সংস্করণ
Bangla

জৈব উপাদানে পোশাক বানায় ‘অরা হার্বাল'

Chandra Sekhar
12th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

একটা সময় ছিল গাছের ছাল বাকল দিয়েই পোশাক বানিয়ে লজ্জা নিবারণ করত আদিম মানুষ। চামড়ার ব্যবহারও অতি প্রাচীন। তারপর ধীরে ধীরে তুলো থেকে সুতোর আবিস্কার আর পরিধানের ইতিহাসে বিবর্তনের চাকা ঘুরল দ্রুত গতিতে। রেশম থেকে শুরু করে পলিয়েস্টার সব ধরণের পোশাকের সঙ্গেই মানুষ পরিচিত। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষকে সার্বিকভাবেই প্রকৃতি থেক কৃত্রিমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মানুষও গ্রহণ করেছে সেই কৃত্রিমতা। কিন্তু প্রকৃতিতে ফেরার টান অনুভব করেছিলেন গুজরাটি এক দম্পতি। সোনাল এবং অরুণ বৈদ। তাদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা আর ভাবনা দিয়ে তৈরি করলেন ‘অরা হার্বাল টেক্সটাইল’। আধুনিক ফ্যাশনের জগতে এক জনপ্রিয় নাম। এদের তৈরি পোশাকে নেই কোনও কৃত্রিমতার ছোঁয়া। বরং সম্পূর্ণ জৈব উপাদানে তৈরি এদের পোশাক শুধুমাত্র ফ্যাশনের দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে, তাই নয়, পরিবেশ সহায়ক হওয়ায় প্রশংসাও কুড়িয়েছে সর্বত্র।

image


শুধুমাত্র পোশাক তৈরিই নয়, পোশাক রঙ করার ব্যাপারেও জৈব উপাদানের ব্যবহার করেছে ‘অরা’। সিন্থেটিক এবং সুতির পোশাক তৈরিতে সবটাই প্রায় কৃত্রিমতা। সঙ্গে যুক্ত থাকে নানা রকমের ক্ষতিকারক রাসায়নিক। ‘অরা’র সাফল্য এখানেই। ২০০১ সালে তৈরি হয় ‘অরা হার্বাল টেক্সটাইল’। মধ্যপ্রদেশ এবং সমগ্র দক্ষিণ ভারত জুড়ে এরা ব্যবসা শুরু করে। প্রথমে এরা ফেলে দেওয়া পোশাক কিংবা ফেলে দেওয়া পোশাক তৈরির সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার করে নিজেদের জিনিস তৈরি করত। ‘অরা’র প্রধান সোনাল বৈদ্য জানালেন, পুনরায় ব্যবহার করার প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকারক হয়ে উঠেছিল। কারণ ফেলে দেওয়ার পর সেই সব রাসায়নিক নদী কিংবা জলাশয়ের সঙ্গে মিশে যায়। সেই জলই আবার সাধারণ মানুষ ব্যবহার করত। তাই শতাব্দী প্রাচীন পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে ‘অরা’। এতে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও অনেকটা কমে যায়। শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের পোশাকই নয়, ‘অরা’ ‘স্পা’-এর সমস্ত জিনিস-ও এরা তৈরি করে। খুব শিগগিরই তারা ভারতে ৫টি থেকে ৬টি শোরুম খুলতে চলেছে।

image


অতএব সহজেই অনুমান করা যায়, ‘অরা’ এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও বর্তমান ফ্যাশনের দুনিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে পেরেছে। শুধুমাত্র এই দেশেই নয়, এশিয়াজুড়ে, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপে প্রায় ৫০০ জন খদ্দের ছড়িয়ে রয়েছেন। সোনাল জানিয়েছেন, ‘অরা’র পোশাক পরে আরাম। সহজে এর রঙ চটে যায় না। টেকসই-ও যথেষ্ট।

প্রথম দিকে ‘অরা’ দু’হাজারটি পোশাক একদিনে বানাতে পারত, কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০হাজার। ৮০জন কর্মী সর্বক্ষণ কাজ করছেন বিভিন্ন ডিজাইন এবং ‘অরা’র উন্নতির বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags