সংস্করণ
Bangla

অ্যাপকে আকর্ষণীয় করার সুলুক দেয় Upshot.ai

YS Bengali
15th Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

মোবাইল অ্যাপের জগতে প্রতিযোগিতা খুব বেশি। তবে দীর্ঘকালীন ব্যবসার কথা ভাবলে এই সেক্টর বেশ লোভনীয়। ২০১৪-র একটা রিপোর্ট বলছে iOS অ্যাপের বাজার হলিউডের থেকেও বেশি রেভিনিউ পেয়েছে। ‘একটা অ্যাপ ডাউনলোড করানোর চেয়ে ইউজারকে ধরে রাখা এবং রেভিনিউ পাওয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং,বলেন ভরত লিঙ্গম’, আপশটের প্রতিষ্ঠাতা। ইউজারদের মন এবং নজর ঘোরাফেরা করতে থাকে। কোনও অ্যাপকে মনে ধরাতে প্রথম মিনিটের যাতে ইউজার পছন্দ করে ফেলতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। বেশিক্ষণ সময় ধরে রেখে এবং বারেবারে অ্যাপে ফিরিয়ে এনে ইউজারের মধ্যে ওই অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যেস তৈরি করে দিতে হবে।[x]cube Labs এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ সেক্টরে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ফলে ভরত সুযোগের এই বাজার বুঝে গিয়েছিলেন। তাই অ্যাপ ডেভেলপারদের সাহায্য করতে এবং ইউজারদের আরও সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিতে ভরত শুরু করলেন Upshot.ai ।

image


আপশট হল মোবাইল ইউজারদের ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা। এর সাহায্যে বিভিন্ন সংস্থা এবং SME-গুলির মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইউজার টানা, ধরে রাখা এবং তার মাধ্যমে উপার্জনের ব্যবস্থা করে। ইউজার যাতে দ্রুত কোনও অ্যাপের কার্যকারিতা বুঝতে পারেন তার জন্য এই স্টার্টআপ অ্যাপ ডেভেলপারদের সুলুক দেয়। এর ফলে ইউজার কোনও অ্যাপ পুরোপুরি ব্যবহার বা বুঝে ওঠার আগে যাতে আন-ইনস্টল করে না দেন সেই দিকে নজর রাখে। ভরত ব্যাখ্যা দেন, ‘যদি এই ভেঞ্চারের সমান্তরাল কিছু খোঁজেন, সেটা হতে পারে গুগুল নাও, সার্চ প্রোডাক্টের জন্য যা করে থাকে। আমাদের নজর থাকে যেকোনও সফটওয়ার ডেভেলপারের জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা করার দিকে। যখন আমরা ইউজারকে এই প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছি একই সঙ্গে মোবাইল পাবলিশারদের জন্যও সলিউশন দিচ্ছি, যা মোবাইল মার্কেটিংয়ের নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসে। আজকালকার বাজারে সেই ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না’।

image


আইআইটি মাদ্রাজের প্রাক্তনী ভরত। আপশটের আগে [x]cube Labs প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের নতুন ভেঞ্চার শুরুর আগে মাহিন্দ্রা সত্যম, পেন্ডোরা নেটওয়ার্কস এবং নলেজ ইনফোটেকে শীর্ষস্থান ধরে নেন ভরত। এই মুহূর্তে Upshot.ai এর দুটি অফিস। একটি হায়দরাবাদ এবং অন্যটি ডালাসে। ৩৫ জনের টিম সংস্থা চালায়। ভরত জানান, টিমের ৭৫ শতাংশই ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তি সামলাচ্ছেন। বাকি ২৫ শতাংশ সেলস, মার্কেটিং এবং অন্যান্য দিক দেখছেন। ভরত এবং তাঁর টিম মনে করে, এই যাত্রায় ওঠাপড়া যেমন আছে, তেমন চ্যালেঞ্জিংও। যখন তাঁদের টেকনোলজি নিয়ে ক্লায়েন্টকে বোঝাতে যান তখন নিজেদের ভেতরকার উত্তেজনার প্রতিচ্ছবি দেখান। এরফলে প্রোডাক্টকে আরও বেশি ধারণাসম্পন্ন করে তোলার প্রচেষ্টা তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত যা যাচ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন বলতে গিয়ে ভরত জানান, ‘ডেভেলপমেন্টের কাজ যত এগোবে সফটওয়ারে অনবরত নানা পরিবর্তন আসবে। তার মানে শুধু নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে না,সফটওয়ার নিয়ে ভাবনার নানা দিকও আসছে সঙ্গে। কাজে এবং ভাবনায় এই সমস্যাটাই মেটানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করি আমরা। তাই ইউজারের অভিজ্ঞতার ওপর কোনও আপোষ না করে প্রযুক্তির মধ্যেই মানে এবং দামে যাতে ঠিক রাখা যায় সেই চেষ্টা করি’।

image


আপশট উন্নত অ্যানালিস্টিকস, সেগমেন্টেশন, অ্যাপ মার্কেটিং এবং আর্টিফিসিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে গ্রাহকদের চাহিদা মেটায়। আপশট বর্তমানে PaaS মডেলে কাজ করে। বেসিক বিল মাসে ৯৯৯ ডলার, কোয়ার্টারলি বিল হয়। এখনও নিজেদের পুঁজির ভরসায় ব্যবসা চললেও, এবার বাইরে থেকে পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা চলছে। এখনও পর্যন্ত মূল সংস্থা [x]cube এর বিনিয়োগে স্টার্টআপ চলছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে ভরত জানান, ‘আমরা আপাতত ISV এবং কনজিউমার অ্যাপের উপর নজর দিয়েছি। বাছাই করা নানা সংস্থায় সলিউশনগুলি প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে’।

সারা বিশ্বে এই ক্ষেত্রে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা রয়েছে। ভরত মনে করেন, ‘বাজার এখনও সবে শুরুর দিকে। অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়টাকে যেভাবে দেখি তা হল, শুধু মোবাইল এনগেজমেন্ট নয়, বরং নানা চ্যনেলের মাধ্যমে ইউজারকে ধরে রাখা আসল উদ্দেশ্য’। ভারতে এসে আপশট প্রথমে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে Clevertap (earlier Wizrocket) এর সঙ্গে। তাছাড়া AppVirality এবং Appknox মত অ্যাপগুলি SMEএবং নানা সংস্থার অ্যাপ পারফরমেন্স এবং নিরাপত্তা বাড়ায়। অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সেক্টর নিয়ে বলতে গিয়ে ভরত এটাকে শ্রমসাধ্য খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

গুগুল জানিয়েছে, ইউজারদের এনরয়েড অ্যাপ স্ট্রিম করতে দেবে যাতে ইনস্টলের আগে সার্চ রেজাল্টের মাধ্যমে অ্যাপ পরীক্ষা করে নিতে পারে। ভরতের মতে, গুগুলের এই পদক্ষেপ সমসায়িক। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন, অ্যাপের সৃষ্টি আরও সহজ হবে। ২০১৫র ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত ৪০২ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়ে আমেরিকাকে ধরে ফেলতে চলেছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চলেছে। IAMAI এবং KPMG এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬র মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ইউজারের সংখ্যা ২৩৬ মিলিয়ন পেরিয়ে যাবে এই দেশে। এবং ২০১৭য় সেটা হবে ৩১৪ মিলিয়ন। দক্ষ টিম নিয়ে ভারত এবংআমেরিকায় ইতিমধ্যে সফল [x]cube। বাজার দখলে আপশট কতটা সফল হবে এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

(লেখক-হরষিত মাল্য, অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস)

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags