সংস্করণ
Bangla

দর্শনার 'টিম স্পিরিট'ই ওঁকে সেরা কর্পোরেট লিডার বানিয়েছে

Tanmay Mukherjee
26th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
দর্শনা পাই

দর্শনা পাই


কর্মজীবনের শুরুটা করেছিলেন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। পায়ের তলায় মাটি শক্ত করতে প্রথম কোম্পানিতে ছিলেন আট বছর। এরপর আর দেরি করেননি। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের নিত্য নতুন খুঁটিনাটি বঝুতে একের পর এক কোম্পানিতে যোগ দেন। ২০ বছরের কর্মজীবনে কাজ করেন উইপ্রো, কেপজেমিনি, পাটনি কম্পিউটার্সের মতো সংস্থায়। প্রতিটি কোম্পানিতেই সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাঁর নেতৃত্বে নতুন উচ্চতা পায় ওই সংস্থাগুলি। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য স্বীকৃতিও পেয়েছেন প্রচুর। মুম্বই আইআইটির এই প্রাক্তনীর নাম দর্শনা পাই। বর্তমানে তিনি ‘ভারচুসা’-র ভাইস প্রেসিডেন্ট। মূলত‌ ব্রিটেন, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার গ্রাহকদের তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা দেয় ‘ভারচুসা’। 

গ্রাহক পরিষেবার মানের দিকে নজর রাখেন দর্শনা। লক্ষ্য রাখেন কোম্পানির উন্নয়ন সূচকেও। এক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে তাঁকে সাহায্য করে পূর্ব অভিজ্ঞতা। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার কাজে তাঁকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। বর্তমানে দর্শনার নেতৃত্বে উন্নয়নমুখী রাস্তায় হাঁটছে ‘ভারচুসা’।

অতীত ঘাঁটলে দেখা যাবে, সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে দর্শনা। মেয়ের পড়াশোনার দিকে বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিতেন দর্শনার মা-বাবা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মূল্যবোধ নিয়েই বেড়ে হয়ে উঠেছেন। তবে মেয়ের স্বাধীনচেতা মনোভাবে কোনওভাবেই বাধা হননি অভিভাবকরা। তাঁরা জানতেন মেয়ে ভেবে-চিন্তে কাজ করে। কাজ করে ভাবে না। তাই পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষেত্রে দর্শনার সিদ্ধান্তকেই তাঁরা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পরবর্তীকালে শ্বশুরবাড়িতেও একই পরিবেশ পেয়েছেন তিনি। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মী হওয়ায় প্রায়শই বদলি হতে হয়েছে তাঁর স্বামীকে। স্বামীর সঙ্গে প্রতি পাঁচ বছরে চাকরি ও শহর বদলেছেন। কিন্তু সংসার সামলাতে কোনওদিনই দর্শনাকে চাকরি ছাড়ার পরামর্শ দেননি তাঁর স্বামী। উল্টে কর্পোরেট লিডার হওয়ার জন্য বরাবরই তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন।

ঘনিষ্ঠ মহলে দর্শনা বলেন, কেতাবি বিদ্যা কাজে আসে ঠিকই, কিন্তু তা দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না। নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কাজে আসে মাঠে নেমে কাজ করার অভিজ্ঞতাই। তাই উঠতি কর্পোরেট লিডারদের তাঁর পরামর্শ, ‘‘প্রথমে কোন বিষয়ে তুমি পারদর্শী হতে চাও, তা স্থির কর। এরপর মন দিয়ে কাজটা করে যাও। জীবনের নেতিবাচক পরিস্থিতির সামনাসামনি মোকাবিলা করো। দেখবে সাফল্য আসতে বাধ্য।’’

দীর্ঘ ২০ বছরের কর্মজীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন সেরা কর্পোরেট লিডারের শিরোপা। তাঁকে দেশের সেরা কর্পোরেট মহিলা লিডারের সম্নান দিয়েছে ইন্দো-আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স। যে সব কোম্পানিতে তিনি কাজ করেছেন, তারা সবাই দর্শনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমনকী প্রতিযোগী সতীর্থরাও দর্শনার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেন না। কর্পোরেট মহলে কান পাতলে শোনা যায়, ‘দশের মাঝে তিনি একাই কুম্ভ’। যদিও তাঁর এই সাফল্যের জন্য কেবল নিজেকে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন দর্শনা। সাফল্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এক গাল হেসে তিনি বলেন, ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags