সংস্করণ
Bangla

স্বপ্ন ছুঁতে প্রেরণা উজ্জ্বলা

7th Sep 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

নভি মুম্বই এবং থানে এলাকায় নির্মান ব্যবসায় ‘হাওয়ারে গ্রুপ’এর নাম যথেষ্ঠ পরিচিত। ১৯৯৫ সালে শতীশ হাওয়ারে সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণ মানুষের সাধ্যের কথা মাথায় রেখে বাড়ি তৈরি করাই হাওয়ারের ট্রেড মার্ক। নির্মান ব্যবসায় ৭৫০ কোটির এই সংস্থা দেশের প্রথম ১০টির মধ্যে একটি। মহারাষ্ট্রের পালগড় এবং কারজাতের মতো জায়গাতেও নানা নির্মান প্রকল্প রয়েছে হাওয়ারের।

যারা নির্মান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা জানেন ২০০৫ এ ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ যখন একেবারে সাফল্যের শীর্ষে ছিল ঠিক তখন সংস্থার কর্নধার শতীশ হাওয়ারের অকাল প্রয়াণ হয়। সেই সময় তিনি শুধু একটা সমৃদ্ধ ব্যবসাই ছেড়ে যাননি, ওই সংস্থা অনেকের রুজি রুটির সংস্থান ছিল, ছেড়ে গিয়েছিলেন উদ্যোক্তা হিসেবে বড় লক্ষ্য ছোঁয়ার স্বপ্নকেও।

উজ্জ্বলা  হাওয়ারে

উজ্জ্বলা হাওয়ারে


উজ্জ্বলা হাওয়ারে দুই সন্তানের মা, সুখী গৃহবধু হলেও মাঝে মাঝে কর্তার অফিসে যেতেন ‘কারণ শতীশ চাইতেন না আমি শুধু ঘরের কাজ সামলাই’। উজ্জ্বলা নিজেও একজন প্রশিক্ষিত স্থপতি।পরিস্থিতির চাপে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হয় তাঁকে। স্ত্রীই একমাত্র সঙ্গী ছিলেন যার সঙ্গে শতীশ তারা ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতেন। স্বামীর সঙ্গে এই আত্মীক যোগই উজ্জ্বলাকে শতীশের মৃত্যুর বারো দিনের মাথায় তাঁর স্বপ্ন সফলের দায় কাঁধে তুলে নিতে সাহস যুগিয়েছিল। মাত্র সাত দিন আগে সন্তানের জন্ম দিয়েই সদ্য মা কে মাতৃত্বের চেয়েও বড় দায়িত্ব হিসেবে ব্যবসাকেই বেছে নিতে হয়। ২০০৫ এ সংস্থার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে উজ্জ্বলা শুধু সাফল্যের সঙ্গে স্বামীর স্বপ্ন সফলই করেননি, এমন এমন জায়গায় নতুন প্রকল্প করছেন যেখানে এর আগে ‘হাওয়ারে’ আগে যায়নি।

সম্প্রতি স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেছিলেন উজ্জ্বলা । আর্কিটেকচারাল কলেজে শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তখনই বিয়ে হয় শতীশ হাওয়ারের সঙ্গে। মারাঠি কাগজে পাত্রী চাই-এর একটি বিজ্ঞাপন দেখে স্থাপত্য পড়ুয়া মেয়ের সম্বন্ধ ঠিক করেন উজ্জ্বলার বাবা-মা। বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল, ‘নভি মুম্বইয়ের বিখ্যাত স্থপতির জন্য বিদর্ভের স্থপতি কনে চাই’। উজ্জ্বলার স্বামী শতীশের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি নিয়ে নিজের লেখা বই ‘অ্যান্ড সো হি লিভড অন’-এ স্বীকার করেছেন, এই বিয়েটাকে তিনি জুয়া খেলার মতো করে নিয়েছিলেন। ভাগ্য সহায় ছিল,তাই যেমনটা চেয়েছিলেন তেমনই হয়েছে। উজ্জ্বলা তাঁর স্বপ্নের পুরুষের খোঁজ পেলেন এবং ধীরে ধীরে শতীশকেআরও যত জানলেন তাঁর মধ্যেকার নানা দিক উজ্জ্বলাকে মুগ্ধ করে দিয়েছিল। শতীশ শুধু তাঁকে উৎসাহই দিতেন না, উজ্জ্বলাকে তিনি নিজের এবং কাজের অংশীদার ভাবতেন। ফলে নতুন বউয়ের অফিস যাওয়া শুরু হল এবং প্রথম থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের নকশার কাজ দেখাশোনা করতেন। মেয়ের জন্মের পর সংসারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। অফিস যাওয়া সাময়িক বন্ধ হল। যেটা বন্ধ হল না সেটা হল ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ নিয়ে শতীশের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা আলোচনা। স্বামীর সঙ্গে নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে সেই দীর্ঘ সময়ের আলোচনাগুলিই কলেজে শেষ বর্ষের থিসিসের জন্য উজ্জ্বলাকে ‘Housing approaches for the homeless’ (গৃহহীনদের জন্য ঘর) বিষয় বাছতে সাহায্য করেছিল। স্বামী শতীশও শেষবারের মতো একটি প্রকল্প বেছেছিলেন নিম্নবিত্তদের কথা মাথায় রেখে । উজ্জ্বলা মানেন, শতীশের না থাকার যন্ত্রণা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত-শতীশ যেভাবে তাঁর সম্পর্কগুলি সামলাতেন, তাঁর কাজ করার ধরণ, জীবনের প্রতি অসম্ভব বালোবাসা-সব উজ্জ্বলার কাছে তখন এক একটা যন্ত্রণা। ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি, এত ভালো মানুষের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল’, বলেন উজ্জ্বলা।

শতীশ এবং উজ্জ্বলা দুজনেই মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। তাঁদের জেদই ‘হাওয়ারে গ্রুপ’কে এতটা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিল্ডার হওয়ার আগে শতীশ স্থপতি ছিলেন এবং নানা কাজ করতে গিয়ে ভালো যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল তাঁর। এবার নিজে যখন ব্যবসা শুরু করলেন তখন পূর্ব পরিচিতরাই তাঁর উপর ভরসা রাখলেন। ‘আমাদের প্রথম প্রকল্প ছিল খড়ঘর। কিছু ছিল না, শুধু একটা ফাঁকা জমি। এমনকী বর্ষাকালে প্রজেক্ট সাইটে যাওয়াও ছিল দুষ্কর।কারণ কোনও রাস্তা ছিল না’, তাঁদের প্রথম প্রকল্প নিয়ে বলছিলেন উজ্জ্বলা। সেই সময় জমি সস্তা হলেও হাওয়ারে দম্পতির একলপ্তে অত জমি কেনার টাকা ছিল না। কিন্তু শতীশের পুরনো যোগাযোগগুলি খুব সাহায্য করেছিল। ‘শতীশ মানুষের সঙ্গে ভালো মিশতে পারতেন, খুব কথা বলতেন আর নিমেষে মানুষের মন জয় করে নিতে পারতেন। খুব নির্ভরযোগ্য ছিলেন, বিশেষত সেই সময়, যখন নির্মাতারা মানুষের টাকা মেরে পালিয়ে যাচ্ছিল। শতীশকে কিন্তু লোকে বিশ্বাস করত তাঁর সততার জন্য’, বলছিলেন উজ্জ্বলা। ঝুঁকি নেওয়ার ভীষণ ক্ষিদে ছিল শতীশের। উজ্জ্বলা বলেন,শতীশের ওই গুণটাই তাঁকে সবার চাইতে আলাদা করেছিল। ‘শতীশ খুব ঝুঁকি নিতে জানতেন। কারণ ওর নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল, নিজের শিক্ষার ওপর বিশ্বাস ছিল। উনি ভেবেছিলেন, ‘বিল্ডার হিসেবে যদি হেরে যাই কোনও ব্যাপার না, আবার স্থপতি হিসেবে কাজ শুরু করব’। উনি ভাবতেন, ওর কিছু হারানোর নেই’, বলেন উজ্জ্বলা। উজ্জ্বলা নিজেও যেহেতু স্থপতি, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সামনে যাই বাধা আসুক না কেন একসঙ্গে মোকাবিলার জন্য তৈরি ছিলেন। ‘উনি খুব ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। সিদ্ধান্ত নিতে যেমন পারতেন, তেমনি কীভাবে সিদ্ধান্তকে কাজে পরিনত করা যায় তাও জানতেন’, বলেন ‘হাওয়ারে গ্রুপ’এর বর্তমান চেয়ারপার্সন উজ্জ্বলা। শতীশ যেভাবে ভবিষ্যৎ ভাবতেন সেটা সবাইকে উজ্জীবিত করত, উপলব্দি উজ্জ্বলার।

image


শতীশের আরেকটি গুন হল সমাজসেবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা। শতীশ ব্যক্তিগতভাবে ১৯৯৩ এ লাতুরের ভূমিকম্প এবং ২০০৪ সালে চেন্নাইয়ে সুনামির পর উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধার কাজে অংশ নেন। ‘কাজের ৪৫ বছর পূর্তির পর তিনি ব্যবসার ভার অন্য কাউকে দিয়ে নিজে চিকালদারা এবং বিদর্ভর আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করতে চেয়েছিলেন’, উজ্জ্বলা জানান। এখনও ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ নভি মুম্বই, ঠানে এবং মুম্বইয়ে বই ব্যাঙ্ক এবং শিক্ষা কেন্দ্র চালায়। এমনকী সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ির যে ধারণা, যার জন্য হাওয়ারে গ্রুপের এত পরিচিতি, তাও এসেছিল সবার জন্য বাড়ি দেওয়া সম্ভব করে তোলা থেকে।

শতীশ সবসময় খেয়াল রাখতেন যাতে উজ্জ্বলার কোনও সমস্যা না হয়। এবং বলা ভুল হবে না, তিনি স্ত্রীকে সবকিছুতে পশ্রয়ই দিতেন। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার শতীশ যখন মারা যান, সেই রূঢ় বাস্তবকে গ্রহণ করা উজ্জ্বলার কাছে হৃদয় বিদারক ছিল। কিন্তু দুজনের মধ্যে মনের যে বাঁধন ছিল সেটাই উজ্জ্বলার মধ্যে একটা তাড়না তৈরি করছিল। ফলে চোখের জল মুছে দুজনের স্বপ্নের ব্যবসার ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন শাকাহত স্ত্রী।

‘শতীশের সঙ্গে আমি যতটুকু সময় কাটিয়েছি, সেই স্মৃতি আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগায়। খুব ভালো মানুষ ছিলেন, অনেক ভালো গুন ছিল তাঁর মধ্যে। আমরা দুজনেই স্বপ্ন এবং লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করতাম। উনি যাই করতে চাইতেন আমি উৎসাহ নিয়ে বসে থাকতাম দেখার জন্য কবে সফল হবে। তাই ওর মৃত্যুর পর আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না সব জেনেও সেই স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়নের পথ থেকে সরে যাওয়া। ওর স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলাম। যেহেতু দুজনের মধ্যে সব ভাবনার আদান প্রদান ছিল, শতীশ কী ভাবতেন আমি জানতাম, তাই বোধহয় ওর মৃত্যুর পর যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি শোক কাটিয়ে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম, উঠে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। এবং আমি ঠিক করি আর কাঁদব না’, বলেন উজ্জ্বলা। সেই সময় পরিবারই একমাত্র সাহস যুগিয়েছিল উজ্জ্বলাকে। কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছিলেন শ্বশুর-শাশুড়ি এবং বাবা-মাকে। উজ্জ্বলা স্বীকার করেন শতীশের মৃত্যুর পর সবকিছু সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে এবং শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। ‘অনেকে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগেরই তিরের লক্ষ্য ছিলাম আমি। তাই অনেক কোর্ট কেস, ক্রিমনাল কেস লড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, এই সবই ব্যবসার অংশ এবং ইশ্বরের আশীর্বাদে এই সবের মুখোমুখি হওয়ার শক্তি আমার আছে’, তিনি বলেন। এতকিছুর পরও একবারও পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি উজ্জ্বলা। তার কারণ, শুধু স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করাই নয়, দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মহিলারা কী ধাতুতে তৈরি সেটাও। ন্যানো হাউসিং (ছোট ছোট বাড়ি)এর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন শতীশ। এখানে সাধারণত এক কামরার ঘরের আকার সাধারণ মাপের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। ফলে ঘরের দামও ২৫ শতাংশ কমে যায় এবং ক্রেতাদের সাধ্যের নাগালে চলে আসে। যখন তাঁরা ব্যবসা শুরু করেন তখন নভি মুম্বইয়ে এক কামরার ফ্ল্যট তৈরি করত না কোনও বিল্ডার। এই সমস্যা নিয়ে ভাবেন শতীশ এবং ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ ক্ষমতার মধ্যে বাড়ি নিয়ে হাজির হয়। ‘১৯৯৫ সালে মন্দার আগে ব্যাপক বৃদ্ধি হচ্ছিল, তারপরই মন্দা নামে। সিবিডি বেলপুরের মতো জায়গায় শুধু বড় বড় ফ্ল্যাট ছিল। যখন মন্দা শুরু হয় তখন ফ্ল্যটগুলি দীর্ঘদিন অবিক্রিত পড়ে ছিল’, উজ্জ্বলা জানান। হাওয়ারে গ্রুপ কিন্তু তখনও ব্যবসা করে যাচ্ছিল মফস্বলের দিকেও। পাটগায় তাদের একটা প্রকল্প ‘নিস্বর্গ’ বুকিং ঘোষণার দুদিনের মধ্যে সব ফ্ল্যট বিক্রি হয়ে যায়। ৫৫০ টি ফ্ল্যট ছিল ওই প্রজেক্টে। এখন হাওয়ারে গ্রুপের প্রজেক্ট রয়েছে ঠানে, মুম্বই, পালঘর এবং কারজাতে। উজ্জ্বলা নিপুণ দক্ষতায় সেগুলি সামলাচ্ছেন। ‘শ্রমিক’এর মতো আরও একটা প্রজেক্ট বানানোর স্বপ্ন রয়েছে উজ্জ্বলার। খড়ঘরে এমন একটি প্রজেক্ট করেছিলেন শতীশ। ‘খড়ঘরে আমাদের ‘শ্রমিক’ প্রজেক্টটি বেশ ভালো। মূলত হকার, অটোরিকশাওয়ালা, বাড়ির পরিচারিকারা যাদের টাকা আছে অথচ মাইনের রশিদ না থাকায় ব্যংক লোন দিতে চায় না তাদের কথা ভেবেই মূলত তৈরি’, উজ্জ্বলা বলেন। এই শ্রেণির মানুষের জন্য ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ ১আরকে (ভাড়ার ঘর) এর ২০০ ঘর তৈরি করেছে যার প্রতিটির দাম ২ লাখ করে। নিজেদের আর্থিক সংস্থা থেকে তাদের আবার লোনও দেয় হাওয়ারে। উজ্জ্বলা গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘সবাই লোনের টাকা সময়মতো পরিশোধ করেছেন। বাড়িঘরের দাম এত বেড়ে গেল যে ওই দামে আর ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ওই রকম প্রজেক্টও আর করতে পারলাম না। কিন্তু ভবিষ্যতে আরও শ্রমিকের মতো প্রজেক্ট করতে পারলে খুশি হব, কারণ এটাই আমরা করতে চাই’, বলেন উজ্জ্বলা।

এখনও পর্যন্ত ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ ৪৫০০০ পরিবারকে বাসস্থান দিয়েছে। মহিলা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম দিকে উজ্জ্বলাকে কেউ পাত্তা দিতে চায়নি। এমনকী অনেকে ঠকানোরও চেষ্টা করছে। এখন ওই সব ঘটনা ইতিহাস। ‘হাওয়ারে গ্রুপ’ এখন চেয়ারপার্সনের হাত ধরে মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা নির্মান সংস্থা। ব্যবসা ভালো চললেও, একটা জিনিস তাঁকে খুব কষ্ট দেয়। সেটা হল, ব্যবসা সামলাতে গিয়ে ছেলেমেয়েদের খুব একটা সময় দিতে পারেননি উজ্জ্বলা। ‘আমি সন্তানদের জিজ্ঞেস করেছি বড় হয়ে কী হতে চায়। আমার মেয়ের জবাব ছিল ‘গৃহবধূ’। তার অনেক বন্ধুর মা গৃহবধূ, তাঁরা সন্তানদের সময় দেন। সেই কারণেই মেয়ে গৃহবধূ হতে চায়’, হাসেন উজ্জ্বলা। এত ব্যস্ততার মধ্যেও যখনই সময় পান পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান ‘হাওয়ারে গ্রুপ’এর মালকিন। বছরে দুবার ছুটিতে যান। যখন সম্ভব হয় বাড়ির সবাইকে নিয়ে পিকনিক করেন।

কাজ এবং পরিবার দুটি ক্ষেত্রই উজ্জ্বলা দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন। কর্মক্ষেত্র উজ্জ্বলা চান ‘হাওয়ারে গ্রুপ’কে মহারাষ্টের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে। দেশের মধ্যে পরিচিত পেতে চায় হাওয়ারে। আমরা উজ্জ্বলার সাহস আর জেদকে সম্মান জানাই। সফল হোন, আরও এগিয়ে যান উজ্জ্বলা হাওয়ারে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags