সংস্করণ
Bangla

ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সারফিং শেখাচ্ছেন মার্কিন কোচ ‘সারফিং স্বামী’

আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সারফিং-এর এক আশ্চর্য মেলবন্ধন করিয়েছেন জ্যাক হেবনার নামের এক মার্কিন। ভারতের প্রথম সারফিং ক্লাবের উদ্বোধন তাঁর হাত ধরেই। বর্তমানে সারফিং ছাড়াও পর্বতঅভিযানের নানা কৌশল শেখাচ্ছেন তাঁরা।

11th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

জ্যাক হেবনার। ১৯৭২ সালে ভারতে এসেছিলেন আধ্যাত্মিকতার সন্ধানে। তারপর থেকে আধ্যাত্মিকতাতেই নিজের জীবনের বিশ্বাস খুঁজে পান তিনি। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর জীবনে অ্যাডভেঞ্চারের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটে। পাহাড় আর সমুদ্রের দুর্লঙ্ঘ বাধা পেরিয়ে মুক্তির এক অনাবিল আনন্দ। তারপর থেকেই তাঁর নাম হয়ে ওঠে ‘সারফিং স্বামী’।


image


আমেরিকার ‘জ্যাকসনভিলা’ থেকে ভারতে এসেছিলেন জ্যাক। প্রায় ৫০-এরও বেশি বয়স ধরে সারফিং-ই তার জীবনটাকে বদলে দিয়েছে। ভারতে সারফিং কোনদিনই খুব জনপ্রিয় খেলা নয়। এত বড় উপকূল থাকা সত্ত্বেও কোথাও এই খেলাটিকে নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। জ্যাকের খুব অবাক লাগে ব্যাপারটা। এত সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র যেখানে, সেখানে কী করে ‘সারফিং’-এর মত এত জনপ্রিয় খেলার কোনও চিহ্ন নেই!

২০০৪ সালে দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকজনকে নিয়ে ‘সারফিং স্বামী’ ম্যাংগালোরে খুলে ফেলেন ছোট একটি সারফিং ক্লাব। ভারতের প্রথম সারফিং ক্লাব ‘মন্ত্র সারফ ক্লাব’। সেই সময় আট বছরের এক ছেলে রামমোহন সারফিং শিখতে শুরু করে। আজ ইয়োরস্টোরির মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই রামমোহন। বিশ্বের বিভিন্ন ম্যাগাজিনে যেসব ছবি ছাপা হয়েছে, সেইসব ছবিও দেখালেন আমাদের। জানালেন, ম্যাংগালোরে প্রধান কার্যালয় থাকলেও প্রায়ই সারফিং-এর জন্য তাঁদের চেন্নাই যেতে হয়। ‘মন্ত্র সারফিং ক্লাব’-এর উদ্দেশ্য সারফিং-এর মাধ্যমে সামুদ্রিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে উপলব্ধি করা।

সারফিং-এর উদ্দেশ্যে এই ক্লাব তৈরি করা হলেও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কাজকর্মের মধ্যে দিয়েই দিনটি শুরু করেন তাঁরা। জ্যাক তাঁর ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ভোর ৪টের সময় উঠে স্নান শেষে ধ্যানে বসা। এরপর শুরু হয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা। সেটি শেষ হলে পুজো। যাকে তাঁরা বলেন মহা মন্ত্র কিংবা কৃষ্ণমন্ত্র। যে কেউ এই ক্লাবে থেকে সারফিং শিখতে পারেন। একসঙ্গে ৬ থেকে ৮ জন এই ক্লাবে থাকতে পারেন। ক্লাবের অর্থখাতে যাতে কখনও টানাটানি না পরে তার জন্য এঁরা ওয়েব ডিজাইন শেখান, এমনকী নারকেলও বিক্রি করেন। রামমোহন জানিয়েছেন, তাঁরা অনলাইনে সারফিং-এর সমস্ত জিনিস বিক্রি করেন। ২০০৪ সালে ‘সারফিংইন্ডিয়া.নেট’ তৈরি করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বহু মানুষ তাঁদের অনুরোধ পাঠান সারফিং শেখানোর জন্য।


image


সারফিং শেখানোর জন্য পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। সারফিং নিয়ে বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে সারফিং-প্রিয় মানুষ এসে জড়ো হন। জ্যাক নিজের ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, ‘আমরা মানুষকে শেখাই কীভাবে পরিবেশকে সম্মান করতে হয়।’ নদী হোক, কিংবা পর্বত, জঙ্গল বা সমুদ্র সব কিছুই দূষণমুক্ত রাখা উচিৎ। আপাতত ‘সারফিং স্বামী’র উদ্যোগে মেক্সিকোর পাহাড়ে নতুন প্রোজেক্ট শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে সারফিং ছাড়াও ‘কায়াকিং’, ‘র্যা ফটিং’, ‘র্যা পেলিং’, ‘ট্রেল বাইকিং’ও শেখাচ্ছেন তাঁরা।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags