সংস্করণ
Bangla

StartFed এর উদ্যোগে সামিল গোটা পূর্বাঞ্চল

Hindol Goswami
24th Apr 2017
Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share

পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় আছে। বিনিয়োগকারীরা হামেশাই বলেন বিনিয়োগ করার যোগ্য স্টার্টআপই খুঁজে পান না তাঁরা। সরকার অনুমোদিত ইনকিউবেশন সেন্টারগুলির অভিযোগ এই অঞ্চলের স্টার্টআপদের মধ্যে উদ্ভাবনের অভাব আছে। তাই যে পরিমাণ স্টার্টআপকে ইনকিউবেট করা যেতে পারে সেই কোটা পূর্ণ হয় না। ফলে ফাঁকাই পড়ে আছে পূর্বাঞ্চলের ইনকিউবেশন সেন্টারগুলি। মেন্টরদের নিয়েও স্টার্টআপদের মনে ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ। এরই মধ্যে এই ইকোসিস্টেমে ঢুকে পড়েছে একদল সুযোগ সন্ধানী মানুষ। যারা স্টার্টআপ সংস্থাগুলির শুভাকাঙ্ক্ষী সেজে কেবলই স্টার্টআপ সংস্থার উদ্যোগপতিদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেপোয় দই খেয়ে যাওয়ার মত করে লাভের গুড় চলে যাচ্ছে তাদের পকেটে। আর স্টার্টআপ সংস্থার উদ্যোগপতি যে তিমিরে ছিলেন তার থেকেও আরও ঘন আরও বিপজ্জনক তিমিরে ডুবে যাচ্ছেন। ফলে ইকোসিস্টেম বলতে যা বোঝায় সেটা এই পূর্বাঞ্চলে আদৌ নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই। তাই স্টার্টফেড এবং বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স এগিয়ে এসেছে অস্পষ্টতা আর ধোঁয়াশা কাটাতে। 

image


২৫ এপ্রিল বেঙ্গল চেম্বারে বসছে পূর্বাঞ্চলের সব থেকে বড় স্টার্টআপ রাউন্ড টেবল। আলোচনার এক প্রান্তে থাকছেন বাংলা, বিহার, ওড়িশা, অসমের সংশ্লিষ্ট সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধি, আইআইএম কলকাতা, আইআইটি খড়গপুর, আইআইইএসটি, একতা ইনকিউবেটর মাকাউট, এমএসএমই মন্ত্রকের প্রতিনিধি দল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ডিআইপিপির প্রতিনিধিও আসছেন দিল্লি থেকে। আর অন্য প্রান্তে থাকছেন পূর্বাঞ্চলের কয়েকশ স্টার্টআপ সংস্থার কর্ণধার। কিছু মেন্টর। থাকছেন বিনিয়োগকারীরাও।

কোনও আবছায়া নয়। সোজা সাপ্টা আলোচনার মাধ্যমে স্টার্টআপ সংস্থাগুলি জেনে নিতে পারবেন কী কী সুযোগ সুবিধে সরকারি সংস্থাগুলির তরফ থেকে আদৌ পাওয়া যেতে পারে। পূর্বাঞ্চলের কোন সরকার কী সুবিধে দিচ্ছে তার রোডম্যাপ। কোন রাজ্যের কী পলিসি। খোলামেলা আলোচনায় ধরা যাবে গোটা পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ মানচিত্র।

বেঙ্গল চেম্বারের উইলিয়ামসন মেগর হলে এই বিশাল আয়োজন করেছে স্টার্টফেড। পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে চাঙ্গা করার মিশন নিয়ে গত ডিসেম্বরেই শুরু হয়েছে স্টার্টফেডের যাত্রা। এই চারপাঁচ মাস গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে মৌলিক সমস্যাগুলির কাছে পৌঁছতে চেয়েছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। প্রাথমিকভাবে তারই জের টেনে এই আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। 

স্টার্টফেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান উপদেষ্টা কল্লোল দত্ত বললেন, এখানেই শেষ নয় এরপর আরও অনেকগুলো বিষয় ওঁরা স্পষ্ট করতে চান। যেমন মুদ্রা লোন নিয়েও এই ইকোসিস্টেমে অনেক রকম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ উদ্যোগপতিই জানেন না মুদ্রা লোন কীভাবে পাওয়া যায়। যদিবা সঠিক পথটা জানেন তবুও পথটা কিছু অসাধু মানুষের দৌলতে এঁকে বেঁকে গেছে। মুদ্রা লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নানান চক্র কাজ করছে। এই পরিস্থিতি নিয়েও ভাবছে স্টার্টফেড। 

পাশাপাশি ব্যাঙ্কের নানান ঋণ প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সেই সব ঋণপ্রকল্পগুলি জানাই নেই অনেক উদ্যোগপতির। ফলে ব্যবসা করার সময় টাকার দরকার পরলে একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থা। অথচ শুরুর দিকে বিনিয়োগকারী সংস্থার থেকেও ব্যাঙ্কের ভূমিকা বেশি থাকার কথা। এই বিষয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন কল্লোল বাবু। এক এক করে নানান বিষয় নিয়ে অস্পষ্টতা কাটাতে চায় তাঁর সংস্থা। গোটা পূর্বাঞ্চল জুড়ে স্টার্টআপদের মধ্যে প্রতিযোগিতারও পরিকল্পনা রয়েছে। 

পাশাপাশি জানালেন, সম্প্রতি স্টার্টফেডের সদস্য পদ গ্রহণ করাও শুরু হচ্ছে। স্টার্টআপ সংস্থাগুলি এই সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারবেন। সদস্য হতে পারবেন ইকোসিস্টেমে হাজির মেন্টররাও। পাশাপাশি সংস্থা চালানোর জন্যে যাবতীয় পরিষেবা যারা দেন তারাও এই সংস্থার সদস্য হতে পারবেন। ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেন এমন রিসোর্স পার্সনরাও নথি ভুক্ত হতে পারবেন স্টার্টফেডের সঙ্গে। আর স্টার্টফেড তাদের জুড়ে দেবে গোটা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে। কল্লোল দত্ত জানালেন, স্টার্টআপদের জন্যে সময়োপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত গ্রহণ করবে তাঁর সংস্থা। ফলে দেরিতে স্টার্টআপ বাস এসে পৌঁছলেও কলকাতা, পাটনা, ভুবনেশ্বর আর গুয়াহাটিকে অ্যানিমাল বুস্ট দিতে উঠে পড়ে লেগেছে স্টার্টফেড।

Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags