সংস্করণ
Bangla

কথায় বলে অর্থই অনর্থ, বুঝিয়ে দিলেন মোদি

9th Nov 2016
Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share

টাকা মাটি মাটি টাকা। ঠাকুর রামকৃষ্ণের এই মহান ভবিষ্যদ্বাণীর মর্ম আজ নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন? এতদিন যারা ঘরবাড়ি, জমির দালালি করতেন তারা অবলীলায় ঠাকুরের উক্তিকে বীজমন্ত্রের মত জপতেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই টাকা বদলের ফতোয়ায় তাঁদের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। জয় গোস্বামীর একটি পঙক্তি মনে চলে এলো। এত টাকা এত টাকা কঠিন বড় কঠিন মাথা ঠাণ্ডা রাখা।

image


আট তারিখ রাত আটটা থেকে আটশ বার গুণে ফেলেছেন আপনার কাছে জমে থাকা ৫০০, ১০০০ টাকার নোটের সংখ্যা। কেউ কেউ রাতারাতি ছুটেছেন, স্থানীয় দোকানে হয়ত গোটা বছরের বাজার করে ফিরেছেন। আট তারিখ রাত ১১টা ৫০ পর্যন্ত খোলা রেখেছিল স্পেন্সার বিগবাজারের মত বড় শপিং চেন। খোলা ছিল পাড়ার মোড়ে মোড়ে দোকানগুলোও। না সমাজ সেবার দায়ে নয়। দুটো দায়ে। এক নিজের ব্যবসা রাতারাতি স্কেল আপ করানো। গ্রোথ বাড়ানো। স্টক ক্লিয়ার করানো। আর দ্বিতীয় কারণ লোকে টাকা নিয়ে দোকানের সামনে হাজির। সাধা লক্ষ্মী পায়ে ঠেলি কী উপায়ে!

আম আদমির এটুকু হেনস্থার কথা বললেই পরিস্থিতির পুরো ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। টাকা বদলের ফতোয়া যখন জারি হয়েছে টাকা বদলাতেই হবে। কিন্তু কী পরিমাণ ভিড় হবে ব্যাঙ্কে! কী পরিমাণ লাইন পড়বে! কত দুর্বৃত্ত কত রকমের ফিকির করবে! আপনার টাকা আপনি যত ইচ্ছে ব্যাঙ্কে রাখুন কিন্তু তাতে চোখ টাটাবে আপনার পড়শি, ভাবুন তো!

ভাবুন সেই সব ভ্রমণপিপাসু মানুষের কথা যারা বেড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পকেট ভর্তি টাকা। পোশাকে, অন্তর্বাসে, পায়জামার দড়ি ভরার সুড়ঙ্গে হাজার হাজার টাকা লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছেন যারা তাদের কী হবে। একটা টাকাও গাড়িওয়ালা, হোটেলওয়ালা নিতে চাইছে না। যেন হাজার টাকার নোট হাতে নিয়ে তিনশো টাকার মূল্য দিতে চাইছে। ৫০০ টাকার মূল্য ১০০ টাকারও কম ঠাহর করছে। কালোবাজারি রুখতে মোদির মাস্টার স্ট্রোকে আম আদমি হতভম্ব। ধরাশায়ী হিসেব বহির্ভূত টাকার মালিকরা।

এতো গেল একটা দিক। অন্যদিকে আরেক দল মানুষ দারুণ বিন্দাস। যারা জানেন কীভাবে ই-ওয়ালেট ব্যবহার করা হয়। যারা টাকা মেটানোর কাউন্টারে ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড এগিয়ে দেন। রিকশাওয়ালাকেও বলেন কার্ডে কেন টাকা নাও না। তাদের কিছুতেই কিছু আসে যায় না।

ফলে কী করণীয়?

ঘরে যে টাকাগুলো আছে সেগুলো ধারে কাছে যেকোনও ব্যাঙ্কে, পোস্ট অফিসে নিয়ে যেতে পারেন, লাইন একটু লম্বা পড়বে ঠিকই কিন্তু সেখানে এই টাকা বদলে আপনি নতুন টাকা নিয়ে আসতে পারেন। পুরনো নোট বদল করার জন্য ১০ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন। ভোটার আই কার্ড ও আধার কার্ড নিয়ে গেলেই বদল করা যাবে পুরনো নোট। কাউন্টারে টাকা ফুরিয়ে না গেলে ১০ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা মূল্যের পুরনো নোট একবারে বদল করা যাবে। টাকা তোলার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক ভাবে ব্যাঙ্ক থেকে একবারে ১০,০০০ টাকার বেশি তোলা যাবে না। সপ্তাহে তোলা যাবে না ২০,০০০ টাকার বেশি। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরনো টাকা জমা দিতে না পারলে চিন্তার কারণ নেই। তার পরও জমা দেওয়া যাবে পুরনো নোট। তবে ব্যাঙ্কের বদলে ছুটতে হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমোদিত কেন্দ্রে। দেখাতে হবে আই কার্ড। এভাবে পুরনো নোট জমা দেওয়া যাবে ৩১ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত।

Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags