সংস্করণ
Bangla

স্টার্টআপের ষড়মার্গ, যে ৬ টি পথে সাফল্য আসে

টেকস্টারের দুই কর্ণধার ডেভিড ব্রাউন এবং অরি নিউম্যানের সঙ্গে ইমেল আলাপচারিতা থেকে পাওয়া গেল কিছু সদুপোদেশ। 

YS Bengali
29th Nov 2016
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

ডেভিড ব্রাউন এবং অরি নিউম্যানের কথা শুনুন। এঁরা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইকোসিস্টেম টেকস্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। স্টার্ট আপদের সাফল্যের জন্যে ৬টি পথের কথা বললেন আমাদের। কী সেই ৬টি পথ পড়ুন।

image


এক) কম্পানির নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ

মেঘ থেকে যেমন বৃষ্টি হয় আর বৃষ্টি থেকে ফসলের জন্ম হয় - সংস্থার নিজস্ব সংস্কৃতি জিনিসটা অনেকটা ঠিক যেন আকাশের মেঘের মতো শুরুয়াত। ও না জন্মালে বৃষ্টির আশা নেই। সংস্থার নিজস্ব সংস্কৃতি হল সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির পরিচয়। কিন্তু কথা হল, কোন দৃষ্টিভঙ্গিটা প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক দৃষ্টি্ভঙ্গি, যা কোনও সংস্থার সম্মানজনকভাবে বেড়ে ওঠার পক্ষে সহায়ক। আসলে সর্বদাই এ ধরনের প্রশ্ন মনের ভিতর জিইয়ে রাখতে হয়, আমি কীভাবে সাহায়্য করতে পারি? কিংবা, যা কিছু ঘটছে তা কি কম্পানির পক্ষে ভাল?

জিজ্ঞাসাপূরণ করতে গিয়ে কোনও সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অচিরে্ ওই সংস্থার নিজস্ব সংস্কৃতি আবিষ্কার করে ফেলতে পারেন। এটাই একাজের অন্তর্নিহিত সত্য।

নিউম্যান এ কথাই জানিয়েছেন। টেক স্টারদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে তত্ত্বগতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন নিউম্যান। আসল কথা হল, কোনও সংস্থার গোড়াপত্তন করার সময় প্রতিষ্ঠাতার এটা মনে রাথা উচিত, কাজটি ঠিক হল কিনা তা খতিযে দেখা। এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট।

লেনাদেনার মানসিকতার থেকেও কিন্তু শ্রেয় হল অন্যকে সহায়তা করার মানসিকতা। এই পরামর্শটা নতুন উদ্যোগপতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলে মঙ্গল।

সংস্থার আর্থিক লাভালাভই কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সংস্থার বাড়়বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর চেয়েও অনেক বড় ফ্যাক্টর হল সংস্থার উদ্দেশ্য।

দুই) আইডিয়ার চেয়েও মহত্তর মানুষ

ব্রাউন মনে করেন, আইডিয়া আগে না। মানুষ আগে। ব্রাউন আসলে ওই তর্কটা শুরুই করতে দিলেন না। ডিম আগে না মুরগি আগের মতো ধাঁধার এখানে কোনও জায়গা নেই। কারণ এটা ঠিক হয়ে গিয়েছে যে আইডিয়া পরে এসেছে। সবার ওপরে মানুষ সত্য।

ব্রাউন ঐতিহাসিক যুক্তিতথ্য খাড়া করে প্রমাণ করেছেন, দুনিয়ায় এখন যে সমস্ত কম্পানি অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, তারা কিন্তু নিজেদের শুরুয়াতের সময়কালীন আইডিয়ার জেরে চিঁকে থাকেনি।

এইসব সংস্থাগুলির অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনি আদতে ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষায় তাদের নিজেদের দায়বদ্ধতা বজায় রাখার কাহিনি। মানুষের বিশ্বাস অর্জনই ব্যবসা সফল করার জাদুকাঠি। আসলে কম্পানির প্রতিষ্ঠাতার নে্তৃত্বে কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে কর্মী হিসাবে কতটা আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ক্রেতার মন জয় করা যাবে কিনা। ব্রাউন এমন মনে করেন। ফলে আইডিয়ার স্থান মানুষের আগে কখনওই নয়।

তিন) শুধুমাত্র টাকার ব্যাপার নয়

একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগের গোড়ার দিকে একজন হোতা হিসাবে তোমার মনে হতে পারে, টাকাটাই সব। টাকা আয়ব্যয়ের ভিতরই শেষ সত্য লুক্কায়িত রয়েছে। ফলে টাকার আকর্ষণটা প্রথমদিকে তীব্র হতে পারে। কিন্ত অচিরেই ওই উদ্যোগপতি উপলব্ধি করবেন, টাকাটা আসল নয়।

তাহলে আসল জিনিসটি কি?

ব্রাউন এবং নিউম্যান দুজনেই মনে করেন, আসলি বস্তু হল সংস্থার কর্মীদের কাজের ফলাফল। সংস্থার কর্মীদের দায়বদ্ধতা। এর ওপরে নির্ভর করে ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। এভাবে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। সংস্থার উন্নয়নের গতি বাড়ে।

চার) ভয় পাওয়ার দরকার নেই

নতুন পথ চলার পরে স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী কিংবা স্টার্ট আপের চলার পথে নিজেদের সহযোগীদের প্রতি বেশি সময় দেওয়াটা কিন্ত ভীষণ জরুরি। উদ্যোগপতিদের কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা বা বিষয়-আশয়গুলি নিয়ে কাজ করাটা।

এ ক্ষেত্রে নিউম্যানের পরামর্শ, নিজের সংস্থার উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার চেয়ে প্রয়োজনীয় হল বিনিয়োগ বা সুযোগগুলি নিয়ে আগেভাগে কাজ করা।

পাঁচ) সাফল্যের ইঙ্গিতগুলি

একটি সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার অন্যতম ইতিবাচক রাস্তা হল, সমস্যাটি সমাধানের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা। তার মানে সমস্যাটা সম্পর্কে আপনি উদাসীন নন। তবে নিউম্যান ও ব্রাউন দুজনেই এখানে একটা অন্য কখা বলেছেন। কথাটা হল, সমস্যা মেটানোর ক্ষেত্রে আপনি যদি শুধুমাত্র নিজের স্বার্থটাই দেখেন, তাহলে বুঝতে হবে কোখাও একটা গলতি থেকে গেল। আসলে আপনাকে একজন উদ্যোগপতি হিসাবে সবার আগে দেখতে হবে ক্রেতার স্বার্থ।

আসলে ইঙ্গিতগুলি ভালমন্দ দু ধরনেরই হতে পারে। ইতিবাচক ইঙ্গিতগুলি সংস্থার ফোটোসিন্থেসিসের ক্ষেত্রে সহায়ক ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ দেয়।

তাছাড়া যাঁরা শুধুমাত্র ছকে্ বাঁধা কাজের রুচিনে চলেন, উচ্চাকাঙ্খার ঘাটতিওয়ালা সেইসব মানুষজন উদ্যোগপতি হিসাবে এগোতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে যে ইঙ্গিতগুলি তাঁকে চালিত করছে, তা সামগ্রিক বিচারে ক্ষতিকারক। এভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন নিউম্যান ও ব্রাউন।

ছয়) এক্স-ফ্যাক্টরের ব্যাখ্যা

বিনিয়োগকারী প্রকতপক্ষে চান যে প্রকল্পে তিনি বিনিয়োগ করেছেন সেই কাজটা যেন সঠিকভাবে হয়। কাজটা দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কাজটা ঠিকঠাকভাবে হওয়া।

কাজের প্রথম দিনটি থেকে উদ্যোগপতির উচিত কেবলমাত্র টাকার পিছনে না ছোটা। টাকার চেয়েও তাঁর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নিজের সংস্থার মূল্যবোধের চর্চায়। কেননা নিজস্ব মুল্যবোধই সংস্থাকে শেষপর্যন্ত নিজস্ব পরিচিতি দেয়। সেইসঙ্গে সৃষ্টি্ করে সংস্থার নিজস্ব ঐতিহ্য।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags