সংস্করণ
Bangla

২০ মার্চ সোনারপুরের SVIMCS এ 'চাকরি মেলা'

19th Mar 2017
Add to
Shares
90
Comments
Share This
Add to
Shares
90
Comments
Share

ফেসবুকে অনেক ধরণের গ্রুপ আছে। পাখি ভালোবাসি গ্রুপ। প্রেমে দাগা খাওয়া গ্রুপ। আমি এই সব গ্রুপ গুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে একদিন পেয়ে গেলাম সরকারি চাকরি প্রার্থীর গ্রুপ। স্কুলের শিক্ষক হওয়ার সুদীর্ঘ লাইন। কেরানির চাকরির জন্যে দীর্ঘতর তপস্যা। লক্ষ লক্ষ মানুষ। সারাদিন খালি সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন পোস্ট করছেন। অঙ্কের জটিল ধাঁধা। অ্যাপ্টিটিউড টেস্টের জামাই ঠকানো প্রশ্ন রাতদিন সাতদিন পোস্ট চলছে। তাতে লাইক কমেন্ট। শেয়ার। এত মানুষ দিস্তে দিস্তে সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করছেন। অথচ নিশ্চয়তার চাকরি যে নেই এই সাধারণ জ্ঞান কোথাও একটা মিসিং। খুব হতাশা ব্যঞ্জক।

image


কান পাতলেই শোনা যায় কাজের বাজার ফাঁকা। মানুষের কাজ অনায়াসে করে দিচ্ছে রোবট। আর প্রতিষ্ঠানের বাইরে লম্বা থেকে আরও লম্বা হচ্ছে কর্মপ্রার্থীর লাইন। আশির দশকের সাদা কালো সিনেমার দৃশ্যের মত নো ভ্যাকান্সি বোর্ড ঝুলছে। নায়ক হাওয়াই চটি পরে এ রাস্তা থেকে ও রাস্তা ছুটছেন। মুখে এক গাল দাড়ি। চুল উসকো খুসকো। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই কোথাও একটা পাগলা ঘণ্টি বাজে। আরও এক ঝাঁক কর্মপ্রার্থী লাইনে দাঁড়ানোর জন্যে তৈরি হচ্ছেন। কিন্তু কোথায় কাজ!

কথা হচ্ছিল আই এইচ আর সংস্থার কর্ণধার অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্তের সঙ্গে। দেশে বিদেশে কাজ করেছেন অমিতাভ। এখন স্বামী বিবেকানন্দ গ্রুপ অব ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক। এই সংস্থার কলেজগুলি গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায়। অধ্যাপক অমিতাভ একটি অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতদিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলিতে কোর্সের শেষে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ হওয়ার চল ছিল। সেই একই ধরণের ক্যাম্পাস ইন্টারভিউর আয়োজন করে ওঁর সংস্থা আই এইচ আর। স্বামী বিবেকানন্দ গ্রুপের সহযোগিতায় নিজে উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জব ফেয়ারের আয়োজন করে থাকেন। উনি বলছেন, সরকারি স্তরে না হলেও বেসরকারি স্তরে দক্ষ কর্মীর একটা কাজের বাজার এখনও আছে। দেশের তাবড় সংস্থাগুলির নিয়োগকর্তারা অতি উৎসাহে ওদের জব ফেয়ারে আসেন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বাছাই করে নেন তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক ফোর্স। যে সংস্থার যে ধরণের কর্মী লাগবে সেই কর্মী যাতে ওরা পেয়ে যান সেই ব্যবস্থাই করেন অমিতাভরা।

২০ মার্চ এরকমই একটি উদ্যোগের আয়োজন হয়েছে বলে জানালেন অমিতাভ। সোনারপুরের স্বামী বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সে সকাল থেকেই হই হই করে হবে জব ফেয়ার। আসছে ৩২ টি সংস্থা। টাটা বিজনেস সাপোর্ট সার্ভিস, ফ্লিপকার্ট, আইসিআইসিআই প্রুডেন্সিয়াল থেকে শুরু করে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, মারুতি উদ্যোগ কে নেই। পনের কপি সিভি নিয়ে সকাল থেকেই লাইন পড়ে যাবে সোনারপুর কারবালা মোড়ে।

এরকম জব ফেয়ার ওরা করেছেন গ্রাম গঞ্জের কলেজগুলিতেও। জব ফেয়ারে পৌঁছনর জন্যে অনেক সময় প্রার্থীদের তৈরিও করে নিয়েছেন অমিতাভরা। শুধু মাত্র ইন্টারভিউতে মুখোমুখি হওয়ার জন্যে একটি বিশেষ ধরণের কোর্সও তৈরি হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলা কলেজ থেকেও সাফল্যের রেট বেশ ভালো বলছিলেন অমিতাভ। চাকরি প্রার্থীদের মুখে হাসি ফুটলে ওর ঠোঁটে সব সময় লেগে থাকা হাসিটা আরও চওড়া হয়।

তাবলে চাকরির সমস্যা একটা দুটো জব ফেয়ারে যে মিটে যাবে না সেটা মোক্ষম জানেন আই এইচ আরের কর্ণধার। কাজ তৈরির অবকাশের জন্যে উদ্যোগপতি তৈরির কাজটাও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন তার কলেজ স্বামী বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউটের মারফত। সে প্রসঙ্গে এর আগেও আমরা আলোচনা করেছি। যেমন কিছুদিন আগেই হয়ে গেল ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিজনেস প্ল্যান কম্পিটিশন। ইওরস্টোরি মিট আপে পুরস্কৃত হল সেরা বাছাই তিনটি বিজনেস প্ল্যান। সবাই ওদেরই ছাত্র।

Add to
Shares
90
Comments
Share This
Add to
Shares
90
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags