সংস্করণ
Bangla

মজাদার নীতিকথা

1st Sep 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

কমেডি নাইট উইথ কপিল এখন খুবই জনপ্রিয়। স্ট্যান্ড আপ কমেডির কথা বলতেই ভেসে ওঠে হয় কপিল নয় রাজু শ্রীবাস্তব কিংবা জনি লিভারের মুখ। সকলেই পুরুষ। নীতি পাল্টা বিশ্বাস করেন মেয়েরা কোনও অংশে কম নন। তাই হাসতে হাসতে বদলে দিলেন ছবিটা।

নীতি পাল্টা

নীতি পাল্টা


বিজ্ঞাপনের জগৎ নীতির চেনা। তিনি জে. ডব্লিউ. টি র অভিজ্ঞ আর্ট ডিরেক্টরদের মধ্যে শীর্ষে থাকা নীতি বলছিলেন তিনি নাকি কোলা বেচে ক্লান্ত। ঠান্ডা পানীয়ের বিজ্ঞাপণের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত আর পছন্দের উপর ভরসা করেই বিজ্ঞাপনের জগতকে গুডবাই জানালেন।

আজ নীতি জনপ্রিয় কমেডিয়ান

বাচ্চাদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান "সিস্যাম স্ট্রীট" ভারতে আসার পর চার বছর "গ্যলি গ্যলি সিমসিম'' এর এপিসোড লেখেন নীতি। কলিন মোচরি এন্ড ব্র্যাড শেরউড এর সাথে যুক্ত হন এরপর। স্টেজে সাউন্ড এফেক্ট দিতেন। বাকিটা ইতিহাস।

নীতি আমাদের জানান নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবেই তাঁকে নেওয়া হয়। আর তিনি আসতেই জমে যায় শো। দেশজুরে বহু মজার ও হাড়ে সুড়সুড়ি দেওয়া অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। চুটিয়ে অভিনয়ও করেন তিনি।

খিল্লি... সুড়সুড়ি... নাকি নির্ভেজাল মজা...

জীবনের সব ঘটনা থেকে মজাকে নিঙরে নিতেন এই মহিলা কমেডিয়ান। অপমান এবং প্রত্যাখান অনেক সয়েছেন। তবে হার মানতে শেখেননি। খুব রাগ বা কষ্টের মূহুর্ত থেকেও হাসিকে খুঁজেছেন। তিনি বলছেন, "মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে কিছু অচেনা মানুষকে হাসাতে হলে নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা করতে জানতে হয়।" লোক হাসানো আলবাৎ কঠিন কাজ।

"অনেক সময় দর্শক শো চলাকালীন চিৎকার করেন। কথা বলেন। কেউ কেউ অর্ধেক শোনেন। খাবার ওর্ডার করতে গিয়ে পাঞ্চ লাইন মিস করেন। আর দোষ হয় কমেডিয়ানের। শুনতে হয় হাসিই পেল না। এই ধরনের আচরণ যে কতটা অপমানজনক সেটুকুও বুঝতে পারেন না দর্শক।"

দিল্লীর মেয়ে নীতিকে মহিলা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে অনেক কুরুচিকর মন্তব্য। তাঁর একমাত্র হাতিয়ার ছিল ঠোঁটে লেগে থাকা মিস্টি হাসি। শুধু সমালোচক নয় অনেক গুনমুগ্ধ দর্শকও আছে নীতির। যারা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর জোরালো গলার আওয়াজ, বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতার অসংখ্য ফ্যান আছে। তাই শুধু ইট পাটকেল নয়, ফুলের তোড়াও পেয়েছেন অনেক। সমজদার শ্রোতা ই হল তাঁর কঠোর পরিশ্রমের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার। শ্রোতার মুখের হাসি সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। বলছিলেন নীতি। 

নীতির মাবাবা মেয়ের এই কৌতুকাভিনয়ের সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি ছিলেন না। প্রাক্তন সেনা হিসেবে তাঁর বাবা চেয়েছিলেন নীতি কোনও সিরিয়াস কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক। বরং তিনি লেখকই হোক মেয়ে। তাঁর মা ভয় পেতেন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। কমেডিয়ান হিসেবে একটি বছর কাটানোর পর তিনি তাঁর বাবামা কে তাঁর একটি অনুষ্ঠান দেখাতে নিয়ে আসেন। সেখানে একজন বৃদ্ধ সর্দারজী নীতির শো দেখে খুব আনন্দ পেয়েছিলেন। নীতির পিঠ চাপড়ে সাবাসি দেন। সেদিন তাঁর মাবাবার গর্বিত মুখটা নীতির স্মৃতিতে চিরউজ্জ্বল হয়ে রয়েছে ।

শুরুতে বলিউডই ভরসা

অনেক দীর্ঘ পথ হেঁটেছেন।যেখানে লোকজন ২/৩ বছর অপেক্ষা করেন,সেখানে নীতি তাঁর জীবনের প্রথম স্ক্রীপ্ট লিখেছেন সলমানের 'ও তেরি' সিনেমার। ফিল্মটি নির্দেশনা করেন সলমানের জামাইবাবু অতুল অগ্নিহোত্রী।

নিজের শো 'লুনি গুন্স'এর মাধ্যমে দেশবিদেশের কৌতুক অভিনেতাদের সমবেত করেছেন তিনি।দিল্লী খুব বেশি সুযোগ দেয়নি তাঁকে।এক অনুরাগী দর্শকের অনুরোধে নীতি তাই চলে আসেন স্বপ্ননগরী মুম্বাই। কমেডি কে এক ব্যবসায়ি আঙ্গিক দিতে উদ্যোগী হন।বিভিন্ন সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছেন নীতি। তবে তিনি আজও আগে একজন অভিনেতা পরে ব্যবসায়ী।

যেকোনও মহিলা কমেডিয়ানের জন্য নীতি একজন আদর্শ।তিনি বলেন নিজে সুখী থাকার চেষ্টা করুন তাহলেই পারবেন অপরকে সুখী করতে,নিশ্চয়ই পারবেন তাঁকে হাসাতে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags