সংস্করণ
Bangla

টোলের লাইন থেকে নিষ্কৃতি দেয় এমটোলস

22nd Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share


এয়ারপোর্ট যাচ্ছন তো? ফ্লাইট ধরার তাড়া আছে? একটু আগে ভাগে বেরোবেন কিন্তু। কারণ টোলপ্লাজার লম্বা লাইন আপনাকে ভোগাবেই। টোলপ্লাজার এই লাইন প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। টোল দিতে গিয়ে দেখা গেল কারও কাছে খুচরো নেই, অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল, লাইন আরও বাড়ল এবং আপনার আরও খানিকটা দেরি হল-এই সব চলতেই থাকে। যদি টোলট্যাক্স দেওয়ার অন্য কোনও উপায় থাকত, তাহলে এই ভোগান্তি বোধহয় হত না। নিজে ভুগে এবং হাজারো মানুষকে ভুগতে দেখে বিকল্প ভাবতে শুরু করেন পিয়ুস আগরওয়াল। ২০১১র মে মাসে গড়ে ফেলেন এমটোলস। মূলত বিভিন্ন টোল প্লাজা এবং পার্কিংয়ে নগদ টাকায় ট্যাক্স যাতে দিতে না হয় তার ব্যবস্থা করে এমটোলস।

image


পরিকাঠামো প্রদানকারী সংস্থা, গাড়ির মালিক এবং জাহাজ অপারেটরদের টোল দিতে হয়। এমটোলস ভারতীয়দের কাছ থেকে টোল সংগ্রহ করে অটোমেটেড ইলেকট্রনিক উপায়ে। এমটোলসের মাধ্যমে যে কেউ একটা ট্যাগ সব টোলপ্লাজাতে ব্যবহার করতে পারে। বিভিন্ন টোল প্লাজায় অটোমেটেড ক্যাশলেস টোল সংগ্রহের প্রযুক্তি দিয়ে কোনও রকম আর্থিক লেনদেন ছাড়াই টোল সংগ্রহের ব্যবস্থা করে এই সংস্থা। নিজেরাই গাড়ির মালিকের কাছে ট্যাগ বিলোয় এবং পরিষেবা দেয়। যখনই এমটোলসের পরিষেবাধীন কোনও গাড়ি এই প্রযুক্তি রয়েছে এমন টোল প্লাজা দিয়ে যায়, তাহলে গাড়ির মালিকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এসে টোলেপ্লাজার অ্যাকাউন্টে পড়ে। পিয়ুস বলেন, ‘আমরা কল্পনায় দেখি, টোলপ্লাজা বা অফিস বা আবাসনের গাড়ির পার্কিংলট গেট আপনার গাড়ির জন্য আপনাআপনি খুলে যাচ্ছে। আমরা এমন ভবিষ্যৎ দেখতে পাই, যেখানে গাড়িগুলি অনরোড ডিভাইসে নিজের আইডেনটিটি দিতে পারবে। যার ফলে গাড়ির মালিকদের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যাবে। আমরা রাস্তায় বিরামহীন এবং মসৃন ড্রাইভিং চালু করতে চাই। এর ফলে ঠকার আশঙ্কাও কমবে’।

image


দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেক বিই পাশ করে আমেরিকা চলে যান পিয়ুস। সেখানে প্যানস্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর হন। ১৪ বছর মাইক্রোসফট, আইবিএম এবং অ্যাকসেনচিউরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একটি মার্কিন স্টার্টআপ ভিডিওমাইনিংয়েও কাজ করেছেন। সংস্থার বিভিন্ন প্রোডাক্ট লঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১০টি আন্তর্জাতিক পাবলিকেশনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেক এমটোলসের ভাবনা শুরু। একটা ভালো দিক হল, রাস্তাঘাটের অনেক উন্নতি হয়েছে। গাড়ি চালানো উপভোগ করা যাচ্ছে। কিন্তু টোলপ্লাজায় এসে সব যেন চুপসে যায়। তিনি বলেন, ‘নিজেকে প্রশ্ন করি, বিশ্বমানের রাস্তা গড়ে কী হবে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা টোল ফি দিতে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়? এই ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে’। তিনি জানেন এমটোলসের সঙ্গে উদ্যোক্তার জগতে এক অজানা পথে পাড়ি দিয়েছেন। তিন মাস বাজারে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ধারণাই ঠিক ছিল। এখন বুঝতে পারেন, মনগড়া নয় বরং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে কাজ এগিয়েছেন।

image


ভারতে ইতিমধ্যেই অনেকগুলি টোলিং সংস্থা রয়েছে। কিন্তু এমন কী রয়েছে এমটোলসে যা, অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করেছে? বাজারে এত প্রতিযোগিতার মধ্যেও কীভাবে মার্কেট শেয়ার ধরল? পিয়ুস বলেন, এদের মধ্যে কোনও সংস্থাই আসল সমস্যা বুঝে নগদহীন টোল সংগ্রহ পদ্ধতি চালু করতে পারেনি। মূল সমস্যা হল, একটা স্মার্ট ট্যাগ একটাই টোলপ্লাজায় কাজ করে। তিনি বলেন, ‘যদি ধরে নিই দিল্লি এবং মুম্বইয়ের মধ্যে ২৪টি টোলপ্লাজা রয়েছে, সবকটাতে স্মার্ট ট্যাগ থাকে না। যদি সবাই ট্যাগ নিত এবং আমি সবকটা ট্যাগ নিতাম, তাহলে আমার কাছে ২৪টি ট্যাগ থাকত’। কিন্তু এমটোলসের ট্যাগ একাধিক গেটে কাজ করে। ‘আমাদের প্রতিযোগীরা টোলপ্লাজা মালিককে টোল সংগ্রহের যন্ত্রপাতি দিয়ে দেয়। টোলপ্লাজার মালিক মর্জিমাফিক সেটা ব্যবহার করেন। টোলপ্লাজায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমানোর বা ওয়েব অথবা ফোনে ট্যাগের রিচার্জ করানোর ব্যবস্থা করা মোটেও লক্ষ্য নয়’, বলেন পিয়ুস।

ডিজিটাল মার্কেটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং এবং নানা পার্টনারশিপের মাধ্যমে টার্গেট অডিয়ান্সের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এমটোলস। পিয়ুস বলেন, ‘একটা হাইওয়ে টোলপ্লাজায় কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ রেভিনিউ আসে অপারেটর যেমন, স্টেট ট্রান্সপোর্ট, ট্যাক্সি এবং বাস অপারেটরদের মাধ্যমে। ফলে অপারেটর সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের কাছে পৌঁছে যাই এবং এমটোলস নিয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। কিছু কিছু সংস্থা ইতিমধ্যই এমটোলসে ঢুকে পড়েছে’। অন্যদিকটি হল, টোলপ্লাজায় যন্ত্রপাতি বসানো। বেছে বেছে সেই সমস্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যারা নতুন টোলপ্লাজা করছে বা যেসব টোলপ্লাজার যন্ত্রপাতি প্রায় শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। বড় সংস্যা হল, টোলপ্লাজা অপারেটর সংস্থার সংখ্যা সীমিত এবং যারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ নয়।

পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের ফান্ডে চলে এমটোলস। বাস এবং ট্যাক্সি অপারেটর এবং টোলপ্লাজাগুলির সঙ্গে পুঁজির জন্য কথা চলছে। পিয়ুস জানান, টাকা নেই, অফিসের জায়গাও নেই। এক একটা সমস্যা এক একবারে মেটানো হচ্ছে। সবকিছু প্ল্যান মতো ঘটে না। স্টার্টআপে ভুল হতেই পারে। সাফল্যের রাস্তা থেকে পিছলে যেতে হয় কখনও কখনও। কিন্তু পিছলে যাওয়া কোনও স্টার্টআপের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। কত তাড়াতাড়ি আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে তার উপর নির্ভর করে। সাহস না হারিয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যের দিকে এগোতে হবে।

লেখক-কীর্তি পুনিয়া

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags