সংস্করণ
Bangla

ট্রাম্পের দেশের হিড়িক এখন মৃত্যুর স্বাদ, CryoTherapy

মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে জীবনের উষ্ণতায় ফেরার চিকিৎসা এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। নাম ক্রায়ো থেরাপি। এগিয়ে এসেছে কয়েকটি স্টার্টআপও।

25th Jan 2017
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
মৃত্যুকে আপনি কী দিয়ে চেনেন? হিম শীতল স্পর্শ দিয়ে? নিথর শীত? অথবা হীমাঙ্কের নীচে আরও নীচে নেমে গেলে, কেমন লাগতে পারে আপনার? মনে হতে পারে হাড় গুলো গুড়ো গুড়ো হয়ে যাবে। মনে হতে পারে এবার আর কোনও রক্ত প্রবাহ হবে না। টাইটানিক ছবির নায়কের জলে ভাসা মুখটা মনে পড়ে যাবে? আর নীল সমুদ্রের মধ্যে ভেসে থাকা মৃত্যুর মিছিল?
image


কিন্তু না। এই শৈত্যই যখন জীবনে ফেরার জন্যে প্রয়োগকরা হয় তাকেই বলে ক্রায়ো থেরাপি। গ্রিক ভাষায় ক্রায়ো মানে ঠান্ডা আর থেরাপি শব্দের অর্থ তো আপনি জানেন। চিকিৎসা।

এই চিকিৎসাপদ্ধতিটি দক্ষিণ ফ্রান্সের। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, ক্রায়োথেরাপি প্রথমদিকে প্রয়োগ করা হয়েছে অ্যাথলিটদের ওপর। এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে অ্যাথলিটদের ক্ষতিগ্রস্ত টিসু মেরামত করা হত। পারফরম্যান্স আরও ভালো করা যেত। দিনে দিনে শীতলতার স্পর্শ চিকিৎসা জনপ্রিয় হতে থাকে। নানান ব্যধিতে প্রয়োগ করা হতে থাকে।

ধীরে ধীরে জীবনকে যারা তলানির পানীয়ের মত পান করতে চান তাদের কাছে এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা বইকি। এখন সেলিব্রিটিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই চিকিৎসাপদ্ধতি। মুখ্যত এই পদ্ধতির মাধ্যমে গভীর বিশ্রাম, টেনশন কমানো ও ঘুমের ব্যাঘাতগুলি দূর করা হয়। হিম মৃত্যুর ছোবল থেকে জীবনে ফেরার অভিজ্ঞতা নিতেই মূলত ভিড় জমাচ্ছেন ধনকুবেররা। পাশাপাশি রোগ ব্যধি থেকেও নিস্তার পাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নামী ব্যক্তিত্বরা ক্রায়োথেরাপির পক্ষে সুপারিশ করেছেন। এখন আমেরিকাতেও এই চিকিৎসার দারুণ হিড়িক। এ ব্যাপারে লাইফ স্টাইল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জো রাফেল বলছেন, অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইছেন যাঁরা – তাঁদের ক্ষেত্রে আমি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করছি। সেক্ষেত্রে লো-ক্যালরির প্রোটিন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক সেলিব্রিটিও এখন ক্রায়োথেরাপিতে চিকিৎসা করাতে তাঁর চেম্বারে আসছেন বলে জানিয়েছেন।

অ্যাথলিট ফ্লয়েড মেওয়েদার বলেছেন, বেভারলি হিলসে ক্রায়োথেরাপির ক্নিনিকে পরীক্ষা করিয়েছি। সুফলও পেয়েছি। হাতে-পায়ের গাঁটের যন্ত্রণা নিয়ে ক্নিনিকে গিয়েছিলাম। আমি ছাড়াও আরও অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তি ওই ক্নিনিকে ক্রায়োথেরাপি করাচ্ছেন। এঁদের ভিতর বিনোদন জগতের সেলিব্রিটিরাও রয়েছেন। প্রসঙ্গত, ক্রায়োথেরাপি গ্রহণ করার চেম্বারগুলিকে বলা হয়ে থাকে ক্রায়োচেম্বার।

ইতিমধ্যে ক্রায়োথেরাপিকে ব্যবসায়িক চেহারা দেওয়ার জন্যে কাজ করছে একাধিক স্টার্ট আপ। ২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া সংস্থাটির নাম ক্রায়োহেলথকেয়ার। উত্তর আমেরিকায় ক্রায়োথেরাপি জনপ্রিয় করার পিছনে অবদান রয়েছে একজন ডাক্তারের। সেই মানুষটির নাম রবিন কুইনি। ইনি ইউএলসিএ মেডিক্যাল স্কুল থেকে পাশ করা একজন চিকিৎসক।

এই পদ্ধতিটি সারা শরীরে ব্যবহার করেও সুফল পেতে পারেন রোগীরা। এটা ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত। ক্রায়োহেলথকেয়ারে যাঁরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাঁদের ভিতর আছেন ইন্সপিরেশনাল গুরু টোনি রবিন্সের মতো মানুষও।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags