সংস্করণ
Bangla

হাত বাড়িয়েই সমাজের পাশে সাথি হাত বাধ্‌না ও জানকি বিশ্বনাথন

YS Bengali
7th Jan 2016
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

কতজনই কতরকমের স্বপ্ন দেখে। তবে স্বপ্নপূরণ হয় বোধহয় হাতে গোনা কিছু মানুষের। স্বপ্ন এবং স্বপ্নপূরণের কাহিনীর আর এক নাম জানকি বিশ্বনাথন। ১৯৮৮ সালে হিউমান রিসোর্স নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে সে। তারপরেই স্বপ্ন ছিল ভালো কোম্পানিতে চাকরি, টাকা এবং উজ্বল ভবিষ্যৎ । এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সময়ের সঙ্গে সাফল্য এসেছিল জানকির জীবনে। তবে সুখের সময় বোধহয় সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী। চাকরি এবং বিদেশে ভ্রমণের পাশাপাশি জানকির জীবনে আসে বিয়ে। তারপরেই ৩৩ বছর বয়সে এক সন্তানের মা হয় সে। মায়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই চাকরি ছাড়া । তারপরেই শুরু গৃহবধূর দায়িত্ব পালন। তবে অনেক স্বপ্ন নিয়ে আগে এগিয়ে চলা জানকি পরিস্থিতির কাছে এত সহজে দমে যেতে রাজি ছিল না। তাই হয়ত যখনই তাঁর মেয়ে একটু বড় হল সে দায়িত্ব নিল একটি প্লে-স্কুল খোলার । তারপর আরও এক লড়াই। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পুনেতে যেতে হয় তাকে। সেখানে গিয়েও নতুন কিছু করার ক্রমাগত চাহিদা জেঁকে বসে জানকির। সে দেখতে পায় তাঁর লোকালিটি অর্থাৎ পুনের আনুধ এলাকায় সেভাবে কোনও বুকস্টোর নেই। জানকি অনুভব করে এমন এক বুকস্টোর দরকার যেখানে বই পড়ার পাশাপাশি পড়ুয়ারা নিজেদের ভাবনার আদানপ্রদানও ঘটাতে পারবে। তাই জানকি নিজের উদ্যেগেই শুরু করেন টুইন্সটেলস।

১১ বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে টুইন্সটেল চালানোর পরেই অনুভব করেন সাধারন মানুষদের জন্য কিছু করা উচিত। তিনি অনুভব করেন এমন কিছু করা উচিত যেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা যায় । মানুষের কথা জানতে এবং জানানোর জন্যই সে শুরু করে সাথি হাত বাড়ানা। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে সমাজের নানা কুপ্রভাব তাঁর চোখে পড়েছে। তিনি দেখেছেন এযুগের মানুষেরা নিজেদের যতই মডার্ন বলে দাবি করে থাকুক না কেন এখনও আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন , যৌন অত্যাচারের মত ঘটনা ঘটেই চলেছে। কাজের চাপ কিংবা মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার পথও।

image


এই ক্রমাগত মানসিক চাপ থেকে উদ্ধারের পথ সমাজে ও নিজেদের চরিত্রে বদল নিয়ে আনা। তাই মূলত তিনটি কার্যাবলী নিয়েছে সাথি হাত বাধ্‌না । নিপীড়িতদের পাশে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং জীবন শৈলীর শিক্ষা । তবে এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী ভুমিকা নিয়েছে সাথি হাত বাধ্‌নার লিসিনিং পোস্ট । এই জায়গাটি তাদের জন্য যারা জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । এমনটা দেখা গেছে কারুর সম্পর্কে বিচ্ছেদ আসার পরে সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। আবার প্রিয়জনের মৃত্যুর পরে অবসাদে ডুবে গেছে কেউ। এমনকি দেখা গেছে পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ পড়ে শরীর খারাপও বাডিয়ে বসেছে অনেকেই। এখানেই হাত বাড়িয়ে দেয় সাথি হাত বাধ্‌না । তাঁরা সেই ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার মাধ্যমে তাঁর সমস্যা নিরূপণের চেষ্টা করে। ক্রমাগত কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে তাঁকে সদর্থক ভাবতে সাহায্য করে।

image


এর পাশাপাশি রয়েছে তাদের কেয়ারিং ফর কেয়ারগিভার নামের প্রোগ্রামও । এটি একটি গ্রুপ সেশন সেইসব মানুষদের জন্য যারা মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়েছে। এছাড়াও বয়স্কদের স্মার্ট ফোন ব্যবহারও শেখান হয়।

খুব সম্প্রতি আরও একটি কাজ শুরু করেছে এই সংস্থা। তারা স্কুলে স্কুলে কিশর এবং কিশোরীদের সচেতন করে তুলেছে যাতে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার না হয়। এক্ষেত্রে তারা স্কুল পড়ূয়াদের শিশু যৌন নির্যাতন বিরোধী আইন, পস্কোর ভূমিকাও তুলে ধরছে । শিশু নির্যাতন আটকানো থেকে মহিলাদের ওপরে হওয়া অত্যাচার কড়া হাতে রোধের মুখে নেমেছে সাথি হাত বাধ্‌নাও জানকি বিশ্বনাথান নিজেই। শতাধিক মানুষের মুখের হাসিতেই স্বপ্নপূরণ হয় জানকির।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags