সংস্করণ
Bangla

মালদহে আর সুন্দরবনে বিপদে আপদে ‘নৌকা অ্যাম্বুলেন্স’

21st Dec 2015
Add to
Shares
12
Comments
Share This
Add to
Shares
12
Comments
Share

শুধুমাত্র সময়মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় রাজ্যের গ্রামগুলিতে কত লোকের যে প্রাণ যায় তার ইয়েত্তা নেই। যতই দেশের তথ্যপ্রযুক্তির তুফান এক্সপ্রেস ছুটুক, গর্বে বুক ফুলে উঠুক, এখনও অনেক গ্রাম আছে যেখানে গরুর গাড়ি ছাড়া রোগী হাসপাতালে নেওয়ার উপায় নেই। নদীর চর বা দ্বীপ এলাকা হলে তো সে সম্ভাবনাও জলে। 

image


ফলে নৌকো বা লঞ্চই ভরসা। বিপদে-আপদে নৌকা বা লঞ্চ যে পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। পেলেও হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রোগীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেন না কত মানুষ। পথেই প্রাণ হারান। নদীর চর আর দ্বীপের মানুষের এই অসহায়তার কথা ভেবে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।চালু হচ্ছে নৌকো অ্যাম্বুলেন্স। আজ্ঞে হ্যাঁ হাঁক পাড়লেই নৌকো হাজির। নিয়ে যাবে হাসপাতাল।

মালদহের মানিকচক,রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের গঙ্গা ও ফুলহার নদী সংলগ্নচর ও দ্বীপ এলাকায় প্রায় এক লক্ষ মানুষের বাস। সাপেকাটা থেকে গর্ভবতী মহিলা সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রোগীর আত্মীয়দের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীর মৃত্যুও এড়ানো যায় না। এইসব বিষয়কে মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ।

মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুটি ব্লকে আপাতত এই নৌকা অ্যাম্বুলেন্স চালু হচ্ছে। ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত নদীর চর এলাকায় বসবাসকারী রোগীদের নিকটবর্তী হাসপাতাল অথবা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় এই নৌকা অ্যাম্বুলেন্স আপৎকালীন চিকিৎসা পরিষেবা দেবে। ইতিমধ্যে মালদহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে নৌকা অ্যাম্বুলেন্স চালুর নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে জেলার গঙ্গা ও ফুলহার নদীর চর ও দ্বীপ এলাকার বাসিন্দারা।

‘মানিকচকে গঙ্গার মাঝখানে ভূতনি দ্বীপ আর রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের ফুলহার নদীর মহানন্দাটোলার চর এলাকায় মানুষের জরুরিকালীন চিকিৎসা পরিষেবা দিতেই আপাতত এই নৌকা অ্যম্বুলেন্স চালু করা হচ্ছে। এই পরিষেবা চালু হলে চর এলাকার রোগীদের সমস্যা অনেকটাই কমবে,' বলছিলেন জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা বলছেন, মানিকচক, রতুয়া পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও গোসাবা ব্লকেও নৌকা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হতে চলেছে। এই নৌকা অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএসের ব্যবস্থা থাকবে। তাছাড়া, অক্সিজেন, স্যালাইন, কিছু ওষুধপত্র এবং ইনজেকশন দেওয়ার সুবিধাও পাওয়া যাবে। এক একটি অ্যাম্বুলেন্স তদারকির দায়িত্বে থাকবেন একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী। প্রত্যেকটির চালকের নাম ও মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীঘাটে একটি বোর্ডে টাঙানো থাকবে। যদি পরিষেবা পেতে দেরি হয়, তাহলে সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে নৌ-চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে পারবে রোগীর পরিবার।

মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপকুমার মণ্ডল জানান, ‘যন্ত্রচালিত নৌকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চালু করা হচ্ছে নৌকা অ্যাম্বুলেন্স। নামমাত্র ভাড়া রোগীর পরিবার থেকে নেওয়া হবে। ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত আপাতত চলবে। পরে প্রয়োজন বুঝে সময় বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবা হতে পারে’।

Add to
Shares
12
Comments
Share This
Add to
Shares
12
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags