সংস্করণ
Bangla

নিমপীঠ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে জৈবচাষের পাঠশালায় কৃষকরাই ছাত্র

3rd Apr 2016
Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share

আলু, বেগুন, পটল, মূলো, সিম, অথবা ক্যাপসিকাম। পসরায় সাজানো চকচকে প্রমাণ সাইজের আলুটা, মুলোটা দেখে ক্রেতারও চোখ চকচক করতে বাধ্য। কিন্তু জানেন ক'জন, এইসব সবজির সঙ্গে পেটে নিশঃব্দে চালান হয়ে যাচ্ছে বিষ। অনেকে আবার জেনেশুনেও বিষপান থুড়ি, বিষ গিলছেন। কারণ উপায় নেই। বাজার ছেয়ে আছে রাসায়নিক সারে ফলানো সবজিতে। রাসায়নিক নয়,আস্থা থাকুক জৈবে । লক্ষ্য এটাই । বিকল্প কৃষি-উপাদানকে জনপ্রিয় এবং লাভজনক করার জন্য তাই রীতিমতো পরীক্ষা নীরিক্ষা চলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিমপীঠ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে । শেখাচ্ছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা । কৃষকরা সেখানে মনযোগী ছাত্র ।

image


অনেক আগে এভাবেই হত। তখনও রাসায়নিক সারশিল্পের রমরমা শস্যের সুষম বণ্টনে থাবা বসায়নি। কৃষক তাঁর জমিতে ফসল ফলাতেন চিরায়ত পদ্ধতিতেই। জমিতে দেওয়া হত জৈব সার । খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাকৃতিক নিয়মেই সহাবস্থান থাকত কেঁচোর মতো কৃষকবন্ধু খুদে প্রাণীরাও । তারপর এল বীজ, সার, কীটনাশকের বিপুলবহর বাণিজ্য । বহুজাগতিক সংস্থার দখলে গেল ধরিত্রী । সব মানচিত্র মুছে ফেলল মুনাফার এই দুনিয়াদারি। গত শতকের শুরুতেই অবশেষে ফের উল্টোপথের খোঁজ দিলেন জাপানের কৃষিদার্শনিক মাসানুবো ফুকুওকা। বললেন প্রাকৃতিক আবাদের কথা। রাসায়নিক সার, বীজ, কীটনাশকের বদলে প্রকৃতির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপাদান দিয়ে চাষের কথা বললেন তিনি। বিকল্প এই পদ্ধতিতে পরবর্তীকালে বিক্ষিপ্তভাবে চাষআবাদও শুরু হয় । জাপান থেকে অনেক দূরে এরাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা তেমনই এক পরীক্ষানীরিক্ষা চলছে। রাসায়নিক নয়, জৈব সারের মাধ্যমেই যেখানে ফসল ফলাচ্ছেন কৃষকরা। সৌজন্যে নিমপীঠ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র।

শুধু তত্ত্বকথা নয়, হাতেকলমে শেখা ও শেখানো । নিমপীঠের এই কেন্দ্রে সেই কাজটাই করেন কৃষিবিজ্ঞানী প্রবীর গড়াই । ‘শিখতে আসছেন ওঁরাও । জমি-জিরেত থেকে কিছুক্ষণ সময় বের করে বিজ্ঞান কেন্দ্রের ক্লাসরুমে ছাত্র হচ্ছেন দীপক দাশ, বাপন মল্লিকরা । ভিডিও দেখিয়ে,জৈব সার দিয়ে বাস্তবে ফসল ফলিয়ে আমরা শেখাচ্ছি কৃষকদের। উৎসাহ নিয়ে শিখছেন ওরা’, বলেন প্রবীর গড়াই।

image


নীমপীঠের কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের এই পাঠশালার কথা ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামেও। তাই শুধুই দক্ষিণ ২৪ পরগনা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা আসছেন নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে। ১ বছরের অন্তত ১০০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তাঁরা, জানালেন প্রবীর গড়াই। সংখ্যাটা অবশ্য খুব বেশি নয়। তবে উদ্যোগে সাড়া মিলছে বলেই জানাচ্ছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। ফলে আশা বাড়ছে। বছর বছর জৈবচাষের পাঠ নিতে আসা কৃষকদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করেন প্রবীরবাবুরা।

Add to
Shares
14
Comments
Share This
Add to
Shares
14
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags