সংস্করণ
Bangla

শিশুদের শিক্ষাই কিঞ্জলের একমাত্র ‘শ্বাস’

Chandra Sekhar
25th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

২৫ বছর প্রত্যেকের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় কেরিয়ারকে সঠিক পথে পরিচালনা করা শুরু হয়। কিন্তু সকলের জীবনের ছন্দ কি একই সুরে চলে? কিঞ্জল শাহ এমনই একটি নাম। কেরিয়ারের শুরুতেই কিঞ্জল এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, যাতে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। কিন্তু এখন আর কোনও সন্দেহ নেই। ‘শ্বাস- ব্রেথ লাইফ ইনটু’র ট্রাস্টি হয়ে এক পরিবর্তনের সুচনা করেছেন কিঞ্জল। এ এমন এক বিপ্লব, যেখানে শিক্ষার জন্য সমাজের সমস্ত বাধা অতিক্রম করেছে সে। অনুন্নত শ্রেণির ছেলেমেয়েদের সমাজের যোগ্য শিক্ষাদানই লক্ষ্য ‘শ্বাস- ব্রেথ লাইফ ইনটু’র। স্কুলে ভর্তি করা থেকে শুরু করে এদের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব ‘শ্বাস’-এর। ‘শ্বাস’-এর প্রধান ট্রাস্টি কিঞ্জল জানিয়েছেন, এই সমস্ত বাচ্চারা সমাজের অন্যান্যদের তুলনায় কোনও অংশে কম নয়। শুধুমাত্র সুযোগসুবিধার অভাবই তাদের পড়াশুনার পথে বিশাল বাধা।

image


কলেজে থাকতে থাকতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতেই তৈরি করে ফেলেছিলেন আহমেদাবাদের এই মেয়েটি। সপ্তাহের শেষে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বস্তির ছেলে-মেয়েদের পড়াতে শুরু করেছিলেন। ইঞ্জিয়ারিং পাশ করে একটা কাজের অ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছিলেন কিঞ্জল। কিন্তু কিছুতেই সেই কাজ করতে পারছিলেন না। বেশ বুঝতে পারছিলেন, এটা তাঁর ভবিষ্যৎ নয়।তার মন অন্য কিছু করতে চায়। শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু একটা করার জেদ যেন চেপে গিয়েছিল তাঁর মধ্যে।তাই মাত্র ছ’মাস পর সেই কাজ তিনি ছেড়ে দেন।

কাছাকাছির একটি মিউনিসিপাল স্কুলে কিঞ্জল এবং তাঁর বন্ধুদের অনুমতি দেন স্কুল শেষ হওয়ার পর বাচ্চাদের পড়াবার। প্রায় ৪০-৪৫ জনকে পড়াতে শুরু করে কিঞ্জল এবং তাঁর বন্ধুরা। কিন্তু স্কুলে যা পড়ানো হত, সেই পাঠক্রমের বাইরে ছিল কিঞ্জলদের সিলেবাস। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি-জনিত শিক্ষা এবং সম্পূরক শিক্ষাই ছিল কিঞ্জলদের পাঠক্রম। এদেরকে পড়াতে গিয়েই কিঞ্জল অনুভব করেন, এই সমস্ত বাচ্চারা সমাজের অন্যান্যদের তুলনায় কোনও অংশে কম নয়। শুধুমাত্র সুযোগসুবিধার অভাবই তাদের পড়াশুনার পথে বিশাল বাধা।

গত তিন বছর ধরে কিঞ্জল একটু একটু করে এগিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা জোগাড় করে ‘শ্বাস’-এর ফান্ড তৈরি করেছেন। সেই টাকা থেকেই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়েছেন। এতে ছেলেমেয়েরাও দ্বিগুণ উৎসাহে নিজেদের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারছে। কিন্তু এইসব অনুন্নত শ্রেণির মানুষদের পড়াশুনা সম্পর্কে কোনও পরিষ্কার ধারণা থাকে না। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাপারে পরিবারে দ্বিমত থাকে প্রচুর। কিঞ্জল জানিয়েছেন, দিনের পর দিন তিনি এবং তাঁর দল বস্তিতে গিয়ে বাবা মায়েদের বুঝিয়েছেন। রোজগারটাই তাঁদের কাছে সব চেয়ে বড় সমস্যা। পড়াশুনার খরচ চালানোর মত ক্ষমতা তাঁদের নেই। এক্ষেত্রে ‘শ্বাস’ শুধুমাত্র বড় স্কুলে ভর্তি করিয়েই থেমে থাকেনি, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পোশাক, বইপত্র সব কিছু কেনার দায়িত্ব নিয়েছে।

image


ছাত্রছাত্রীদের খুশি রাখতে কিঞ্জল একটি পন্থা অবলম্বন করেছেন। প্রত্যেক মাসে তাদের শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাইরের জগৎটাকে তারা যত দেখবে, ততই বর্তমান দুনিয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে বলে বিশ্বাস কিঞ্জলের। শিল্পা বলে একটি মেয়ে কিছুদিন আগে ‘শ্বাস’-এর সহযোগিতায় দশম শ্রেণি পাশ করেছে। ‘শ্বাস’-এর কাছে যা খুবই গর্বের। কিঞ্জলের এই কাজের পেছনে তার অনুপ্রেরণা ‘টিচ ফর ইন্ডিয়া’-র সিইও শাহিন মিস্ত্রি।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags