সংস্করণ
Bangla

ম্যারিয়ানেকে কথা কম, কাজ বেশি শিখিয়েছে #Slush

26th Nov 2016
Add to
Shares
4
Comments
Share This
Add to
Shares
4
Comments
Share

ঘটনা পরম্পরার জেরে মানুষের জীবন যে অন্য দিকে মোড় নিতে পারে, এ তেমন নতুন কোনও কথা নয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জীবনের গতিমুখ অভাবনীয়ভাবে সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে। ম্যারিয়ানে ভিকুলার ক্ষেত্রে এমনই ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ম্যারিয়ানে ভেবেছিলেন ভবিষ্যতে জিমন্যাস্ট হবেন। অথচ, তিনি বনে গেলেন ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে বড় টেক ইভেন্টের সিইও। নরডিক টেক ইভেন্ট slush এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। সানফ্রানসিসকো, সাংহাই, সিঙ্গাপুরেও আয়োজিত হচ্ছে স্লাশ।

image


২১ বছর বয়স পর্যন্ত ম্যারিয়ানের ধ্যানজ্ঞান ছিল জিমন্যাস্টিক। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ঢোকেন। সেই সময় অনুষ্ঠিত স্লাশে ওঁকে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপরেই ধীরে ধীরে ব্যাপারটি সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে পড়েন। আর অচিরেই তা ভালবাসায় পরিণত হয়। প্রসঙ্গত, স্লাশ হল স্টার্টআপ গুলি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান, যা প্রতি বছর হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর টেক স্টার্টআপ ও অন্যান্য ক্ষেত্রের স্টার্টআপ মিলিয়ে অন্ততপক্ষে ৩,৫০০ সংস্থা এতে অংশগ্রহণ করছে। অন্ততপক্ষে ১৫ হাজার উদ্যোগপতি প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দিচ্ছেন।

ম্যারিয়ানে বলছেন, এক সময় কখনওই ভাবেননি জিমন্যাস্ট ছাড়া অন্য কিছু করতে পারেন। তবে এখন তাঁর ভাবনাচিন্তা অন্য খাতে বইছে। স্টার্টআপ সংস্কৃতির ভালবাসায় পড়ে গেছেন তিনি। সংস্কৃতিটা আর কিছুই নয়, কথা কম, কাজ বেশি-র সংস্কৃতি।

হেলসিঙ্কি স্টার্টআপ কম্যুনিটিতে ম্যারিয়ানে এখন একটি নির্ভরযোগ্য নাম। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের স্টার্টআপ সমাবেশের আর্থিক দায়দায়িত্ব বা হিসাবনিকাশ রাখার দায়িত্ব বর্তেছিল ওঁর ওপর। দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যারিয়ানে। ৩০ নভেম্ভর এবং ১ ডিসেম্বর এবছর স্লাশ আয়োজিত হতে চলেছে হেলসিঙ্কিতে। এবছরের সমাবেশে তিনিই প্রধান। ম্যারিয়ানে বললেন, স্টার্টআপ গুলির বাড়বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত একজোট হয়ে দলীয়ভাবে কাজ করা। ব্যাপারটা অনেকটা জিমন্যাস্টিকেরই মতো। তবে প্রথমদিকে স্লাশের মতো বড় ইভেন্টের গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খানিকটা ঘাবড়ে যেতাম। পরে ধাতস্থ হয়ে গেলাম। কেননা, আমি উপলব্ধি করলাম যে, আমি নিজেই সবজান্তা নই। এখনও আমার অনেক কিছু শেখার আছে।

image


স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিষয়টির ভিতর নতুন করে অনেক কিছুই লক্ষ্য করেছেন ম্যারিয়ানে। বললেন, লক্ষ্য করে দেখেছি, টেক স্টার্টআপ চালাতে মেয়েরা এখনও অনাগ্রহী। মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ টেক স্টার্টআপ মহিলা পরিচালনাধীন। বাকিটা এখনও পুরুষদের এক্তিয়ারে। এ ছাড়া, টেক ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা থাকে তুলনায় অনেকই কম।

কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যায়, সে ব্যাপারেও নিদান দিয়েছেন ম্যারিয়ানে। তিনি বলছেন, মেয়েদের বেশি বেশি করে ম্যানেজমেন্ট বা প্রযুক্তি পঠনপাঠনে আগ্রহী করে তোলাটা খুবই জরুরি। এটা করতে পারলে ভবিষ্যত পাল্টাবে।

এ বছরের স্লাশ নিয়ে খুশি ম্যারিয়ানে। প্রায় ৩০০ বিনিয়োগকারী এবারের স্লাশে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সিলিকন ভ্যালি থেকেও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখতে আসছেন। প্রসঙ্গত, সিলিকন ভ্যালি এই প্রথববার স্লাশে অংশগ্রহণ করছে। স্লাশের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যারিয়ানে জানিয়েছেন, স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে জোরালো করার কাজই স্লাশের মুখ্য উদ্দেশ্য। তবে স্লাশ ক্রমশ আন্তর্জাতিক হয়ে উঠছে। টোকিও, সাংহাই, সিঙ্গাপুরেও সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ম্যারিয়ানে বলছেন, স্লাশকে কিন্তু আন্তর্জাতিক কোনও ব্র্যান্ড হিসাবে পরিচিতি লাভ করানোটা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তবে তাঁরা চান, স্থানীয় স্তরে স্টার্টআপগুলি যেন বিকাশ লাভ করতে পারে। আর সারা পৃথিবী জুড়েই এই কাজটা করা যায়। আদতে স্লাশ একটি অলাভজনক আন্দোলন। এই উদ্দেশ্য যে অনেকটাই সফল তার প্রমাণ টোকিও। টোকিওতে আয়োজিত স্লাশ ‌ইভেন্টে যোগদানকারী প্রতিনিধির সংখ্যা ৪ হাজার। ৪০০ জাপানি ছাত্র এই ইভেন্টে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেছেন।

ম্যারিয়ানে জানিয়েছেন, নরডিক মানসিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে শিক্ষিত হয়ে ওঠা। আদতে এ ভাবেই সব কিছু এগোয়। আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগ সত্যিসত্যিই নির্মাণ করতে চান, তাহলে এ ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনও পথও নেই।

Add to
Shares
4
Comments
Share This
Add to
Shares
4
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags