সংস্করণ
Bangla

শুরুয়াতিদের লক্ষ্মীলাভে লাভবান দেশ

31st Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

আঁচ করা গিয়েছিল আগেই, বছর শুরু হতেই শুরুয়াতিদের হাত ধরে পূর্ণতা পাবে ‘ভারত ভাণ্ডার’। নতুন উদ্যোগে ভর করেই লক্ষ্মীলাভ করবে দেশ। হলও ঠিক তাই। বছর শেষ হওয়ার আগেই উঠতি উদ্যোগপতিদের বিনিয়োগে দেশের অর্থভাণ্ডের ওজন বাড়ল। যার ফলে বিশ্ববানিজ্যে মানির সঙ্গে মানও বাড়ল ভারতের। চলতি বছরে দেশের বিনিয়োগের পরিসংখ্যান দেখিয়ে দিল, ৯ মাসে প্রায় সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে দেশে। যার মধ্যে বেশিরভাগই শুরুয়াতির উদ্যোগের ঘরে। অনেক পুঁজিপতি আবার পুরোনো উদ্যোগেই বিনিয়োগ করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে ৬৩৯টি লেনদেনর চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে, যা এককথায় অভাবনীয়।

বিনিয়োগের দ্বিগুণ বৃদ্ধি

image


বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকই ছিল বিপুল বিনিয়োগের বার্তা, দ্বিতীয়তে যা অনেকটাই প্রত্যাশা ছাপিয়ে যায়। দেখা যায় দেশের আর্থিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর আস্থা রেখেছে শিল্পমহল। যার ফল পাওয়া যায় সেপ্টেম্বরের মধ্যেই। তথ্য বলছে গত বছরের তুলনায় ২০০ শতাংশ বিনিয়োগে বৃদ্ধি ঘটেছে দেশে। ‘ইনভেন্টাস ক্যাপিটাল’-এর ডিরেক্টর হৃতিক দোশির মতে, ২০১৪ সালের শেষের দিকে দেশে বিনিয়োগের বাজার গতি পেয়েছিল। চলতি বছরের শুরু থেকেই যা লাফিয়ে বেড়েছে। মাঝে কিছুটা পড়লেও গত বছরের তুলনায় বিনিয়োগের হার অনেক বেশি। মূলত, তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই এই বিনিয়োগের বাড়বাড়ন্ত। বছরের শুরুতে বড় পুঁজি লাভের ফলে উদ্যোগ বিস্তারে অসুবিধা হয়নি কোম্পানিগুলির। অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী কালে পাওয়া পুঁজি উদ্যোগের শুরুতেই হাতে এসেছে। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি লেনদেনের চুক্তি সম্ভব হয়েছে। ফলত, বিনিয়োগের অঙ্ক বেড়েছে। এই বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে কিছু মোবাইল সংস্থা। দেশে এই সব কোম্পানি মোবাইল বানানোর কারখানা গড়ায় বিনিয়োগের মাত্রা বেড়েছে। সব মিলিয়ে গত ৯ মাসে ৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে দেশে।

আমেরিকার তুলনায় কতটা পিছিয়ে ভারত?

image


২০০ শতাংশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি হলেও দেশের আত্মতুষ্টির কিছু নেই। বিনিয়োগের তুলনা টানলে ভারতকে অনেক পিছনে ফেলে দেবে আমেরিকা। অন্তত, বিডব্লুসি ও ন্যাশনাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যাসোসিয়শেনর তথ্য তেমনটাই বলছে। পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরেই দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যে ৯৯টি লেনদেনের চুক্তি হয়েছে। আমেরিকার ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ১২০০। তবে ভারতের মতো তৃতীয় বিনিয়োগের ত্রৈমাসিকে আমেরিকাতেও লগ্নিতে ভাঁটা পড়েছে। লগ্নিকারীর সংখ্যা কম হলেও বিনিযয়োগের মূল্য তেমন কম হয়নি।

image


ওয়াকিবহাল মহলের মতে কিছুদিন আগে পর্যন্ত সুনিশ্চিত বাজার বলতে সফটওয়ার কোম্পানিতে বিনিয়োগকেই বুঝত দেশবাসী। এখন সময়টা বদলেছে। শেয়ার বাজারকে আজ আর ‘ঝুঁকির তীর্থস্থান’ বলে তাঁরা মনে করে না। বরং ব্যাংক, পোস্ট অফিসের থেকে বেশির আশায় হেজ ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন। নতুন উদ্যোগ দেখেও কখনই পিছপা হচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

image


কিছুদিন আগে ৬৯তম স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীর উদ্দেশ্য নেরন্দ্র মোদির আহ্বান ছিল একটাই ‘start up and stand up’ । কারণ তিনি বুঝেছিলেন, নতুন উদ্যোগই দেশের ভবিষ্যৎ। যার উপর ভর করে দেশ আর্থিকভাবে বলীয়ান হতে পারবে। আপাতত, তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া মিলেছে। শুরুয়াতিদের লক্ষ্মীলাভে পুষ্ট হচ্ছে দেশ।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags