সংস্করণ
Bangla

AngelTax নিয়ে সোচ্চার স্টার্টআপ মহল, ভরসা বাজেট

29th Jan 2018
Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share
এই বাজেটের দিকে স্টার্টআপ উদ্যোগপতি এবং অসংগঠিত অ্যাঞ্জেল লগ্নি-কারীরাও তাকিয়ে আছেন। তারা চান দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও চাঙ্গা হোক। সরিয়ে নেওয়া হোক অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স। 
image


বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম, কিংবা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে কর প্রযোজ্য নয়, দেশি অ্যাঞ্জেলদের বিনিয়োগের ওপর সেটা প্রযোজ্য হবে কেন? তার থেকেও বড় কথা ছোট মাঝারি মাপের শুরুয়াতি উদ্যোগগুলি যে টাকা অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের কাছ থেকে তুলে নিজেদের ব্যবসা বাড়ানোর কাজে লাগান। তারাই বা এই কর দেবেন কোথা থেকে। করের মাত্রা ৩০ শতাংশ। বিনিয়োগের সময় ফেয়ার মার্কেট ভ্যালুর থেকে বেশি ভ্যালুয়েশন হয়ে থাকলে তবে বাড়তি ভ্যালুয়েশনের ওপর তিরিশ শতাংশের এই কর চাপানো হয়। আয়কর দফতর এই বাড়তি টাকাটাকে ইনকাম হিসেবে দেখে। এবং স্টার্টআপ সংস্থাগুলির কাছ থেকে ওই অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স নিয়ে নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্টার্টআপ সংস্থাগুলি আয়কর দফতরের নোটিশ পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। এর কোনও নৈতিক ভিত্তি নেই বলেই মনে করেন অধিকাংশ স্টার্টআপ উদ্যোগপতি। ২০১২ সাল থেকে এই কর চালু আছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে নোটিফিকেশন জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু তার শর্ত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ডিআইপিপির কাছ থেকে ইনোভেটিভ স্টার্টআপ হিসেবে সার্টিফিকেট থাকলে অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স মকুব হয়ে যাবে।

এখন প্রশ্ন হল দেশের অধিকাংশ স্টার্টআপই ওই ধরণের সার্টিফিকেট পায় না। অথচ দেশের উদ্যোগের পরিবেশ তৈরিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। একদিকে বলা হয় লাইসেন্স রাজ তুলে দেওয়ার কথা। ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের কথা। আর অন্যদিকে স্টার্টআপদের লড়াইয়ের পথ আরও দুরূহ করে তোলা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্টার্টআপ মহল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কলকাতার ১০০ টি স্টার্টআপের সঙ্গে কথা বলেছি। ৭০ জন স্টার্টআপ উদ্যোগপতি জানিয়েছেন এই অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স একটি কালা কানুন।

শ্রীজিত মুলায়িল নামের এক উদ্যোগপতি জাতীয় স্তরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ট্যাক্সের বিরুদ্ধে পিটিশন জোগাড় করা শুরু করে দিয়েছেন। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চান ওঁরা।

মুখ খুলেছেন মোহনদাস পাইয়ের মত বিনিয়োগকারী। গোটা দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এককাট্টা। কালা কানুন সরানো হোক। তাদের বক্তব্য, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যেখানে ছোট মাঝারি স্টার্টআপে বিনিয়োগের ওপর কর ছাড় পাওয়াটাই দস্তুর সেখানে ভারতে পদে পদে ছড়ানো রয়েছে করের ফাঁদ, সার্টিফিকেটের বেড়াজাল। এক দিকে মোদি সরকার স্টার্টআপ ইন্ডিয়া স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়ার স্লোগান তুলে স্টার্টআপ দরদি ভাবমূর্তি তুলে ধরছে অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি মানের শুরুয়াতি ব্যবসায়ী, স্টার্টআপগুলির অগ্রসর হওয়ার পথে বিছিয়ে রাখছে অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স-এর কাঁটা। বিষয়টি তাই হালকা ভাবে নিচ্ছে না স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স তুলে নেওয়ার পাশাপাশি উঠছে আরও একটি দাবি। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের মতোই স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যার ফলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা বিদেশি বিনিয়োগের মত অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্কের ইনভেস্টমেন্টকেও এই করের আওতার বাইরে রাখা যায়।

প্রসঙ্গত, চিনের সঙ্গে দেশের তুলনা টানার একটা প্রবণতা আছে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামরিক নানান অগ্রগতির প্রশ্নে। চিনের আভ্যন্তরীণ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাষ্ট্র নিজেই। রাষ্ট্রের নিজস্ব ভেঞ্চার ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার পরিচালিত ৩২৪টি ফান্ড যার আয়তন প্রায় ২৭২ বিলিয়ান মার্কিন ডলার, নতুন করে তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র স্টার্টআপদের সহযোগিতার জন্যে। চায়না ডেইলি জানাচ্ছে, চিন সরকার ২০২০-র জন্যে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। গোটা দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও চাঙ্গা করতে ১০,০০০ মেকার স্পেস, ইনকিউবেটর এবং অ্যাকসেলেরেটর তৈরি করা হবে। এছাড়াও বিদেশেও একশটি ইনকিউবেটর, মেকারস্পেস এবং অ্যাক্সেলেরেটর তৈরি হবে। এর ফলে তিরিশ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে পাশাপাশি হাজার দুয়েক লিস্টেড কোম্পানি তৈরি করতে পারবে চিন।

Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags