সংস্করণ
Bangla

CO2 থেকে বিদ্যুৎ, তাক লাগালো বর্ধমানের ক্ষুদে বিজ্ঞানী

patralekha chandra
29th Dec 2015
Add to
Shares
6
Comments
Share This
Add to
Shares
6
Comments
Share

আজ্ঞে হ্যাঁ। ঠিকই পড়ছেন কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে বিদ্যুৎ বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন বর্ধমানের এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা যেটা নিয়ে এখনও গবেষণা করছেন। এখনও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ছাড়পত্র পায়নি। এখনও যেটা ঢাকঢাক গুড়গুড় করে রেখে দিয়েছে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি। সেই ঝোলার বেড়াল বের করে দিলেন কালনার ছেলে শুদ্ধসত্ত্ব।

image


বছর দুয়েক আগে নেদারল্যান্ডের ৫ বিজ্ঞানী বিষয়টির উত্থাপন করেন। মূলত বিজ্ঞানী H. V. M. Hamelers এর নেতৃত্বে প্রকাশিত হয় পেপার। তারপর থেকেই কানাঘুষো চলছে গবেষণাও চলছে পুরোদমে। কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা সম্ভব। এমনটাই বলছেন ওঁরা। শুধু তাই নয় এই পোড়ামুখো গ্যাস যার জন্যে এত ঝঞ্ঝাট এত বিশ্ব উষ্ণায়ণের আতঙ্ক তারই ঘাড় ধরে তৈরি হতে পারে জ্বালানিও। সেটা হলে, বিষ থেকে বিশ্ব তৈরির মত ইউরেকা মুহূর্তের জন্যে অপেক্ষা করে আছে দুনিয়া। ওঁত পেতে বসে আছে পৃথিবীর তাবড় বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক সংস্থাও। তাই অতি গোপণে চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। আর বর্ধমানের শুদ্ধসত্ত্ব, ক্লাস টেনের ছাত্র, অবলীলায় বানিয়ে ফেলল যন্ত্রপাতি। CO2 থেকে আলো জ্বালিয়ে দেখিয়ে দিল কোন পথে পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে। হ্যাটস অফ।

দেখতে ছোট হলে কি হবে অসাধ্য সাধনটা কিন্তু করেই দিয়েছে ছেলেটি। শুদ্ধসত্ত্ব চৌধুরী। বর্ধমান কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। অদম্য জেদ আর ইচ্ছা শক্তি। তাঁর আবিষ্কার ইতি মধ্যেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। তার ফর্মুলায় শুধু যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকানো যাবে তাই নয়, সেই সঙ্গে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড CO2 থেকে তৈরি করা যাবে বিদ্যুৎ। ইতিমধ্যেই চণ্ডীগড়ে সারা ভারত জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পায় সে।

শুদ্ধসত্ত্ব জানালো, আবহাওয়া ও প্রকৃতিতে অসংখ্য শক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে যা মানব জীবনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। যার মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড অন্যতম। এই কার্বন ডাই অক্সাইডই গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মূল কারন। এছাড়া সমস্ত এনার্জি তৈরির জন্য কার্বন প্রয়োজন। যেমন পেট্রলে গাড়ি চললে তা থেকে তৈরি হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড। আবার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে কয়লার মাধ্যমে উৎপন্ন হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। শুদ্ধসত্ত্বের হাতিয়ার এই প্রকৃতির শক্তি। প্রকৃতির এই বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডকে একটি অ্যালুমিনিয়াম পাতের মধ্যে দিয়ে ধরে তা ছোট ইলেক্ট্রনিক সার্কিটের মধ্যে দিয়ে চালান করে উৎপন্ন হবে ১২ ভোল্টের শক্তি। যার জন্য খরচ হবে মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। অন্যদিকে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট এর ইন্সটলেশন চার্জ অনেক বেশি। জায়গাও লাগে বেশি। সেই তুলনায় শুদ্ধসত্ত্বের ফর্মুলায় পথ দেখাতে পারে গোটা দুনিয়াকে। এগিয়ে যেতে পারে ভারত।

বাবা চিন্ময় চৌধুরী প্রসার ভারতীর টেকনিক্যাল বিভাগের কর্মী। মা স্নিগ্ধা কম্পিউটার শিক্ষিকা। বাবা এবং মায়ের অনুপ্রেরণা শিক্ষাই ওকে বিশ্ব নাগরিক করে তুলতে সফল হয়েছে। ছোট থেকেই পদার্থ বিজ্ঞানে শুদ্ধসত্ত্বের যত প্রেম। তাই ছোটবেলা থেকেই পদার্থ বিদ্যার ওপর নতুন কিছু করার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল এমন কিছু করতে যা দেশের মানুষের কাজে লাগবে। তার স্বপ্ন প্রাথমিকভাবে সফল কিন্তু এখানেই থেমে থাকতে চায় না এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী। কম খরচের এই বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারতের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সতের বছরের ছেলে।

Add to
Shares
6
Comments
Share This
Add to
Shares
6
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags