সংস্করণ
Bangla

নাম চোর হইতে সাবধান, বলছেন মেহেক

YS Bengali
24th Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

পাড়ার ঘেয়ো কুকুরের নাম লালু। আবার মানুষের নামও তাই। নাম নিয়ে ব্রিটিশরা বোধহয় সবচেয়ে উদাসীন। হ্যারি, উইলিয়াম, মিশেল, চার্লসের মতো গোটা পনেরো নাম নিয়ে ওরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অন্নপূর্ণা হোটেলই বা কম কীসের। ধর্মতলায়ও পাবেন, আবার মানকুণ্ডুতেও। হয়তো এদ্দুর শুনে অনেকেই বলতে পারেন নামে কী এসে যায়। পরিচয় তো কাজে।


image


‘দুনিয়া খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। কোনও সংস্থা যদি ব্র্যান্ড নেম নিয়ে উদাসীন থাকে তবে সে ডুববে। মনে রাখতে হবে নামের মধ্যেই থাকে সাফল্যের বীজ। এভরিথিং ইজ ইন দ্য নেম।’ এক নাগাড়ে বলে গেলেন কর্পোরেট কন্যা মেহেক ছাবরা। কুইককোম্পানিডটকম-এর কনটেন্ট হেড। সংস্থার ব্র্যান্ড নেম গড়ে তোলার পদ্ধতি নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্য দেশ-বিদেশে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নাম মাহাত্ম্য বোঝাতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনলেন মেহেক। কলেজে পড়ার সময় মেহেকের ক্লাসে মণিকা নামের মেয়ের সংখ্যা ছিল ৯ জন। অনিবার্যভাবে ভ্রান্তিবিলাস। একে ডাকলে ও ছুটে আসে। একয় মণিকাকে পড়া বলতে বললে উত্তর দেয় অন্য মণিকা। এর মধ্যে অন্য এক মেয়ের নাম ছিল অনিভিন্দ। যার অর্থ যে সফল হতে চায়। মেহেকের কথায়, ‘অনিভিন্দের নামটা যেন ওর ব্যক্তিত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ও হয়ে ওঠেছিল ভিড়ের মধ্যে আলাদা।’

ভিড়ের মধ্যে থেকেও নিজেকে আলাদা করে চেনাতে হলে ব্র্যান্ড নেম-কে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। নাম হতে হবে আকর্ষণীয়। সঙ্গে চাই এমন এক লোগো যা একবার দেখলে দেখতে ইচ্ছে করবে বারবার। কর্পোরেট দুনিয়াকে পরামর্শ দিয়ে মেহেক বলেন, আমাদের দেশের অনেক মানুষেরই অক্ষর জ্ঞান নেই। আকর্ষণীয় লোগো দেখে তাঁরা পণ্য কিংবা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে মনে রাখেন।

কিন্তু ব্র্যান্ড নেম ছড়িয়ে দিতে হলে ঠিক কী কী করা দরকার। এ এক চিরন্তন প্রশ্ন। মেহেকের দাওয়াই ওয়াশিং পাউডার হোক বা অন্য কিছু যত বেশি পারেন ব্র্যান্ড নেমকে তুলে ধরুন। সাধারণ মানুষকে জানানো দরকার যে আপনার সংস্থার উদ্দেশ্য কী? সংস্থাটি কি চায়? ব্র্যান্ড নেম যদি ক্রেতার মাথায় গেঁথে দেওয়া যায় তবে কাজ অনেকটাই শেষ। তখন ক্রেতাই সেই নাম নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে।

পৃথিবীর বুকে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দাগিয়ে রেখেছেন, তাঁদেরকে সকলেই নাম দিয়েই চেনেন। অতএব নাম চোর হইতে সাবধান। মেহেকের সতর্কবার্তা তামাম কর্পোরেট দুনিয়ার জন্য। কখনও দেখা যাচ্ছে দুই কোম্পানির নামে মিল, লোগোয় মিল। মেহেকের পরামর্শ, নাম চোরের হাত থেকে পণ্যকে আগলে রাখতে হলে ব্র্যান্ড নেম-কে বারবার তুলে ধরা দরকার। ক্রেতারা দেখেই বুঝতে পারবেন কোনটা আসল, কোনটা নকল। মামলা যদি আদালত পর্যন্ত গড়ায় তবেও অসুবিধা নেই। নাম চোরদের শাস্তি অনিবার্য। নাম চোরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন মেহেক। তাঁর কথায় ব্র্যান্ড এবং লোগোকে অনলাইনে নথিভুক্ত করুন। দরকারে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। নথিভুক্তকরণের পর আপনার ট্রেডমার্ক শুধু আপনারই সম্পত্তি।

না, এখানেই শেষ নয়। ট্রেডমার্ক চুরি থেকে বাঁচার জন্য চোখ খোলা রাখা দরকার। অমুক সংস্থার নরম পানীয়র নাম কিংবা লোগো নকল করে যে তমুক সংস্থা ব্যবসায় নামবে না তার গ্যারান্টি কে দিতে পারে। মেহেক জানালেন, ‘ব্র্যান্ড নেম চুরি হচ্ছে কিনা জানার জন্য বিশেষ সফটওয়ার পাওয়া যায়। তাতে নজর রাখা দরকার। টিএম জার্নালে যদি দেখেন আপনার ট্রেডমার্ক হুবহু বা খানিকটা হলে নকল করা হয়েছে তবে প্রতিবাদপত্র জমা দিন। প্রতিবাদ জানানোর সময়সীমা জার্নাল প্রকাশের দিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। এর জন্য নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিতে হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে নকল ট্রেডমার্ককে বাতিল করা হয়।’

মেহেকের কথায় খ্যাতি, প্রতিপত্তিতে জড়িয়ে থাকে বিশেষ কারও নাম। আপনার পরিচয়, আপনার নামে। সংস্থার সুনাম যদি টিকিয়ে রাখতে হয় তবে ব্র্যান্ড নেমকে চোখের মণির মতো আগলে রাখুন।

অতিথি লেখক

অনুবাদক — তন্ময় মুখোপাধ্যাকয়

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags