সংস্করণ
Bangla

বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতালে স্যালোন নিয়ে যাচ্ছেন সীমা

24th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
image


ভারতীয় নারীর এতটাই ব্যস্ত জীবন যে স্পা বা স্যালনের জন্যেও সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রয়য়োজনটাও তো ফেলে দেওয়ার নয়। তাই স্পায়ের হোমসার্ভিস চালু করলেন সীমা নন্দা। ফোন ঘোরালেই যদি আস্ত একটা স্পা বা স্যালন হাজির হয় বাড়িতে, তাহলে কেনই বা কষ্ট করে সময় নষ্ট করে স্য়ালোন ছুটবেন আপনি। মহিলাদের এই সুবিধে দিতেই পথ চলা শুরু করেছে নোমাডিক স্পালন। নিজের ঘরের আরামে পরিচিত পরিবেশে স্পায়ের এই সুযোগই সীমার ইউএসপি।

নোমাডিক স্পালনের আর এক বিশেষত্ব বয়স্কদের জন্য স্পা। শয্যাশায়ী বৃদ্ধাদেরও স্পায়ের আনন্দ দেয় সীমার সংস্থা। শয্যাশায়ীদের নখ কেটে দেওয়া, মাথায় শ্যাম্পু করিয়ে দেওয়ার মত একগুচ্ছ প্রাত্যহিক প্রয়োজনও মেটায় নোমাডিক স্পালন। ভ্রাম্যমান এই স্পালন এক অভিনব উদ্যোগই নয়, একটা প্রয়োজন বলে মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।

নোমাডিক স্পালনের শিকড় কিন্তু লুকিয়ে আছে সীমা নন্দার শৈশবে। হায়দরাবাদের মেয়ে সীমার মায়ের একটা স্পা ও স্যালন ছিল। কিশোরী সীমা পড়াশোনার বাইরে অনেক সময়েই এই স্পায়ে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন। নানা কাজে মাকে সাহায্য করতেন। যদিও স্পাকেই পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। পড়াশোনা শেষ করে সীমা হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে পড়াশুনো করেন। তারপর এক হোটেল কর্মীকে বিয়ে করে চলে আসেন দিল্লি। ইন্টারকন্টিনেন্টাল, দ্যা পার্কের মত প্রথমসারির হোটেলে চাকরিও করেন বেশ কিছুদিন। কিন্তু ন’টা ছ’টার একঘেঁয়ে কাজ করতে করতে ক্রমশ সীমার এই কাজে অনীহা জন্মায়।

একরকম বিরক্ত হয়েই একদিন চাকরি ছেড়ে হেয়ার এণ্ড স্কিন কেয়ারের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন সীমা। কোর ওয়েলনেস লিমিটেড থেকে স্পা কনসালটেন্টের সার্টিফিকেটও পান। এদিকে এই সময়ের মধ্যেই সীমার মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর একবছরের মধ্যেই বাবাও মারা যান। কেউ না থাকায় হায়দরাবাদে মায়ের স্পায়ে সাটার পড়ে যায়। ছোটবেলার স্মৃতি বিজড়িত সেই স্পা বন্ধ হয়ে যাওয়াটা মনে মনে মেনে নিতে পারেনি সীমা। মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে শুরু করেন নতুন স্পা প্রোভাডো স্পা প্রাইভেট লিমিটেড।

স্পা চালাতে গিয়ে সীমা বুঝতে পারেন স্পায়ে আসার মত সময়টুকুও আধুনিক নারীর হাতে নেই। পাশাপাশি অনেককে বলতে শোনেন স্পায়ে যাতায়াতের জন্য বাড়তি সময় দেওয়াটা তাঁদের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছেনা। বরং নিজের বাড়িতে স্পা করতে পারলে তাঁরা বেশি খুশি হন। কিন্তু সে সুযোগ কোথায়?

ক্লায়েন্টদের এই ভাবনাই নাড়া দেয় সীমাকে। একটা নতুন কিছু করার পরিকল্পনা মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে। আধুনিক নারীর মন বুঝেই শুরু করে দেন হেঁটে চলে ঘুরে বেড়ানো একশো শতাংশ পেশাদার স্পা ও স্যালন। স্পা আর স্যালেনর যুগলবন্দি করে নাম দেন নোমাডিক স্পালন। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই যেন ছিলেন মহিলারা। ফলে সীমার নোমাডিক স্পালন জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছতে সময় নেয়নি। সীমার নিজের হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে নোমাডিক স্পালনের আড়াইশো করে নতুন ক্লায়েন্ট তৈরি হচ্ছে।

সীমার মতে, আমরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাই আমাদের বাবা-মায়েরা বৃদ্ধ হচ্ছেন। যেমন করে ছোটবেলায় তাঁরা আমাদের যত্ন নিয়েছেন, বৃদ্ধাবস্থায় তাঁরা আমাদের কাছ থেকে সেই যত্নটুকু আসা করেন। তাই বৃদ্ধাদের শারীরিক যন্ত্রনার উপশমেও নোমাডিক স্পালনের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করে। থেরাপিক মাসাজ থেকে শুরু করে নখ কাটা, চুলে শ্যাম্পু করে দেওয়ার মত কাজ করে থাকে নোমাডিক। শুধু বাড়িই নয়, বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও এই পরিষেবা দেয় সীমর সংস্থা। বয়স্কদের এই পরিষেবা দেওয়ায় তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন সীমা। কারণ বয়স্করা শিশুর মত হন। তাই তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের সাজানোর মধ্যে একটা অন্য আনন্দ আছে বলে মনে করেন তিনি।

এই বছরের মধ্যেই নয়াদিল্লির প্রতিটি কোণায় নোমাডিক স্পালনের পরিষেবা পোঁছে দিতে চান সীমা। শুরু করতে চান একটি বিলাসবহুল ডে স্পা। কাজ করতে চান বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে। চিকিৎসাধীন বয়স্ক রোগীদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাঁর দিক থেকে যতটা সম্ভব করতে চান সীমা। এই জেট গতির জীবনে যারা সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের আরও একটু খুশিতে ভরিয়ে তুলতে সীমার এই উদ্যোগ তারিফযোগ্য বৈকি!

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags