সংস্করণ
Bangla

লক্ষ্য যখন সীমাহীন, পরিশ্রম আর দূরদৃরষ্টিকেই পাথেয় করেন সগুন

দুনিয়ার সঙ্গে পা মিলিয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন। ফলে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি প্রসাধনীকে সরিয়ে সেখানে ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে প্রাকৃেকতিক বা ভেষজ প্রসাধনী। তবে তুলনামূলকভাবে এসব প্রসাধনী দ্রব্যের দাম অনেকটাই বেশি। ফলে অপেক্ষাকৃত অর্থবান শ্রেণির মানুষের মধ্যেই এ ধরণের প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা সর্বাধিক।তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে তথাকথিত মধ্যবিত্তরাও এখন বাজেটের বাইরে গিয়ে ভেষজ প্রসাধনী ব্যবহারে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। সামগ্রিক এই প্রবণতাকেই হাতিয়ার করে নয়ডার মেয়ে সগুন শর্মা শুরু করেন তাঁর প্রসাধনী সংস্থা হেডোনিস্তা। যা এখন ভারতের গ‌ণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে পা রাখার অপেক্ষায়।

24th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

স্কুলের পাঠ শেষ করে ফ্যাশন টেকনোলজি পড়তে নয়ডার মেয়ে সগুন পাড়ি দেন মুম্বইয়ের এনআইএফটিতে। কিন্তু আট মাস পর তাঁর মনে হয় ফ্যাশন ডিজাইনিং তাঁর ‘কাপ অফ টি’ নয়। বরং যেটা করতে মন চায়, যা করতে ভাল লাগে সেই পেশাই বেছে নেবেন তিনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ছেড়ে দিলেন ফ্যাশন টেকনোলজি। তৈরি করলেন নিজের সংস্থা হেডোনিস্তা।

ভেষজ উপায়ে, প্রকৃতির দান থেকে তৈরি প্রসাধনী সামগ্রি তৈরি শুরু করল হেডোনিস্তা। বাজার চলতি সাধারণ প্রসাধনীর চেয়ে হেডোনিস্তার জিনিসপত্রের দামটা অনেকটাই বেশি। ফলে অবশ্যই সেটা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। প্রথম দিকে হেডোনিস্তার বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি সাবান বা অন্যান্য প্রসাধনী দ্রব্য তেমন বাজার করতে পারছিল না। কিন্তু বিশ্বাস হারাননি সগুন। হেডোনিস্তাকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে নিজের হাতে হেডোনিস্তার লোগো লাগিয়ে সর্বত্র ঘুরে বেড়াতেন তিনি।

image


হেডোনিস্তার উৎকর্ষতা সগুনের বন্ধুমহলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পেল। তারপর তাদের মুখে মুখেই এর কথা পৌঁছতে শুরু করল অন্যদের কাছে। সগুনের মতে, তাঁর বিশ্বাস ছিল ভারতে রাসায়নিক বা আয়ুর্বেদিক প্রশাধনীর বাজারের পাশাপাশি শৃঙ্গার বিলাসিতার একটা পরিবেশবন্ধু বাজার আছে।যা অনেকটাই ফাঁকা। ফলে স্নান ও সাজগোজ সামগ্রির এই বাজার দখলের ক্ষেত্রে হেডোনিস্তার একটা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

পুনের সিম্বায়সিস ইন্সটিটিউট থেকে এমবিএ করার পর বেশ কিছুদিন মহিন্দ্রা এণ্ড মহিন্দ্রা, হিন্দুস্তান টাইমস্ ও ফিউচার ব্রাণ্ডে কাজ করেছিলেন সগুন। এসব বৃহৎ সংস্থায় কাজ করার সুবাদে নিজের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাগত রসদ পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটা ব্যবসাকে সফল রূপ দেতওয়া মুখের কথা নয়। লড়াইয়ের দিনগুলোয় হেডোনিস্তার মালিককে ওয়ান ম্যান আর্মির মত সবদিক সামলাতে হয়েছে। একাধারে প্রসাধনী সামগ্রির আবিষ্কারক, উৎপাদিত সামগ্রির প্রচারক, কারখানার পরিচালক, বাজার বিশ্লেষক, ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি এবং আগামী দিনে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কোথা থেকে আসবে তা ঠিক করা। এতকিছু একার মাথায় নিয়ে হেডোনিস্তাকে সফল করার অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন সগুন। অবিচল থেকেছেন লক্ষ্যে। অবশেষে ধ্যৈর্য ধরে প্রতি মুহুর্তে সামনে আসা অজানা অচেনা বাধা টপকে একদিন সাফল্য ধরা দিল সগুনের ঝুলিতে।

image


সগুনের মতে, সঠিক রাস্তায় সাধারণ বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে যে কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই দেশে র অন্যতম স্পা, স্যালন, হোটেলে ছড়িয়ে পড়েছে হেডোনিস্তার সুখ্যাতি। ভারতের প্রথমসারির প্রসাধনীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সগুনের হেডোনিস্তা। এবার এশীয় বাজারে পা রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সগুন। বিশ্ববাজারে এই ভারতীয় সংস্থাকে পৌঁছে দেওয়াই এখন সগুনের একমাত্র লক্ষ্য।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags