সংস্করণ
Bangla

ইন্টারনেট নির্ভর ব্যবসায় ভিলেন কানেকটিভিটি

YS Bengali
2nd Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

২০১৫র প্রায় শেষ দিকে এসে দেখা যাচ্ছে ফোর জি সম্বলিত ৩টি স্মার্ট ফোনের মধ্যে একটির গন্তব্য অবশ্যই ভারতে। এই মাসের গোড়ায় ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন(আইডিসি)এর একটি রিপোর্টে এই তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট স্টর্টআপগুলি তথ্যগুলি পেয়ে খুশি হবেই। তবে খারাপ নেটওয়ার্ক চিন্তার কারণ বটে।

image


আইডিসির মোবাইল ফোন ট্রেকারের কোয়ার্টারলি হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫র তৃতীয় কোয়ার্টারে ২৮ মিলিয়ন স্মার্টফোন ভারতে ঢুকেছে। গতবছর ওই সময়ের হিসেবের তুলনায় সংখ্যাটা ২১ শতাংশ বেশি। ফোর জি ডিভাইসের আমদানি আগের কোয়ার্টারের তুলনায় প্রায় তিনগুন বেড়েছে। উদ্যোক্তা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হিসেব ইন্টারনেট নির্ভর সংস্থাগুলির বৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ‘আগামী দু বছর ফোর জি মেট্রোগুলিকে খুব সাহায্য করতে পারে। কিন্তু পরিবর্তন বোঝা যাবে তখনই যখন ফোর জি শহুরে বড় লোকদের নাগাল ছাপিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে’, বলেন ওয়েব ও অ্যাপ নির্ভর ফ্যাশন স্টার্টআপ ‘বুনিক’-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা সুজায়াত আলি।

এই মুহুর্তে এয়ারটেল ফোর জি পরিষেবা মেট্রেো এবং কয়েকটি ছোট শহরে চালু রয়েছে। শিগগিরই ছোটছোট জায়গাগুলিতেও একই পরিষেবা চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। রিলায়েন্স জিও ফোর জি ২২ টি সার্কেলে পৌঁছে যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই। ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার ‘ইন্টারনেট ইন ইন্ডিয়া ২০১৫’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ৬০ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রাইমারি ডিভাইস হল মোবাইল ফোন। ‘আমাদের মনে হচ্ছে এমন দিন আসবে যখন ভারতের গ্রামের মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাতে স্মার্টফোনই সম্ভবত প্রথম এবং একমাত্র ডিভাইস হতে পারে’, বলেন আইডিসির ক্লায়েন্ট ডিভাইসের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কার্তিক জে।

image


‘বুনিক’-এর ৫০ শতাংশ গ্রাহকই হলেন ছোট ছোট শহর এবং শহরতলির। কিন্তু কানেকটিভিটির সমস্যা বড় হয়ে উঠছে। এই বছরের গোড়ার দিকে এরিকসনের একটি হিসেব বলছে, শহরের ঘরে ঘরে প্রায় ৬৩ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ভয়েসড্রপ, কানেকশন ব্রেক, ধারবাহিকতাহীন গতি এবং থ্রি জি না পাওয়া যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। মোট্রো শহরের বাইরে সমস্যা আরও প্রকট। ত্রিবান্দ্রামের অনলাইন মুদিদোকান ‘কাডার’-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা শান এন হানিফ জানান, ‘ছোট শহরগুলিতে থ্রি জির উপর নির্ভর করা যায় না’। তাঁর বিশ্বাস, ইন্টারনেট পরিষেবা উন্নত হলে সস্তার স্মার্টফোন ই-কমার্সে জোয়ার আনতে পারে। তাঁর মতে, কানেকটিভিটি ভালো হলে আরও অনেকে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করবেন এবং বেশি বেশি অ্যাপস ব্যবহার করবেন।

এফএমসিজির অ্যাপ নির্ভর ডিস্ট্রিবিউটার এবং রিটেলার বেসড বি টু বি মার্কেটপ্লেস ‘বিজম’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ললিত ভাইসের মতে, ‘ফোর জির খরচটাও অনেকের অস্বস্তির কারণ। আমার ব্যবসা অন্তত ১৫ হাজার অ্যাপ ব্যবহারকারীকে ঘিরে যাদের বেশিরভাগই ‘পয়সা উসুল’ উপায় খোঁজেন, যেমন ২০০ টাকায় আনলিমিটেড ডাটা-এই ধরনের। কিন্তু ফোর জি ইতিমধ্যেই বেশ দামি। ফলে সাধারণের খুব একটা সুবিধা হয় না’। তিনি জানান, শহর এবং গ্রামে সমান সংখ্যক গ্রাহক রয়েছে বিজোমের। কিন্তু গ্রামের গ্রাহকরা বেশিরভাগই টু জি ব্যবহার করেন। ‘আমাদের ডিভাইস এখন ফোর জিতেও স্বচ্ছন্দ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যাটারির কথাও ভাবতে হবে। না হলে অ্যাপের সাহায্যে যে পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলি নাগালের বাইরে চলে যাবে’, ললিতের সংযোজন।

স্মার্টফোন বা ফোর জি অ্যানাবল ডিভাইসের বিক্রি বাড়ার মানে হচ্ছে, ই-কমার্সের বাজার ভালো হবে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকবে ততক্ষণ ইন্টারনেট নির্ভর স্টার্টআপ পুরও মাত্রায় সফল হবে না।

লেখক-আথিরা নায়ার

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags