সংস্করণ
Bangla

চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি নাজানিন জালালুদ্দিন

21st Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

নাজানিন জালাউদ্দিন। আইআইএম ব্যাঙ্গলোরের এই প্রাক্তনী জীবনের পথে এগিয়ে চলতে সবসময়ই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। ছোটবেলাটা কেটেছে উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ায়। নাজানিনের কথায় নিজের দেশ থেকে অনেক দূরে থাকলেও, সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়রা সবসময়ই নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। লিবিয়ায় স্কুলজীবন শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে পাড়ি দেন। চেন্নাই বিশ্বিবদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে এমিবএ করতে ভর্তি হন আইআইএম ব্যাঙ্গলোরে। এরপর মেধাবী এই ছাত্রীকে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

image


বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিসে কাজের সূত্রে প্রায় বছর খানেক মার্কিন মুলুকেও ছিলেন তিনি। সেইসময়ই নিজের কাজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত করার চেষ্টা করেন। রিটেল এবং টেলিকমের পাশাপাশি প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট নিয়েও পরীক্ষা নিরিক্ষা শুরু করেন। নতুন কিছু করার ইচ্ছে থাকলেও অবশ্য, তাড়াহুড়ো করতে চাননি। অভিজ্ঞতা বাড়াতে বেশ কয়েক বছর কাজ করেন বেঙ্গালুরুর স্যাপ ল্যাব-এও। বর্তমানে বিখ্যাত মার্কিন সংস্থা অ্যাপ্লায়েড রোবোটিকস-এর চিফ টেকনোলজি আধিকারিকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। 

পাশাপাশি থটপাল্ট বলে একটি সংস্থাতেও মুখ্য ইনোভেটিভ অফিসার হিসাবে কাজ করছেন নাজনিন। ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহ দিতে নতুন নতুন চিন্তাভাবনা আমদানি করছে এই সংস্থা। উদ্যোগপতিদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ব্যবসার প্রাথিমক রূপরেখা। নতুন শিল্পদ্যোগীদের জন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থেকে উন্নতি, বিপণন সবিকছুরই একটি স্কেচ তৈরি করে দেন নাজানিন জালাউদ্দিন। 

কর্পোরেট দুনিয়ায় একদিকে রোবট নিয়ে গবেষণাকে তুলে ধরা অন্যদিকে নতুন নতুন শিল্পদ্যোগীদের জন্য ব্যবসার পরিকল্পনা করা। এই দুধরণের কাজই সমান তালে সামলাচ্ছেন আধুনিক ভারতের আত্মিবশ্বাসী এই নারী। নাজানিনের কথায় হার – জিত তো থাকেবই। তাই বলে ঝুঁকি নেওয়ার থেকে পিছিয়ে আসলে চলবে না। হারতে হারেতই একিদন সাফল্য আসবে। সেদিনটি অতীতের সমস্ত ব্যর্থতা ঢেকে দিতে পারে। কিন্তু সবসময়ই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীতে মেলে ধরতে হবে নিজের লুকিয়ে রাখা ডানা দুটি।

তাঁর জীবনে ঠাকুমার অপরিসীম গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন নাজানিন। জানিয়েছেন ঠাকুমা ছিলেন খুব বাস্তববাদী। নিজের বুদ্ধি ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে স্থানীয় কুটির শিল্পকে তুলে ধরেছিলেন। পাশাপাশি রান্নাবান্না নিয়ে লিখেছিলেন একাধিক বই। নিজের এলাকার মহিলাদের আর্থিক ভাবে সাবলম্বী করতে একাধিক উদ্যোগও নিয়ছিলেন। ঠাকুমার এই গুণগুলি নাজানিনের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। সবরকম পরিস্থিতিতেই হাশিখুশি থেকে লড়াই করে চলাটা তাঁর কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে শিক্ষনীয়। 

অ্যাপ্লায়েড রোবটিকসের মুখ্য টেকনলজি আধিকারিকের কাজটিও কম চ্যালেঞ্জিং নয় নাজানিনের কাছে। তবে রোবট টেকনলজি নিয়ে কাজ তাঁর চিন্তাকে আরও বিকশিত করেছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তীব্র আকর্ষণ রয়েছে নাজানিনের। পাশাপাশি অবসর সমেয় বাগান করতেও ভালবাসেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের প্রতি তীব্র আকর্ষণ রয়েছে তাঁর। ভালবাসেন ছবি আঁকতেও। লেখালেখির প্রতিও অদম্য আগ্রহ অনুভব করেন থটপাল্টের এই চিফ ইনোভেটিভ অফিসার। 

সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর ভালবাসা রয়েছে। সেই ভালবাসা থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যে লেখলেখিও করেন। তবে নিজের লেখাগুলি আপাতত ব্যক্তিগতই রাখতে চান নাজানিন। তবে দেশে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের লেখা তাঁর পছন্দের। তাঁর মতে হৃদয় দিয়ে কথা বলতেন এপিজে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির আদর্শে অনুপ্রাণিত নাজনিনের বিশ্বাস, সকলে এককাট্টা হয়ে কাজ করলে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়।

তাঁর মতে, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে মেয়েরাও ছেলেদের তুলনায় কোনও অংশে কম যান না। ব্যাক্তিগত ও পেশাগত দুনিয়ায় সামাল দিয়ে নাজনিন খোদ—এই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। মেয়েদের এই শক্তিই তাঁকে প্রেরণা জোগায় বলে জানিয়েছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে নাজনিনের পরামর্শ, ‘জীবনের শুরুতে ব্যর্থতা আসবে। কিন্তু হাল ছাড়লে হবে না। লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই এই পৃথিবী ভরে উঠবে হাজারো-লাখো সুপার উইম্যানে।’

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags