সংস্করণ
Bangla

সৌরশক্তি চালিত টুকটুক চেপে বেঙ্গালুরু থেকে লন্ডন

8th Sep 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

বেঙ্গালুরু থেকে লন্ডন যাত্রার পরিকল্পনা করেছেন নবীন রাভেল্লি। যাবেন সৌরশক্তি চালিত টুকটুক নিয়েই। কী এই টুকটুক? সে এক চমকপ্রদ গল্প।

image


নবীন রাভেল্লির ব্রেনচাইল্ড প্রজেক্ট তেজস। ২০১২ সালের মার্চে সাফল্য ধরা দিয়েছিল। কিন্তু এর যাত্রা শুরু হয়েছিল হায়দরাবাদে নবীনের কলেজ জীবনে। ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার নবীনের পায়ের তলায় সর্ষে । দু’চোখ ভরে দেখতে চান, যেতে চান দেশ-বিদেশে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হতেই চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। যোগ দেন একটি গাড়ি কারখানায়। বছর পাঁচেক সেখানে কাজ করার পরে ফের ভ্রমণের নেশা চাড়া দেয়। কাজ ছেড়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। দেশে ফিরে বেঙ্গালুরুতে যোগ দেন রেভা ইলেকট্রিক কার কোম্পানিতে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে অন্যতম পথিকৃৎ রেভা। সেখানে কাজ করতে গিয়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে সুইজারল্যান্ড থেকে আসা শিক্ষক লুইস পামারের। পরিবেশ ও সৌরশক্তি নিয়ে নবীনের একটা আগ্রহ ছিলই। কর্মসংস্থানের উপায় হিসাবে সোলার ট্যাক্সির উপযোগিতা নবীনকে বোঝান পামার। রেভাতে যোগ দেওয়ার আগে এই সোলার ট্যাক্সি চেপেই বিশ্ব ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা ছিল পামারের। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চার ছাত্রকে নিয়ে পামারের সেই সোলার ট্যাক্সি তৈরির মূলে ছিল পরিবেশভাবনা। যাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়।

রেভাতে সেই প্রজেক্টেরই প্রেজেন্টেশন দেন পামার। তা উচ্চ-প্রশংসিত হয়। এমন একজনকে হাতের কাছে পেয়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় নবীন দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নেন। তিনিও সৌরশক্তি চালিত বাহনে যাত্রা করবেন। এমন গাড়ি তৈরি করবেন যা হবে তাঁর নিজস্ব ভাবনা। সেই ভাবনারই ফসল প্রজেক্ট তেজস। ট্যাক্সির বদলে নবীন বেছে নিলেন ভারতে অতি-পরিচিত বাহন টুকটুক (অটোরিকশা)। আর গন্তব্য হিসাবে বেছে নিলেন বেঙ্গালুরু থেকে লন্ডন, ৮৮০০ কিলোমিটারের এক দীর্ঘ পথ। শুরু হয়ে গেল কাজ। সোলার টেকনোলজি নিয়ে কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুলত্রুটির মধ্যে দিয়েই এগোতে থাকেন নবীন এবং তাঁর সঙ্গীরা।


সহকর্মীদের সঙ্গে নবীন রাভেল্লি (বাঁদিকে)

সহকর্মীদের সঙ্গে নবীন রাভেল্লি (বাঁদিকে)


কেমন ছিল প্রজেক্ট তেজসের টিম? নবীন বেছে নিয়েছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু ও মেকানিককে। সাহায্য মিলেছিল এমআই অটো গ্যারেজ, এস এস ফ্যাব্রিকেটর ও প্যারামাউন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। গড়ে তোলা হয় মার্কেটিং ও পিআর টিম। গাড়ির যন্ত্রাংশ তথা মোটর দিয়ে সাহায্য করে আভাসো টেকনোলজিস। ব্যাটারি চালিত টুকটুককে প্রথমে ইলেকট্রিক অটোমোবাইলে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। তা মিটতে শুরু হয় গাড়ির উপরিভাগে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ। সকলের চেষ্টায় তাও সম্পূর্ণ হয়। প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকেই মিলতে থাকে। বাকিটা ব্যাটারির মধ্যে সঞ্চিত ইলেকট্রিসিটি থেকে।

প্রজেক্ট তেজস সম্পূর্ণ হয়েছে। এবার বেড়িয়ে পড়ার অপেক্ষা। বেঙ্গালুরু থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী লন্ডন। দশ-দশটি দেশ পেরিয়ে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ। কতদিন লাগবে এই পথ যেতে? দিনে ১০০ কিলোমিটার হিসাবে ১০০ দিনের মধ্যেই লন্ডন পৌঁছতে চান নবীন ও তাঁর সঙ্গী। গাড়ি পথে নামালেই তো হবে না। তারও নিয়মকানুন রয়েছে। ইন্ডিয়ান রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়ে মিনিস্ট্রি থেকে সে ব্যাপারেও ছাড়পত্র মিলেছে। সেই সঙ্গে রয়েছে যে সব দেশের ওপর দিয়ে তাঁরা যাবেন সেই সব দেশ থেকে ভিসার ছাড়পত্র। কাজ শুরু হয়েছে। ভিসার ছাড়পত্রও অনেকটাই মিলে গিয়েছে।


image


সৌরশক্তি সুলভ। তবুও ভারতের মতো দেশে তার ব্যবহার এত কম কেন? নবীন রাভেল্লি মনে করেন, সোলার এনার্জির ব্যবহার বাড়াতে গেলে এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের হাতে সোলার টেকনোলজি ও সোলার এনার্জি দুই রয়েছে। যেটা নেই তা হল কম খরচে কীভাবে এর ব্যবহার করা যায় তার উদ্যোগ। সেটাই চ্যালেঞ্জ’।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags