সংস্করণ
Bangla

বোবাদের মুখে কথা ফোটাবে ইন্দ্রনীলের ধ্বনি

patralekha chandra
26th Jan 2016
  • Share Icon
  • Facebook Icon
  • Twitter Icon
  • LinkedIn Icon
  • Reddit Icon
  • WhatsApp Icon
Share on

বোবারাও এবার কথা বলতে পারবেন। এমনই অবাক করা যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেললেন তরুণ বিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল চন্দ্র। মুম্বই এর Veermata Jijabai Technological Institute এর বি টেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রনীল বছর খানেকের চেষ্টায় অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন। আবিস্কার করে ফেলেছেন ‘Dhvani’ নামে একটি যন্ত্র। যার সাহায্যে প্যারালাইসিসে আক্তান্ত হয়ে নড়াচড়া করতে পারেন না এবং যাদের বাকশক্তি নেই তারা মনের কথা সহজেই জানাতে পারবেন। এই আবিষ্কারের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এর হাত থেকে পুরষ্কারও পেলেন ইন্দ্রনীল।

image


বর্ধমানের মেমারির সারদাপল্লীর এই ছেলে ছোটবেলা থেকেই ভীষণ মেধাবী। গ্রামেই পড়াশুনো শুরু। বাবা ধানু চন্দ্র কর্মসুত্রে মুম্বইয়ের থানেতে বদলি হয়ে যান। সেই থেকে ইন্দ্রনীল মুম্বইকর। মনে মনে ষোলোআনা বাঙালি। আঠেরো আনা বর্ধমানের ছেলে। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন এমন কিছু বানাবেন যা দেখে দুনিয়ার তাক লেগে যাবে। ঘাঁড় গুঁজে ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতি নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন ইন্দ্রনীল। বিজ্ঞান ওকে টানত। পাল্সবিট... ব্ল্যাকহোল... চোখের চশমা... আতস কাঁচে রোদ জড়ো করার মজার খেলা খেলতেন। আর পাঁচটা শিশুর মতো খেলতে খেলতেই ভাবতেন অসাধ্য সাধন করবেন। করেও ফেললেন একদিন। যত বড় হলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ল। চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহ নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের যন্ত্র আবিস্কারের আগ্রহ। ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলেছেন মানব শরীরে ক্ষতস্থানের রক্ত সঞ্চালনের মানচিত্র তৈরির যন্ত্র। যারা দেখেছেন চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে এবারের যুগান্তকারী আবিষ্কার। যা কেউ কোনওদিন কল্পনাও করতে পারেননি সেটাই করে দেখিয়েছেন এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী।

ইন্দ্রনীলের ‘Dhvani’ নির্বাক মানুষকে ফিরিয়ে দেবে স্বর। বোবারাও কথা বলতে পারবেন। এমন একটি যন্ত্র যা বেল্টের সাহায্যে মাথায় লাগিয়ে রাখতে হবে। সামনে থাকবে একটি এলসিডি স্ক্রিন। সঙ্গে কানে হেডফোন। মুখের সামনে থাকবে মাইক্রোফোন। এলসিডি স্ক্রিনে দেখা যাবে অ্যালফাবেট । ব্যবহারকারী অ্যালফাবেট দেখে মাইক্রোফোন এর সাহায্যে ফুঁ বা নিশ্বাসের মাধ্যমে তা সিলেক্ট করে বাক্য গঠন করবে। আর সেটা mp3 ফাইল হয়ে সাউন্ড সিস্টেম এ শোনা যাবে। এভাবেই একজন কথা না বলতে পারা মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন। এই যুগান্তকারী আবিস্কারে নড়ে চড়ে বসেছে গোটা মহারাষ্ট্র। ২৬ জানুয়ারি পুরস্কৃত করা হল এই খুদে বিজ্ঞানীকে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে এই যন্ত্র কিভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গেছে। কিন্তু ইন্দ্রনীল কোনও কোম্পানিকে তাঁর আবিষ্কার বিক্রি করে দিতে চান না। বরং নিজেই একটি কোম্পানি খুলে তার প্রডাক্ট মার্কেটিং করতে চান। এভাবেই খুদে বিজ্ঞানীর এই কাহিনি একজন উদ্যোগপতির শুরুয়াতি কথা হয়ে উঠল এভাবেই।

কিন্তু কোম্পানি খোলা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। প্রচুর খরচ। খুব ভালোই জানেন ইন্দ্রনীল। তবু তার যন্ত্রের দাম সাধ্যের মধ্যেই রাখতে চান সব দিক ভেবে চিনতে হিসেব করে পা ফেলছেন এই যুবক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শিগগিরই বাজারে আসবে ইন্দ্রনীলের‘Dhvani’।

  • Share Icon
  • Facebook Icon
  • Twitter Icon
  • LinkedIn Icon
  • Reddit Icon
  • WhatsApp Icon
Share on
Report an issue
Authors

Related Tags