সংস্করণ
Bangla

তুমিও নিশ্চয়ই পারো Sulu, চেষ্টা করে দেখো

Hindol Goswami
20th Nov 2017
Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share

দুটো ছবি। একটির প্রচারের সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছে দেশের অন্ধ বধির জাত্যভিমান। আর অন্যটিকে ঢেকে রেখেছে আলো অন্ধকারে আবৃত, অস্পষ্ট মধ্যবিত্ত বিষণ্ণ মাধুর্য। এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতির মঞ্চ থেকে শুরু করে সামাজিক সমস্ত প্রাঙ্গণে পদ্মাবতীর রিলিজ নিয়ে তোলপাড় ধুন্ধুমার কাণ্ড চলছে। কোনও এক অমুক সেনা বলেছে পদ্মাবতী রিলিজ হতে দেবে না। কোনও এক বিজেপি নেতা বলেছেন দীপিকার মাথার দাম দশ কোটি। আর রানি পদ্মাবতীর জীবন, তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া অগণিত সশ্রদ্ধ ধারণা আর রূপের আগুনে গণগণ করা দীপিকা পাড়ুকনের পোস্টারে আগুন লাগাতে ব্যস্ত মানুষেরা জানতেও চান না তুমহারি সুলুর বিদ্যা বালনের লড়াই, স্বপ্ন আর ভারতীয় নারীর সসম্ভ্রম বেঁচে থাকার বাস্তবতা। দুটি নারী। একজন যে কিনা ভারতীয় নারীত্বের মূর্তি হয়ে শয় শয় বছর ধরে দেশের সমস্ত নারীকে প্রাণের চেয়েও মানের কদর দিতে শিখিয়েছেন। যার জহর ব্রতের কাহিনি শুনে আসমুদ্র হিমাচলের সমস্ত ভারতীয় নারীর ধমনী দিয়ে তেজি রক্ত প্রবাহিত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা অনুধাবন করে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের মেয়েরা সুদূর রাজস্থানের রাজপুতানির উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালায় সেই পদ্মাবতীকে আমি আপনি চিনি না। ইতিহাসের পাতা আর জনশ্রুতির গাঁথায় পদ্মাবতী মানুষের থেকেও বৃহত্তর অস্তিত্বে উন্নীত হয়েছেন। তিনি দেবী। ভক্তির আসনে বসিয়ে নারী নির্যাতনের যে পুরুষ-তন্ত্র গত কয়েক শতাব্দী ধরে ভারতকে শাসন করে আসছে সেই ভারত কী করে তুমহারি সুলুর রেডিও জকিকে মেনে নেবে! এই প্রশ্নটা মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। তুলনায় কম আলো পেয়েছেন বিদ্যা বালান। কম বাজেট। কম এক্সপোজার। আর অনেক সমালোচনা। কিন্তু সুলোচনার জীবনে কোনও তথাকথিত মরবিডিটি নেই। রীতিমত বিন্দাস এক গৃহবধূর স্বপ্নের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার অসামান্য বাস্তব ছবি বক্স অফিসে কতটা এগিয়ে থাকবে কতটা পিছিয়ে যাবে সে সব তর্কের কোনও অবকাশই নেই। দুটি সিনেমা দুটি অন্য ঘরানার। কিন্তু তুমহারি সুলু ছবির নারীত্ব পদ্মাবতীর নারীত্বের চেয়ে কোনও অংশে যে কম নয় সেটা হলফ করে বলতে পারি।

image


সুলোচনা চান নিজের পায়ে দাঁড়াতে। ঘরের চৌহদ্দির বাইরে পাখির মত উড়তে। স্বাধীন একটা আকাশ চান সুলোচনা। স্বামী পুত্র সংসারের চৌহদ্দির ভিতর থেকেই আকাশের স্বাদ পেতে চান। তারপর রেডিও জকি হওয়ার সুযোগ আদায় করে নেন রীতিমত লড়াই করে। সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকশিত হতে থাকে। তাঁর জীবনে #MainKarSaktiHai এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচলাইন। 

এবং সব থেকে বড় কথা সুলু, বিদ্যা কিংবা সুলোচনা আমার আপনার আশপাশের পরিচিত মেয়েদের মতো, মহিলাদের মতো, মায়েদের মতো একটা অল্টারনেটিভ রাস্তা ভেবে ফেলেন। তাঁর দেখানো পথ ধরেই স্বামীও স্বাধীন হন। সমাজের রক্তচক্ষু, পিছুটানকে তোয়াক্কা না করেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইটা শুরু করে দেন সুলোচনা।

সমস্ত উদ্যোগপতির দেখা উচিত ছবিটি। সেই সব মানুষের দেখা উচিত যারা জীবনে একটা সলিউশন খুঁজছেন। কোনও রাজনীতি নেই। মনোরঞ্জনেরও বিশাল কোনও আয়োজন নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আছেন সুলোচনা। তুমহারি সুলু। আর তাঁর বিকশিত হয়ে ওঠার ভিতর দিয়ে অনুপ্রেরণার বিদ্যুৎ প্রবাহ।

Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags