সংস্করণ
Bangla

রসনার সাধনায় অ্যামাই-এর মালকিন ঐশ্বর্য

Chandrochur Das
19th Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

খেতে বড় ভালোবাসে বাঙালি। চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয় পাতে না পড়লে মুখ ভার। রোজ পাঁচ পদে খাওয়ার অভ্যেস। তবে অভ্যেসের কথাই যদি বলি, সেই মৌলিকত্বের দাবিদার হিসেবে শুধু বাঙালি কেন গোটা ভারতের রসনা সাধনার একটা লেগ্যাসি রয়েছে।

ঐশ্বর্য নায়ার, অ্যামাইয়ের কর্ণধার

ঐশ্বর্য নায়ার, অ্যামাইয়ের কর্ণধার


গ্রাম-শহর-মফস্বল নির্বিশেষে সব জায়গার খাবারেরই বৈচিত্র চোখে পড়ে। ভারতীয়দের এই খাদ্যপ্রীতি মূলধন করে ব্যবসার জগতটা বেছে নিয়েছিলেন দক্ষিণের তামিল কন্যা ঐশ্বর্য নায়ার। আজ তাঁর নিজের তৈরি ফুড ব্র্যান্ড ‘অ্যামাই’ বাজার মাত করছে।

পারিবারিক সূত্রেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ঐশ্বর্য

উঠতি শিল্পদ্যোগী হিসাবে ইতিমধ্যে সকলের নজর কেড়েছেন, তবে এই সাফল্যের পিছনে সবসয়ই নিজের পরিবারকে কৃতিত্ব দেন ঐশ্বর্য। পারিবারিক হোটেল ব্যবসা থাকায় ছোট থেকেই খাবার দাবারের প্রতি একটা বাড়তি টান অনুভব করতেন। তার ওপর বাবা – ঠাকুরদার উৎসাহ বাড়তি সাহসও যুগিয়েছিল। এই তরুণীকে। ঈশ্বর্যর কথায় গ্যাজুয়েশনের পর ফ্রোটোগ্রাফি আর সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার কথা ভেবেছিলেন। তবে বাবার আগ্রহেই শেষপর্যন্ত রান্নাবান্নার জগতে পা রাখা। সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তা বলে দেয় ঐশ্বর্যর সংস্থার সাফল্যই। এই সাফল্যের জন্য বাবার পাশাপাশি ঠাকুরদা কৃষ্ণাণ নায়ারের আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রভাবের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রেখেছেন। এই দুজনের উৎসাহকে পাথেয় করেই ফাস্টফুডে আসক্ত তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কিছু করার কথা ভেবেছিলেন ঐশ্বর্য। 

image


বলছিলেন সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যভাস গড়ে তোলা অত্যুন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে খাবারের গুণগত মানের দিকে খেয়াল রাখাটা প্রয়োজন। দু-দিকে সঠিক সামঞ্জস্য রেখেই ‘দ্য লীলা গ্রুপ’-এর ফুডব্র্যান্ড বাজারে এনেছে ‘অ্যামাই’-এর খাদ্যসম্ভার।আর ‘অ্যামাই’-এর খাবারগুলি তৈরি থেকে তার প্যাকেজিং ও বিপণন---সবেতেই সতর্ক নজরদারি রাখেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাত্রী ঐশ্বর্য।

সন্তানদের ফাস্টফুড খাওয়ানোটা অধিকাংশ বাবা-মায়েদের অপছন্দ—এটা মাথায় রেখেও, সেই ঝুঁকি নিতে বিন্দুমাত্র পিছুপা হননি। কারণ, ফাস্টফুডের প্রচলিত ধারণাটাই বদলে দিয়েছে তাঁর সংস্থা। কথাটি শুনতে সোনার পাথরবাটির মত হলেও বাস্তবে তাই করে দেখিয়েছেন এই তরুণী।

image


জাপানি ভাষায় অ্যামাই শব্দের অর্থ মিষ্টি অনুভূতি

খাদ্যদ্রব্যের মান বজায় রাখতে জাপানি মিনিমালিসম ও ম্যাক্রোবাওটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঐশ্বর্য তৈরি করলেন তাঁর একের পর এক ফাস্ট ফুড ব্র্যান্ড। ঐশ্বর্য জানিয়েছেন তাঁর সংস্থার প্রোডাক্টগুলি তৈরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় প্রাকৃতিক উপাদনই ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগটাই ময়দা আর চিনি। এই ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবার ভারতের মত দেশের পক্ষে নতুন তো বটেই, এমনকি এদেশের অধিকাংশ বড় হোটেলেও এর দেখা পাওয়া দুস্কর বলে দাবি ঐশ্বর্যর। তবে ‘অ্যামাই’-কে ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরাটা খুব একটা সহজ ছিল না বলেই জানাচ্ছেন দ্য লীলা গ্রুপ অফ হোটেলের অন্যতম কর্ণধার।

কাজটা যে খুব একটা সহজ ছিল না তা নিজেই জানিয়েছেন ‘দ্য লীলা গ্রুপ অফ হোটেল’-এর অন্যতম কর্ণধার ঐশ্বর্য। আত্মপ্রকাশের প্রথম মাস থেকেই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অ্যামাইয়ের উচ্চ গুনমান সমৃদ্ধ খাবারগুলি। দেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রশংসা কুড়িয়েছে এই ব্র্যান্ড। এজন্য ক্রেতাদের পছন্দের তারিফ করেছেন তিনি। আর ‘দ্য লীলা গ্রুপ’-এর মত লাক্সারি হোটেলের নাম ‘অ্যামাই’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে বাড়তি গুরুত্বও পেয়েছে বলে স্বীকার করে নেন ঐশ্বর্য।

ঐশ্বর্য নায়ার

ঐশ্বর্য নায়ার


এই সাফল্যেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তৈরি দ্য লীলা হসপিটালিটি চেইনের তৃতীয় প্রজন্মের এই সদস্য। পাশাপাশি আধুনিক ভারতের মেয়েদের কাছে আজ সাফল্যের অন্যতম আইডল হয়ে উঠেছেন এই তরুণী ব্যবসায়ী। 

যেকোন কাজে এগোতে গেলে নিজের ওপর আস্থা রাখা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন এই তরুণী বিজনে্‌স আইকন। আধুনিক ভারতের মহিলাদের কাজের প্রতি ভালবাসা তাঁকে মুগ্ধ করে। তাই তাঁর সংস্থায় অধিকাংশ কর্মী-ই মহিলা। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যেতে ভারতের ঘরে ঘরে এমনই সাফল্যের কাহিনী রচিত হবে। তাই বর্তমান ভারতীয় মহিলাদের কাছে ‍ঐশ্বর্যর আবেদন ‘যা ভাবছেন তার জন্য নিজেকে তৈরি করুন’। আজকের স্বপ্ন ভবিষ্যতে পূরণ হবেই। শুধু চাই নিজের প্রতি বিশ্বাস। তাই তাঁর পরামর্শ, ঝুঁকি নেওয়ার পাশাপাশি ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান করতে হবে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags