সংস্করণ
Bangla

উদ্ধবের উদ্ভাবনী শক্তি দেখে তাজ্জব দুনিয়া

YS Bengali
27th Nov 2015
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

উদ্ধব ঠাকরে নয়। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যসঙ্গী মহাভারতে চরিত্রও নয়। আমার গল্পের উদ্ধব ভাড়ালি। ১৯৮৭ সালে দারিদ্রের কারণে কলেজের গণ্ডি পেরতে পারেননি। কিন্তু উদ্যোগপতি হিসেবে অসমের লখিমপুরের এই ছেলের দুনিয়া জোরা মস্ত খ্যাতি। 

উদ্ধবের নেশাই ছিল যন্ত্র বানানো। ছোটোবেলা থেকেই অবসর সময়ে এটা সেটা দিয়ে নানান জিনিস বানাতেন। কিন্তু বাবার আকাশ ছোঁয়া দেনার দায় সমস্ত স্বপ্নে জল ঢেলে দিল। ব্যাঙ্কে বাড়িঘর যাকিছু স্থাবর সব বন্দক দিয়ে দেনা করেছিলেন বাবা। শোধ না দিতে পারায় ব্যাঙ্ক বলল বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। আক্ষরিক অর্থেই পথে দাঁড়াতে হল। উদ্ধব কিন্তু হার মানলেন না। পলিথিন বানানোর মেশিন বানালেন। বাজারে যে যন্ত্রের দাম পাঁচ লাখ টাকা। ওঁর কাছে সেই মেশিনই মাত্র ৬৭ হাজার টাকায় পাওয়া যেত। ব্যস আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

image


দীর্ঘদিন গ্রামীণ ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের যন্ত্র বানিয়েছেন। জেনে না জেনে বহু মানুষ সেই যন্ত্র ব্যবহারও করেছেন। কিন্তু গেঁও যোগী অনেক সময়ই গ্রামে আমল পান না। উদ্ধবেরও একই হাল। ২০০৫ নাগাদ স্বীকৃতি পেলেন এই আবিস্কারক জিনিয়াস। The National Innovation Foundation তাঁকে চিহ্নিত করে। বিদেশের দরবারে তার প্রতিভাকে তুলে ধরার সুযোগ আসে। উদ্ধবের বাননো বেদানার রস বের করার মেশিন দেখে তো ইউরোপ কুপোকাত। দেশেই নয়, বিশ্বেও এই মেশিন আক্ষরিক অর্থেই প্রথম ছিল। 

প্রযুক্তিবিদ উদ্ধব এখানেই থেমে থাকেননি। ছোটো কৃষকদের সাহায্য করতে তিনি একটি ছোটো tea plant বানিয়েছেন। তাঁর তৈরি মিনিটে ১০০-১২০ টা বাদাম ছোলার যন্ত্র সবাইকে চমকে দিচ্ছে। বহনযোগ্য ক্যাসাভা ছোলার মেশিন মিনিটে ৫ কিলো ক্যাসাভা উৎপাদনে সক্ষম। রসুন ছোলা, আখ ছোলা, ধান মাড়াই, তামাক পাতা কাটার যন্ত্র এমন আরও কত কী! পিতলের বাসন পালিশের জন্যও মেশিন আছে ওঁর। কৃষিপ্রধান দেশকে মাথায় রেখেই তাঁর বেশিরভাগ আবিষ্কার। সাদা মুসলি ছোলার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় নিড়ানি,পরিখা কাটার মেশিন,জাট্রফার রস বের করার যন্ত্র সবই উদ্ধবের কামাল। হিন্দু পত্রিকা জানাচ্ছে তিনি তাঁর গ্রামেই প্রযুক্তিবিদ্যা গবেষণার ওয়ার্কশপ খুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এভাবে উপকৃতও হচ্ছে।

দেশজোড়া সন্মান আজ উদ্ধবের ঝুলিতে। ২০০৯ সালে ‘President’s Grassroots Innovation Award’ পান। ২০০৭ এ ‘Shristi Samman Award’ এবং ২০১৩ সালে ‘Rashtriya Ekta Samman লাভ করেন। ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুবার NASA Tech আয়োজিত ‘Create the Future Design Contest’ এ জয়ী হন। Rediff কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উদ্ধব বলেন," আমার হাতে এখনও ৫৩ টি প্রোজেক্ট"। মাসে গড়ে আটটি প্রোজেক্টে কাজ করেন।

ছেলেবেলায় দারিদ্রের তাড়নায় গৃহহীন হবার যন্ত্রণা আজও তাঁর পিছু ছাড়েনি। অর্থের অভাব যেন কারও শৈশব কেড়ে না নেয়। তাই তিনি উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০ টি দুঃস্থ শিশুর মাথার ছাদ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন। শুধু তাই নয়। ওই শিশুগুলোর দৈনন্দিন প্রয়োজনের খেয়ালও রাখেন। এত ব্যস্ততার ফাঁকে নিজে হাতে ধরে ওদের প্রযুক্তির শিক্ষা দিচ্ছেন।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags