সংস্করণ
Bangla

বেহালার চন্দনবাবুর অতি উত্তম সংগ্রহশালা

21st Mar 2017
Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share

ডাকটিকেট, কয়েন, পুরাকীর্তি সংগ্রহ-হরেক রকম নেশা মানুষের। মনের খোরাক জোগাতে কেউ ছবি আঁকেন, কেউ শখের গায়ক, এক আধটু লেখাটেখা অথবা কেউ বই পড়ে আনন্দ খোঁজেন অবসর সময়ে। কিন্তু মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতি সংগ্রহের নেশাও যে মনের খোরাক হতে পারে চন্দন গঙ্গোপাধ্যায়কে না দেখলে হয়ত জানাই যেত না। মহানায়ককে আঁকড়ে ধরে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান বেহালার এই বাসিন্দা। উত্তমপ্রেমী এই মানুষটি সারা জীবন ধরে নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন উত্তম সংগ্রহশালা।

image


এক্কেবারে অন্ধভক্ত যাকে বলে। উত্তমকুমারের একনিষ্ঠ ফ্যান বন্দরের এই প্রাক্তন কর্মী। মহানায়ক নিজেও একসময় বন্দরে চাকরি করতেন। ‘উনি মারা যাওয়ার পরপর নিজের বাড়িতে এই সংগ্রহশালা গড়ে তোলার কাজে হাত দিই’, বলছিলেন চন্দন গঙ্গোপাধ্যায়। কী নেই তাঁর সংগ্রহে। ‘হরেক পোস্টার, অবশ্যই উত্তম সম্বন্ধীয়, সিনেমার টিকিট, ছবির বিজ্ঞাপন,আমন্ত্রণপত্র, উত্তমকুমারের নানা মুডের দুষ্প্রাপ্য সব ছবি কখনও সহশিল্পী, পরিচালক, ইউনিটের লোকজনের সঙ্গে, কোনওটি সুপ্রিয়াদেবী পরিবারের সঙ্গে অথবা স্ত্রী গৌরীদেবীকে সঙ্গে নিয়ে’, বলার সময় তৃপ্তির আনন্দে চোখ চকচক করে ওঠে চন্দনবাবুর। প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে চলছে উত্তম সংগ্রহশালা গড়ে তোলার কাজ। কখনও ছুটে গিয়েছেন সমকালীন বিখ্যাত সব অভিনেতা, অভিনেত্রী, গায়ক, গায়িকাদের কাছে। সেই সূত্র ধরেই মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্রদের পাশাপাশি অপর্ণা সেন, প্রসেনজিতদের কাছে গিয়েছেন । লিখিয়ে নিয়ে এসেছেন উত্তম সম্পর্কে তাঁদের অভিমত।

এক, দু দিনে এই সংগ্রহশালা তৈরি হয়নি তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন মিউজিয়ামকে। মহানায়কের প্রচুর দুঃস্প্রাপ্য ছবির সঙ্গে রয়েছে শেষ দৃশ্যের ছবিও। সেই ছবি সম্পর্কে সুমিত্রা দেবীর মন্তব্যও জোগাড় করেছেন চন্দনবাবু। ওগো বধু সুন্দরীতে এই দৃশ্যতে অভিনয় করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মহানায়ক। তারপর চিরনিদ্রায়। মহানায়কের শেষযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। চন্দনবাবুর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখলে সেইদিনের প্রতিটি মুহূর্ত জীবন্ত হয়ে উঠবে চোখের সামনে।

চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক দিন। উত্তম সংগ্রহশালাই এখন একমাত্র ধ্যানজ্ঞান বেহালার এই মানুষটির। যেখানে খোঁজ পান ছুটে যান উত্তমকুমারের ছবি, পোস্টার বা সংগ্রহে রাখার মতো নানা জিনিসপত্র যোগাড় করে জমা করেন নিজের বাড়িতে। মহানায়ক উত্তমকুমারের সেরা সময় থেকে চড়াই উৎরাই, মৃত্যু দিন পর্যন্ত নানা অজানা কাহিনী জানতে হলে চন্দনবাবুর এই মিউজিয়াম ঘুরে আসতেই হবে।

Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags