সংস্করণ
Bangla

রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নয়া ঘরানার ছোঁয়া

15th Dec 2015
Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share

খাদ্য ও পাণীয় শিল্পে বিস্তর অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করে ২০১০ সালে সন্দীপ শ্রীনিভ নায়েক ও তাসভিন মুকাতিরা জুটি জন্ম দেয় ‘হলি কাউ হসপিটালিটি’র। ‌যে সংস্থার হাতে এখন বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই মিলিয়ে রেস্তোরাঁর সংখ্যা পাঁচ। ‘প্ল্যান বি’, ‘মাদার চাকারর্স বার’ ও ‘ওয়ান নাইট ইন ব্যংকক’, এই তিন নামে পাঁচটি রেস্তোরাঁই এখন রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। ২০১৬-র ডিসেম্বরের মধ্যে হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দেশের অন্যান্য প্রথমসারির শহরে আরও পাঁচটি রেস্তোরাঁ চালু করার লক্ষ্য স্থির করেছেন এই দুই তরুণ উদ্যোগপতি।

image


সন্দীপের ব্যবসা জীবন শুরু কয়েকটি চিনা রেস্তোরাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি চালানোর মধ্যে দিয়ে। অন্যদিকে তাসভিন কাজ করতেন আমেরিকার একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম তৈরির সংস্থায়। সন্দীপের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা চালান কোনও আকর্ষনীয় কাজ ছিল না। তিনি চাইছিলেন নিজে কিছু শুরু করতে। যেখানে তিনি একাই সবকিছু সামলাবেন।

image


বেঙ্গালুরুর ক্যাসল স্ট্রিট। এখানেই ২০১০ সালে সন্দীপ ও তাসভিন শুরু করেন তাঁদের প্রথম রেস্তোরাঁ ‘প্ল্যান বি’। ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জায়গায় ৫৮ জনের বসার বন্দোবস্ত। এই নিয়ে পথচলা শুরু করে প্ল্যান বি। তবে নেহাতই সাধারণ রেস্তোরাঁর বাইরে গিয়ে প্ল্যান বি তৈরি হয় আমেরিকান পাবের আদলে। যেখানে খাবারের বিশষত্বও হয়ে ওঠে পাব ফুড। যেমন, চিকেন উইংগস, স্মোকড রিবস, নাচোস বা স্টিকস। রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা করা হয় একটি গুদামের আদলে। সেখানে দেওয়াল থেকে বেরিয়ে আছে ক্ষয়ে যাওয়া ইট বা সিলিংয়ে ঝুলছে তারের জাল। এমন এক নতুন ধরণের রেস্তোরাঁ আগে দেখেনি বেঙ্গালুরু। সেইসঙ্গে দুর্দান্ত খাবার আর তার সঙ্গে পছন্দের বিয়ার বা ককটেল। আর কী চাই! গোটা বেঙ্গালুরুকে পাগল করতে দেরি হয়নি প্ল্যান বি-র।

image


প্রথম প্ল্যান বির দুরন্ত সাফল্যের কাঁধে ভর করে সন্দীপ-তাসভিন জুটি বেঙ্গালুরুর রিচমন্ড টাউনে ২০১২ সালে শুরু করেন তাঁদের দ্বিতীয় প্ল্যান বি। সন্দীপের দাবি, প্ল্যান বিতে ভাল পরিমাণ খাবার সার্ভ করা হয়। সঙ্গে থাকে ষথেচ্ছ ককটেলের ব্যবস্থা। খাবারে মাংস আর চিজের মাত্রাও থাকে যথেষ্ট। ফলে গ্রাহকদের কোনও অভিযোগ থাকে না। বরং তাঁরাই অন্যদের কাছে প্ল্যান বির সুনাম করেন। ফলে অন্যরাও হাজির হন এখানে। ছড়িয়ে পড়ে জনপ্রিয়তা।

২০১৩ তে প্ল্যান বির পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর ইন্দিরানগরে সন্দীপরা শুরু করেন ‘মাদার চাকারর্স বার’ নামে তাঁদের তৃতীয় রেস্তোরাঁ। মার্কিন ধারণাকে সঙ্গী করে এই ‘নেইবারহুড বার’ আত্মপ্রকাশেই হিট। রীতিমত চর্চার বিষয় হেয় ওঠে এখানকার নানা ধরণের বার ফুডের সম্ভার।

২০১৫ সালে চেন্নাইতে জন্ম নেয় তৃতীয় প্ল্যান বি রেস্তোরাঁ। প্ল্যান বির পাশাপাশি গত অগাস্ট মাসে বেঙ্গালুরুতে আরও একটি রেস্তোরার জন্ম দেন সন্দীপরা। ‘ওয়ান নাইট ইন ব্যংকক’ নামে এই রেস্তোরাঁর বিশেষত্ব হল এখানকার জিবে জল আনা থাই ফিঙ্গার ফুড। সেইসঙ্গে থাই সুরার বৈচিত্র নতুন এই রেস্তোরাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। সন্দীপের দাবি, থাই সুরার সঙ্গে থাই ফিঙ্গার ফুড এক অমোঘ মেলবন্ধনেরই অন্য নাম।

image


এত কম সময়ে তাঁদের রেস্তোরাঁর এমন বিপুল সাফল্য তাঁর কাছে একটা বিস্ময় বলে জানালেন তাসভিন। প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল তাঁরা একটা রেস্তোরাঁ খুলবেন। অনেকটা আমেরিকান পাবের মত। যেখানে বিভিন্ন ধরণের বিয়ার ও পাব ফুড পাওয়া ‌যাবে। পরে সেই পরিকল্পনা বদলে রেস্তোরাঁয় প্রচুর খাবার ও নানা ধরণের সুরা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এতকিছু করেও প্রথম ছ’মাসে তেমন কোনও সাফল্যের মুখ দেখেননি সন্দীপ-তাসভিন জুটি। অথচ এই নতুন উদ্যোগ শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ৮০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ মুখের কথা ছিল না।

বেশিদিন খরার মুখ দেখতে হয়নি তাঁদের। চাকা একবার ঘুরতে শুরু করার পর তাঁদের আর পিছনে ফেরার অবকাশ ছিল না। পাঁচ বছরের মধ্যে বেঙ্গালুরুতে চারটি ও চেন্নাইতে একটি রেস্তোরাঁ। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে কর্মচারির সংখ্যা ২০০। গত আর্থিকবর্ষে হলি কাউ হসপিটালিটি সংস্থার আয়ের অঙ্ক ছিল ১০ কোটি। ‌চলতি আর্থিক বছরে সন্দীপদের লক্ষ্য এই সংখ্যাকে দ্বিগুণ করে ২০ কোটিতে দাঁড় করানো। তবে রোস্তোরাঁ ব্যবসাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ফ্রাঞ্চাইজি মডেলে বিশ্বাসী নন সন্দীপ। রেস্তোরাঁ যদি খুলতেই হয় তাহলে তা নিজেদের মালিকানায় খুলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস এভাবেই একদিন দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়বে তাঁদের এই নয়া ঘরানার রেস্তোরাঁ ব্যবসা।

Add to
Shares
5
Comments
Share This
Add to
Shares
5
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags