সংস্করণ
Bangla

তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবনে মাকু টেক্সটাইলস্

15th Oct 2015
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
image


হাতে বোনা কাপড়ের চাহিদা কমছে, এমন কথা আজকাল প্রায়ই শুনে থাকি আমরা। কিন্তু সত্যিই কী চাহিদা কমেছে নাকি বাজারের বড় পুঁজির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে ভারতের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতেই জন্ম, ডিজাইনার ব্র্যান্ড মাকু টেক্সটাইলস এর। হাতে বোনা প্রাকৃতিক তন্তু, প্রাকৃতিক রঙ এবং হাতে বোনা কাপড়, এই তিনটিই বৈশিষ্ট্য মাকুর। আহমেদাবাদে শুরু এই কোম্পানির বর্তমান কর্মক্ষেত্র কলকাতা।

মৃতপ্রায় বুনন শিল্পের পুনরুজ্জীবনে রয়েছে নানা সরকারি প্রকল্প, কিন্তু তার লাভ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পৌঁছয় না তাঁতীদের কাছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন এনআইডি, আহমেদাবাদের প্রাক্তনী শান্তনু দাস। তাই তিনি এরকম একটি উদ্যোগের কথা ভাবছিলেন যার দ্বারা সরাসরিভাবে উপকৃত হবেন তাঁতীরা। নিরমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ারিংএ স্নাতক চিরাগ গান্ধী যোগ দেন শান্তনুর সঙ্গে, প্রায় তিন বছর আগে দু’জনে মিলে শুরু করেন মাকু।

সহজ কথায় বলতে গেলে শান্তনু ও চিরাগ ডিজাইন তৈরি করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাতের কচ্ছের তাঁতীতের দিয়ে তা বোনান ও বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু শুনতে সহজ মনে হলেও বিষয়টা ঠিক এতটা সোজাও নয়।

বস্ত্র শিল্পের পরিধি বিরাট, কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। কিন্তু পুরোটাকে নিয়ন্ত্রণ করে মুষ্টিমেয় মানুষ। একেবারে ওপরের তলায় রয়েছে গুটিকতক কোম্পানি, নীচে রয়েছেন হাজার হাজার কর্মী, আর সবথেকে বড় ভূমিকাটি নেয় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। হাতে বোনা বস্ত্রের ক্ষেত্রে একেবারে নীচে রয়েছেন তাঁতীরা, তাঁদের কাজ করানো ও উত্পন্ন পণ্য সরবরাহের কাজটা করেন আঞ্চলিক মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। তাঁরা বিভিন্ন ছোট কোম্পানি বা ব্যক্তির কাছে পণ্য সরবরাহ করেন। তারপর তা বিভিন্ন প্রদর্শনী বা বুটিকে বিক্রি হয়। লাভের মার্জিন থাকে প্রচুর, এবং চড়া দামে তা বিক্রি হয়, যার ৫ শতাংশও পাননা তাঁতী।


শান্তনু  দাস ও চিরাগ গান্ধী

শান্তনু দাস ও চিরাগ গান্ধী


মাকু এবং তাদের মতো আরও কয়েকটি কোম্পানি এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে চাইছে। “আমরা এই তাঁতীদের জন্য একটি উন্নততর ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাইছি যাতে এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, এবং তাঁতী, মধ্যস্বত্ত্বভোগী বা ক্রেতা কেউই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়”, জানালেন শান্তনু ও চিরাগ।আরও বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড একইভাবে শুরু হলেও কাজের থেকে কথাই হয়েছে বেশি।


image


শান্তনু আর চিরাগ তাঁদের ব্রান্ডের নীতি ঠিক করেছিলেন ফ্যাশন বিরোধিতা, তাই ফ্যাশন শো তে নিজেদের তৈরি জামা কাপড় প্রদর্শন করেন না তাঁরা, তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য তাঁতীদের উন্নতি। নিজেদের জমানো টাকা ও মা-বাবার থেকে নেওয়া টাকা এই পুঁজি নিয়েই ব্যবসা শুরু করেন শান্তনুরা, আপাতত প্রতিমাসে লাভ ১ লাখ টাকা ছাড়ায়. বিক্রি হয় বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী, দোকান, ফেসবুকের পাতা ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যমে।

সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্র্যান্ড হিসেবেই নিজেদের পরিচিতি করতে চায় মাকু।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags