সংস্করণ
Bangla

জ্ঞান আর জিজ্ঞাসার স্টার্টআপ ক্যুয়োরা

YS Bengali
10th Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

জিজ্ঞাসাই আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে প্রসারিত করে। সমৃদ্ধ করে। একথা টের পেয়েছিলেন ফেসবুকের দুই ইঞ্জিনিয়র। তাই তাদের স্টার্টআপ ক্যুয়োরা এককথায় একটা প্রশ্নোত্তর ওয়েবসাইট। কিন্তু এতেই বোধহয় ক্যুয়োরার পরিচয় সম্পূর্ণ হয়না। কুয়োরা মানে আসলে অনেক কিছু। আক্ষরিক অর্থেই অনেক কিছু। কারণ ওয়েব জগতে একগুচ্ছ প্রশ্নোত্তরের ওয়েব থাকলেও কুয়োরার মত কোনও বিষয়ে এত গভীর পর্যালোচনা, এত বুদ্ধিদীপ্ত ছোঁয়া আর কোনও সাইট দেয় না। আর এখানেই সকলের চেয়ে আলাদা কুয়োরা।

image


জুন, ২০০৯। ফেসবুকের দুই প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাডাম’ডি অ্যাঞ্জেলো ও চার্লি চিভারের হাত ধরে জন্ম নেয় কুয়োরা। শুরু হয় একে সাজিয়ে তোলার কাজ। অ্যাঞ্জেলোর মতে, কাজে নামার আগেই তাঁর হাতে কিছু প্রোটোটাইপ কোড ছিল। তাই তাকে ও চার্লিকে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয়নি। তবে যা হাতে ছিল তা প্রায় না থাকারই সামিল। ফলে কুয়োরা তৈরির জন্য শুরু হয় রাতদিন পরিশ্রম। কিছুদিন পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন রেবেকা। রেবেকা আসায় সাইটের ডিজাইন ও ফ্রন্ট এন্ডের কাজ অনেকটাই গতি পায়। রেবেকার পর সেপ্টেম্বরে ‌একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কুয়োরা বানানোর কাজে যুক্ত হন কেভিন। কাজ শুরুর ন’মাস পর ২০১০ এর জানুয়ারিতে বন্ধুবান্ধবের মধ্যে প্রথমে কুয়োরা চালু করেন তাঁরা। একরকম পরীক্ষা স্তরে চালানো হয় সাইটটিকে। হিসাবমত সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা কাজ করে সাইটটিকে একটা জায়গায় আনেন অ্যাঞ্জেলা ও চার্লি। এই সময়ের মধ্যে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। ফের চেষ্টা করেছেন। এই ন’মাসে যথেষ্ট পরিমাণ পরিকাঠামোও প্রস্তুত করে ফেলেন তাঁরা। যা তাঁদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে একটা প্রকল্পকে সফল রূপ দিতেও সাহা‌য্য করে এই পরিকাঠামো উন্নয়ন। তবে এই ন’মাসে শুধু সাইট তৈরিই নয়, অফিসের জন্য জায়গা খোঁজা, কর্মীদের জন্য পে রোল বানানোর মত একগুচ্ছ খুচরো কাজে তাঁদের অনেকটা সময় অতিবাহিত হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাঞ্জেলো।

image


অবশেষে ২০১০ সালে সকলের সামনে হাজির হয় কুয়োরা। কারও কোনও প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মক্কা হিসাবে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ওয়েবসাইট। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর তো আছেই, এমনকি ‘একজন বোকা হিসাবে প্রতিপন্ন হতে কোমন লাগে’, ‘একটা পেঙ্গুইনকে জড়িয়ে ধরতে কেমন লাগে’, জাতীয় আপাত বোকা বোকা প্রশ্নেরও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেয় কুয়োরা। প্রশ্ন যেমনই হোক, উত্তরের ক্ষেত্রে কোনও আপস করেনা এই উত্তর জানার ওয়েব ঠিকানা। এই মুহুর্তে মাসে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার ব্যবহারকারী এই সাইটে ঢুকছেন। সাইটে থাকা সুবিশাল তথ্যভাণ্ডার সাইটের জনপ্রিয়তাকে প্রতি দিন বাড়িয়ে চলেছে।

একজন ব্যবহারকারী কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ইয়াহু অ্যানসার। কুয়োরা তা নয়। আবার কুয়োরা টুইটারও নয়। কুয়োরা হল কোনও একটি বিষয়ে একত্রিত তথ্যের উৎস বা কনসোলিডেটেড ডাটা সোর্স। টুইটার ব্রেকিং নিউজ দেয়। কিন্তু কুয়োরা হল কোনও বিষয়ে জানার জন্য একটি বিস্তারিত মহাফেজখানা। বিশ্বের তাবড় সাংবাদিকও কুয়োরায় খবর খুঁজে বেড়ান। নতুন স্টোরি ভাবনার খোরাক পাওয়ার জন্য তাঁদেরও প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে কুয়োরা। হঠাৎই একদিন এমন এক সাইট বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলো ও চার্লি। সেই হঠাৎ নেওয়া উদ্যোগই বর্তমানে ওয়েব জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তর ভাণ্ডার।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags