। ফোনে অ্যাপ বানানোর জন্য বাবার কাছে স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার বায়না করে। বাবা কখনও নিরাশ করেননি ছেলেকে, সবসময় উৎসাহ যুগিয়েছেন পাশে থেকে। একটা ছোট স্মার্টফোন এনে দেন। গাঁয়ের ছেলের পক্ষে অ্যানরয়েড অ্যাপের কোডিং শেখা বেশ কঠিন ব্যাপার ছিল।কিন্তু ছেলেকে সবসময় উৎসাহ যুগিয়ে গিয়েছেন বাবা মা দুজনেই। যখনই নীতেশ ভালো, নতুনত্ব কিছু করতে গিয়েছে, মা প্রশংসা করেছেন। ছোট ভাই দশম শ্রেণিতে পড়ে। সেও দাদার চেয়ে কম যায় না। এক্কেবারে ইউটিউবের পোকা। পাতি গ্রামের ছেলে কীভাবে ওয়েব ডিজাইনার হয়ে উঠল সেই গল্পই শোনাচ্ছিলেন বছর পনেরোর এই কিশোর। গরিব বাবর পক্ষে ছেলেকে কোনও কোডিং শেখার সেন্টারে পাঠাবেন তেমন সামর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত সহায় গুগুল। ‘গুগুল গুরুদেবের কাছে ধীরে ধীরে কোডিংগুলি শিখে ফেলি’, হেসে বলেন নীতেশ। 

ক্লায়েন্টের জন্য ইতিমধ্যে ১৪টির বেশি অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করেছে সে। অ্যাপসগুলি হলঃ

১. GPS Chat – ভারতীয় এই ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপের থেকে ১০০ গুন বেশি কার্যকর। ২১,০০০ মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন।

২. Kisan Guru -এমন একটি অ্যাপ যার মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে দেওয়া যায়। এই অ্যাপের সাহায্যে কৃষকরা যেকোনও শস্য ফলানোর উপায় এবং মান্ডিতে বিভিন্ন সবজির দাম ছাড়াও নানা ধরনের ফিচার পান। ৩০,০০০ মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

৩. Mera Kanharka-এই অ্যাপটি নীতেশের গ্রামের মানুষের জন্য। গ্রামবাসীদের ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া তার কাজ। ডিজিটাল আকারে গ্রামের সব তথ্য মিলবে এই অ্যাপের মাধ্যমে।

Techsicon নামে আমি নিজের সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট সংস্থা খুলেছে রাজস্থানের বিস্ময় বালক। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনও ব্যবসার ব্র্যান্ড তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি দিতে পারে এই সংস্থা।

পাশাপাশি নীতেশের একটি এনজিও আছে। এই এনজিও মাধ্যমে ভারতীয় পড়ুয়াদের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং রোবটিকস নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ‘কারণ আমি চাই প্রত্যেক ভারতীয় পড়ুয়া এনড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করুক এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিক। যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল,আমি চাই না তাদেরও সেই অবস্থা হোক। ওয়েব ডিজাইনিং এবং রোবটিকস প্রোটোটাইপ শেখাতে নিয়মিত স্কাইপে ক্লাস নিয়ে থাকি’, কথা বলতে বলতে ঝিলিক দিয়ে যায় নীতেশের চোখ।

গুগল অ্যাসোসিয়েশনও নীতেশ কে নিয়ে দারুণ আপ্লুত। ওকে নিজেদের অতিথি করে নিয়ে গিয়েছে গুগলের গুরুগ্রামের ভারতীয় কার্যালয়ে। সেখানে রীতিমত সম্বর্ধিত করা হয়েছে দেওয়া হয়েছে অনেক উপহার। খোদ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান কার্যালয়েও ঘুরে আসার নেমন্তন্ন আছে ১৫ বছরের এই কিশোরের। 

Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags