সংস্করণ
Bangla

বিদেশেও সমাদৃত অসীমবাবুর আবির পুষ্পা

Anwesha Tarafdar
8th Mar 2016
Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share

মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই গেয়ে উঠছেন গুনগুন করে। প্রেম প্রেম গন্ধ। স্যাঁত স্যাঁতে আবেগের দিন। বসন্ত এসে গেছে। ফুলের গন্ধ মম করছে। পলাশে শিমুলে মাখামাখি আকাশ। প্রেমের রঙে যে মন রঙিন। শুধু পলাশের আলতো ছোঁয়া নয়, সে রঙ গায়ে মাখার দিন।

কিন্তু সাবধান যে সে রঙ গায়ে লাগাতে দেবেন না। ত্বকের ক্ষতি হবে। একদিনের আনন্দ অনেকদিনের আপসোস না হয়ে যায় খেয়াল রাখুন। বাজারে অনেকরকম ভেষজ আবির পাওয়া যায়। কিনুন ব্যবহার করুন তেমনই ভেষজ আবির। বসন্ত উৎসবে পলাশের রঙে রাঙা হয়ে উঠুন। নিরাপদে সেটা কীভাবে করবেন? তারই সুলুকসন্ধান আসীমবাবুর পুষ্পা। 

এই আবির চ্যাটচ্যাটে হয়ে গায়ে লেগে থাকে না, বরং গা থেকে ঝাড়লেই পরে যায় ফুলের এই আবির। লেগে থাকে শুধুই পাপড়ির পরশ। বহু বছর ধরে এমনই ভেষজ আবির নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে চলেছেন অসীম কুমার চ্যাটার্জী। তবে গবেষণা শুধু আবির নিয়ে নয়, নিউ গড়িয়ায় অসীমবাবুর নিজের বাড়ি রীতিমতো নানান জিনিসের গবেষণাগার।

image


কি কি নিয়ে গবেষণা হয় সেখানে, তা না হয় পরে বলছি। জানতে চেয়েছিলাম ফুলের আবির বানান কিভাবে? অসীম বাবুর আবদার ‘আইসক্রিম না খেলে কোনও কথা হবে না’। ষাটের কোটায় প্রাক্তন কেমিক্যাল টেকনিক্যাল সুপারিন্টেন্ডের এহেন আচরণে বেশ অবাকই হলাম। তাই আইসক্রিম খেতে খেতেই চলল আলাপ। আর তাতেই প্রথম চমক। 

ডাব ফ্লেবারের আইসক্রিমে ছিল আসল ডাবের স্বাদ। অসীম বাবু হাসিমুখে বললেন তোমাদের তো ফলই খাওয়া হয় না, তাই তোমাদের জন্যই তৈরি করেছি এই ফলের আইসক্রিম। আঙুর ,আনারস কিংবা আমের নির্যাস দিয়ে তৈরি হয়েছে অসীমবাবুর ফ্রুইটাস-জি আইসক্রিম। শুরু হল আবির তৈরির ইতিহাসের কথা । অসীমবাবু বলেন, সময়টা ২০০৫-০৬ সাল। তিনি তখন যাদবপুরে কেমিক্যাল ডিপার্টমেন্টে, জানতে পারি এক সমস্যায় পড়েছে ফুলচাষীরা। যে ফুল বিক্রি হয়না তা পচে যায়। বাধ্য হয়ে চাষিরা শরণাপন্ন হয় যাদবপুরের কেমিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপকদের। সেইসময় কেমিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন সিদ্ধার্থ দত্ত। তাঁর উদ্যেগেই অসীম বাবু দায়িত্ব নেন ফুল থেকে ভেষজ আবির তৈরির । সময় কেটে যায় , বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও সুনাম পায় ভেষজ আবিরের মহিমা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডেও পাড়ি দেয় ভেষজ আবির। তবে সময়ের সঙ্গেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেষজ আবিরের প্রোজেক্টেরও সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু আবিরের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সেইসময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরও নেন অসীমবাবু। ইচ্ছা ছিল আবির তৈরি চালিয়ে যাওয়ার....

image


ক্রমাগত তাগিদেই নিজের বাড়িতে গবেষণাগার স্থাপন করেন তিনি। বাড়িতেই খুলে ফেলেন আবির তৈরির রীতিমত কোম্পানি। নাম দেন পুষ্পা। সেই আবির বাজারে বিক্রি শুরু হয়। গন্ধে এবং গুণমানে এতটাই প্রশংশিত এই আবির যে দক্ষিণ কোরিয়ার হোলি উৎসবেও পাঠানো হয় পুষ্পা আবির। ৫০ গ্রাম থেকে ৮০ গ্রামের মধ্যেই আবির তৈরি করেন অসীমবাবু আর তাঁর টিম। তবে প্রশ্ন ওঠে বাজারের আর পাঁচটা আবিরের থেকে পুষ্পাকে আলাদা করা সম্ভব কিভাবে? 

অসীমবাবু বলেন, কোনও কেমিক্যাল না দেওয়ায় এই আবির আনেকটাই ধূসর রঙের । এতেই বোঝা যেতে পারে ভেষজ কিনা। এরপরেই নিজেই দায়িত্ব নিয়ে দেখালেন কিভাবে ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি হয় আবির। হাতে তুলে দিলেন আবিরের প্যাকেটও। আপনিও যদি দেখতে চান কেমন করে হয় সেই আবির? আপনার জন্য আমন্ত্রণ অসীমবাবুর নিউ গড়িয়ার মিনি গবেষণাগারে। বসন্ত উৎসবে মনের সঙ্গে রঙিন হয়ে উঠুক শরীর। পলাশের রঙ আর গন্ধ গায়ে মেখে মেতে উঠুন বিষহীন বসন্ত উৎসবে। 

Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags